সনিয়া গান্ধী ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার সময় তিনি তার সমন্বয় কমিটির চেয়ারপার্সন ছিলেন। ১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইতালিতে জন্ম শ্রীমতী গান্ধীর। স্কুলের পাঠ শেষ করে তিনি বিদেশি ভাষা শিক্ষার একটি স্কুলে ভর্তি হন, সেখান থেকে ইংরেজি, ফরাসি এবং রাশিয়ান ভাষা শেখেন। কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তিনি সেখানে ইংরেজি ভাষার একটি কোর্স করছিলেন। ১৯৬৮ সালে নয়াদিল্লিতে তাঁরা বিয়ে করেন। সনিয়া গান্ধীর এক ছেলে রাহুল এবং এক মেয়ে প্রিয়ঙ্কা । শ্রীমতি গান্ধীর এক নাতি এবং নাতনিও রয়েছে। বিবাহিত জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই পরিবারের দেখভালে ব্যয় করতেন তিনি। শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীর অনেক সরকারি কাজে পাশে থাকতেন সনিয়া এবং তাঁকে অনুসরণ করতেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে তাঁর স্বামী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী এবং পরে কিছু সময়ের জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা, এই সময় জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যেত না তাঁকে, তবে বেশরিভাগ সময়ই দেশ ও বিদেশে স্বামীর সফরসঙ্গী ছিলেন সনিয়া। এই সময় স্বামীর লোকসভা কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের আমেঠির দেখভাল করতেন সনিয়া গান্ধী, যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা শিবির এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে।
১৯৯১ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি রাজীব গান্ধী ফাইন্ডেশনের মত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, এর সাথে সাথে রাজবী গান্ধী ইনস্টিটিউট ফর কনটেম্পোরারি স্টাডিসের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। এই সংগঠনগুলির চেয়ারপার্সন হিসাবে নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রেখেছেন তিনি এবং স্বামীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তিনি আরও একাধিক এনজিও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
১৯৯৮এর লোকসভা নির্বাচনের কিছু সময় আগে , কংগ্রেস পার্টির নেতা কর্মীদের অনুরোধে দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি জনসমক্ষে আসেন। দলের হয়ে জোরদার প্রচার কাজ চালান এবং ১৯৯৮ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পার্টির সভাপতি হন।
১৯৯৯ সালে জীবনে প্রথমবার আমেঠি লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন শ্রীমতী গান্ধী, এরপর তিনি লোকসভায় বিরোধী দলনেত্রীর আসনে বসেন।২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে, তিনি দলের হয়ে প্রচার কার্যে নেতৃত্ব দেন এবং কংগ্রেস অন্যান্য দলগুলির তুলনায় সর্বাধিক আসন জেতে।এরফলে কংগ্রেস কেন্দ্রে জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হয় (ইউপিএ)। এই নির্বাচেন তিনি উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলি কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বসম্মত ভাবে সংসদে দলের নেত্রী নির্বাচিত করা হয়, এবং সবাই প্রত্যাশা করছিলেন তিনিই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এবার শপথ নেবেন। তবে তিনি এই পদ প্রত্যাখ্যান করেন এবং ডক্টর মনমোহন সিং-কে জোট সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করেন। ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের চেয়ারপার্সন হওয়ার পাশাপাশি তিনি সংসদে কংগ্রেস পার্টির নেত্রী ছিলেন।
২০০৬ সালের মে মাস পর্যন্ত তিনি জাতীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের (এনএসি) চেয়ারপার্সন ছিলেন, সামাজিক – অর্থনৈতিক গুরুত্বের ক্ষেত্রে সরকারকে সময়মত সুপারিশ করে এই ফোরাম। এনএসি-র সুপারিশের পর যে উদ্যোগগুলি ঘটেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম, তথ্য অধিকার আইন, জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশন, মিড-ডে মিল প্রকল্প, জওহরলাল নেহেরু নগর পুনর্নবীকরণ মিশন এবং জাতীয় পুনর্বাসন নীতি।
| পুরো নাম | সনিয়া গান্ধী |
| জন্ম-তারিখ | 09 Dec 1946 (বয়স 79) |
| জন্মস্থান | ভিসেনজা, ইতালি |
| রাজনৈতিক দলের নাম | Indian National Congress |
| শিক্ষা | Others |
| পেশা | রাজনীতিবিদ |
| পিতৃ পরিচয় | স্টেফানো মাইনো |
| মাতৃ পরিচয় | পাওলা মাইনো |
| জীবনসঙ্গীর নাম | প্রয়াত শ্রী রাজীব গান্ধী |
| জীবনসঙ্গীর পেশা | প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী |
| সন্তান | 1 পুত্র 1 কন্যা |
| ধর্ম | হিন্দু |
Disclaimer:The information provided on this page is sourced from various publicly available platforms including https://en.wikipedia.org/, https://sansad.in/ls, https://sansad.in/rs, https://pib.gov.in/, https://affidavit.eci.gov.in/ and the official websites of state assemblies respectively. While we make every effort to maintain the accuracy, comprehensiveness and timeliness of the information provided, we cannot guarantee the absolute accuracy or reliability of the content. The data presented here has been compiled without consideration of the objectives or opinions of individuals who may access it.