প্রয়াত শ্রী যমুন পাসওয়ান ও সিয়া দেবীর সন্তান রামবিলাস পাসোয়ানের জন্ম দলিত পরিবারে। বিহারের খাগরিয়া জেলার শাহারবাণী গ্রামের ভূমিপুত্র তিনি। পাসোয়ান কোসি কলেজ, পিলখী ও পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আইনে স্নাতক ও কলা বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বিয়ে করেন রাজকুমারী দেবীকে। ২০১৪-র লোকসভায় মনোনয়নপত্র চ্যালেঞ্জের সময় পাসোয়ান জানান, ১৯৮১-তে রাজকুমারী দেবীকে ডিভোর্স করেছেন তিনি। তাঁর প্রথম পক্ষের দুই মেয়ে উষা ও আশা। ১৯৮৩-তে তিনি বিয়ে করেন অমৃতসরের পাঞ্জাবি হিন্দু বিমানসেবিকা রিনা শর্মাকে। তাঁদের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে চিরাগ পাসোয়ান একজন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ।
উপভোক্তা বিষয়ক দফতর, খাদ্য ও বন্টন বিভাগের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাসোয়ানের উত্থান বিহার থেকে। বিহারের সংযুক্ত সমাজতান্ত্রিক পার্টির সদস্য হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৬৯-এ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪-এ লোকসভা গঠনের পর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সময়ে জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করলে গ্রেফতার করা হয় শ্রী পাসোয়ানকে।
এরপর শুরু দ্বিতীয় অধ্যায়। ১৯৭৭ সালে রামবিলাস হাজীপুর পুরসভার জনতা পার্টির সদস্য হিসেবে যোগ দেন লোকসভায়। ১৯৮০, ১৯৮৯, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০৪ এবং ২০১৪-র নির্বাচনে পরপর আটবার জনতা পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন। এভাবেই রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ টানা আটবার লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০০ সালে তিনি গঠন করেন এলজেপি পার্টি। চার বছর পর অর্থাত ২০০৪-এ ততকালীন ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স সরকারের সঙ্গে গাটছড়া বাঁধেন। কেমিক্যালস সার্টিফিকেশন অ্যান্ড স্টিল মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অঘটন ঘটে ২০০৯-এ। ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হন পাসোয়ান।
তৃতীয় অধ্যায়ের শুরুতে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন রামবিলাস। পালাবদল ঘটে ২০১৪-য়। ওই বছর সাধারণ নির্বাচনে হাজীপুর কেন্দ্র থেকে ১৬ তম লোকসভা নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন তিনি। যদিও এর আগে পাসোয়ান ১৯৬৯ সালে সংযুক্ত সমাজবাদী দল বা ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির সংরক্ষিত আসন থেকে বিহার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৪-এ রাজ নারায়ণ এবং জয়প্রকাশ নারায়ণ পাসোয়ানের দেখানো পথ অনুসরণ করে লোকসভায় সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন হন। সেই সময় পাসোয়ান রাজ নারায়ণ, করপুরি ঠাকুর ও সত্যেন্দ্র নারায়ণ সিংহের মতো প্রভাবশালী নেতাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এছাড়াও, মোরারজি দেশাইয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে রাজ নারায়ণের নেতৃত্বে জনতা পার্টি-এস-তে যোগ দেন এবং সভাপতি হিসাবে নেতৃত্ব দেন দলকে। ১৯৭৫-এ দেশে জরুরী অবস্থার বিরোধিতা করায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়ার পর পাসোয়ান জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে প্রথমবার দলের টিকিটে সাংসদ হিসেবে সর্বোচ্চ ভোটে জয়লাভ করে বিশ্ব রেকর্ড করেন। ১৯৮০ এবং ১৯৮৪ সালে ফের হাজীপুর থেকে সপ্তম লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত হন। তার আগে ১৯৮৩-তে দলিতদের কল্যাণে সংগঠিত দলিত সেনা দল প্রতিষ্ঠা করেন রামবিলাস। এরপর পাসোয়ান ১৯৮৯-এ নবম জাতীয় সংসদে পুনরায় জিতে ততকালীন প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং গঠিত সরকারে শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
সাল ১৯৯৬। বছরটা ভীষণ তাতপর্যপূর্ণ রামবিলাসের কাছে। তখনও রামবিলাস সংসদ সদস্য। এই সময়েই লোকসভাতে ক্ষমতাসীন জোটের প্রস্তাব জানান তিনি। পাশাপাশি, ওই বছরেই প্রথমবার রেলমন্ত্রী হন। ১৯৯৮ পর্যন্ত টানা দু’বছর তিনি মন্ত্রীত্ব ধরে রেখেছিলেন। ২০০১-এর অক্টোবর থেকে ২০০২-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রীত্ব হস্তান্তরিত হওয়ার পরেই পাসোয়ান জনতা দল থেকে বেরিয়ে এসে গড়ে তোলেন নতুন দল এলজেপি পার্টি। ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর পাসোয়ান যোগ দেন সংযুক্ত প্রগ্রেসিভ জোট সরকারে। সাল ১৯৯৬। বছরটা ভীষণ তাতপর্যপূর্ণ রামবিলাসের কাছে। তখনও রামবিলাস সংসদ সদস্য। এই সময়েই লোকসভাতে ক্ষমতাসীন জোটের প্রস্তাব জানান তিনি। পাশাপাশি, ওই বছরেই প্রথমবার রেলমন্ত্রী হন। ১৯৯৮ পর্যন্ত টানা দু’বছর তিনি মন্ত্রীত্ব ধরে রেখেছিলেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০১-এর সেপ্টেম্বর তাঁকে রেলমন্ত্রক থেকে সরিয়ে কয়লা মন্ত্রী করা হয়। যা তিনি ধরে রেখেছিলেন ২০০২ সাল পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন। ২০০০ সালে মন্ত্রী থাকা অবস্থাতেই পাসোয়ান জনতা দল ভেঙে বেরিয়ে এসে গড়ে তোলেন নতুন দল লোক জনশক্তি পার্টি। ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পর পাসোয়ান যোগ দেন সংযুক্ত প্রগ্রেসিভ জোট সরকারে। এবং রাসায়নিক সার ও ধাতুশিল্প দফতরের মন্ত্রী হন।
২০০৬-এর ফেব্রুয়ারিতে বিহার রাজ্য নির্বাচনে পাসোয়ানের দল নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যদিও কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার নির্বাচন করতে সক্ষম হয়নি। তবে, সরকার গড়ার ক্ষেত্রে সেই সময় পাসোয়ান দুর্নীতিগ্রস্ত লালু যাদব বা এনডিএ কোনও দলকেই সমর্থন না করায় সরকার গড়ার পথে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটে যখন পাসোয়ানের ১২ সদস্যকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে চিহ্নিত করেন নীতিশকুমার। সমস্যা সমাধানে বুটা সিং এরপরেই বিধানসভা ভেঙে দিয়ে বিহারে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেন। এবং নতুন নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেন।
| পুরো নাম | রামবিলাস পাসোয়ান |
| জন্ম-তারিখ | 05 Jul 1946 |
| প্রয়াণের দিন | 08 Oct 2020 (বয়স 74) |
| জন্মস্থান | শাহারবাণী, জেলা-খাগরিয়া (বিহার) |
| রাজনৈতিক দলের নাম | Ljnsp |
| শিক্ষা | Post Graduate |
| পেশা | সমাজসেবী |
| পিতৃ পরিচয় | প্রয়াত যমুন পাসোয়ান |
| মাতৃ পরিচয় | প্রয়াত শ্রীমতি সিয়া দেবী |
| জীবনসঙ্গীর নাম | শ্রীমতি রিনা পাসোয়ান |
| জীবনসঙ্গীর পেশা | সমাজসেবী |
| সন্তান | 1 পুত্র 3 কন্যা |
| ওয়েবসাইট | ljp.co.in |
Disclaimer:The information provided on this page is sourced from various publicly available platforms including https://en.wikipedia.org/, https://sansad.in/ls, https://sansad.in/rs, https://pib.gov.in/, https://affidavit.eci.gov.in/ and the official websites of state assemblies respectively. While we make every effort to maintain the accuracy, comprehensiveness and timeliness of the information provided, we cannot guarantee the absolute accuracy or reliability of the content. The data presented here has been compiled without consideration of the objectives or opinions of individuals who may access it.