• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: কোচবিহারে সব দলই নামিয়েছে দলছুটদের; কে হাসবে শেষ হাসি?

  • By Shubham Ghosh
  • |

অবশেষে পড়ল এপ্রিল মাস। আর দশ দিন পরেই শুরু হয়ে যাবে ২০১৯-এর বহু প্রতীক্ষিত লোকসভা নির্বাচন। সারাদেশের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও পড়বে ভোটের ঢাকে কাঠি। এবারের নির্বাচনের সাতটি দফার প্রত্যেকটিতেই ভোটগ্রহণ হবে পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যের শাসকদল এই দীর্ঘায়িত নির্বাচন নিয়ে আপত্তি তুললেও প্রত্যেক নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান নির্বাচনী সময়কাল চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় রাজ্য রাজনীতির হাল হকিকত।

নির্বাচনের প্রথম দফা, অর্থাৎ ১১ এপ্রিল, পশ্চিবঙ্গের দু'টি কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে -- উত্তরবঙ্গের কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার। সংরক্ষিত দু'টি আসনেই ২০১৪ সালে জয়ী হয়েছে তৃণমূল এবং দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে বাম। এবারের লড়াইয়ে অবশ্য প্রধান দুই প্রতিপক্ষ হিসেবে তৃণমূল এবং বিজেপিকেই ধরা হচ্ছে ।

আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কোচবিহার কেন্দ্রের লড়াইয়ের চিত্রটি।

কোচবিহার কেন্দ্র বরাবরই বাম অধ্যুষিত বা আরও গুছিয়ে বললে, ফরওয়ার্ড ব্লকের শক্ত ঘাঁটি। অঞ্চলের এক সময়কার প্রভাবশালী নেতা কমল গুহের স্মৃতি আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে। যদিও তার পুত্র উদয়ন গুহ বেশ কিছু বছর আগেই তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় তার পিতার স্মৃতি-প্রভাব এখন অনেকটাই দ্বিখণ্ডিত। তবে তাতে যুযুধান পক্ষরা হার মানতে নারাজ। বরং, রাজ্যের প্রধান দুই প্রতিপক্ষ -- তৃণমূল এবং বাম -- দুই পক্ষের কাছেই এখন বড় চিন্তা বিজেপিকে ঠেকানো।

২০১৬ সালের রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে পদ্মবাহিনী উত্তরবঙ্গের অনেক আসনেই জিতলে না পারলেও খারাপ ফল করেনি। কোচবিহার জেলার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রেই তারা তৃতীয় স্থান দখল করতে সফল হয় যার ফলে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারী তৃণমূল এবং বামেদের ভ্রুকুঞ্চিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তার উপরে হতে হতেও বাম এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাচনী জোট ভেস্তে যাওয়াতে শাসক দল এবং বাম বিজেপির সম্ভাব্য উত্থানের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন।

বিজেপির হয়ে লড়ছেন নিশীথ প্রামাণিক

বিজেপির হয়ে লড়ছেন নিশীথ প্রামাণিক

এবারের কোচবিহার কেন্দ্রের লড়াইয়ের মজার ব্যাপার হল -- প্রধান দলগুলি সবাই দলছুটদের নিয়ে ময়দানে নেমেছে, লক্ষ্য প্রতিপক্ষের তীরেই তাদের ঘায়েল করা। বিজেপি এবারে টিকিট দিয়েছে নিশীথ প্রামাণিককে। তেত্রিশ বছরের নিশীথ অতীতে শাসক দলের হয়ে কাজ করতেন তা তিনি নিজের মুখেই জানিয়েছেন। এমনকি, প্রাক্তন দল তাকে অঞ্চলে বিজেপির প্রস্তাবিত রথযাত্রা বানচাল করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং তিনি তা সফলভাবে করতে পারেননি বলে যে দলের সঙ্গে তার বিরোধ লাগে, সেকথাও নিশীথ অকপটে স্বীকার করেছেন।

নিশীথের নামে নয় নয় করে এগারোটি মামলা ঝুলছে কিন্তু ফ্যাশন ডিজাইনিং-এর এই প্রাক্তন ছাত্রের মতে, যে মুহূর্তে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তার সমস্ত পাপ ধুয়ে গিয়েছে। একটি সংবাদ সূত্রের মতে, নিশীথ বিজেপিকে পবিত্র গঙ্গার সঙ্গেও তুলনা করেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী নিশীথের এখন লক্ষ্য একটাই, কোচবিহারে প্রথম পদ্মফুলটি ফোটানো।

তৃণমূলের পক্ষে রয়েছেন পরেশচন্দ্র অধিকারী

তৃণমূলের পক্ষে রয়েছেন পরেশচন্দ্র অধিকারী

এবার আসা যাক নিশীথের প্রতিপক্ষের আলোচনায়। তৃণমূল বুঝি বা একটু বেশিই সাবধানী এবার কোচবিহার নিয়ে। নয়তো, গতবারের বিজয়ী রেণুকা সিংহ প্রয়াত হওয়ার পরে ২০১৬ সালে যে পার্থপ্রতিম রায় উপনির্বাচনে তৃণমূলকে আরও বড় ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন, তাঁকে সরিয়ে এবারে প্রার্থী করা হয়েছে অভিজ্ঞ নেতা পরেশচন্দ্র অধিকারীকে।

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ আসন থেকে তিনবারের বিধায়ক এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশচন্দ্র গত অগাস্টে তৃণমূলে যোগ দেন এবং দলের নেতৃত্ব ঠিক করে উদয়ন গুহর সঙ্গে পরেশচন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হবে উত্তরবঙ্গে শাসকদলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে। ফরওয়ার্ড ব্লকের পুরোনো ঘাঁটিতে (তারা এখানে থেকে ১৫টি সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে জেতে ১২ বার) মমতা কি তাদের হারানো ছোঁয়াতেই ফের বাজিমাত করতে চাইছেন? পাশাপাশি, তৃণমূল বিজেপি প্রার্থী নিশীথের নামে থাকা মামলার কারণে তার গ্রেফতারিও দাবি করেছে প্রতিপক্ষের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্যে।

[আরও পড়ুন:লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: একদা বাম ঘাঁটি আলিপুরদুয়ারে এবারে তৃণমূল-বিজেপি সমর]

বাম প্রতিনিধি গোবিন্দ রায়

বাম প্রতিনিধি গোবিন্দ রায়

এরপর আছে বামফ্রন্ট। রাজ্যের একদা অধীশ্বরদের আজকের দুরবস্থার কথা নতুন করে কিছু বলার নেই। বামেরা যাঁকে দাঁড় করিয়েছে এবারে কোচবিহার থেকে, সেই ফরওয়ার্ড ব্লকের গোবিন্দ রায়ও বিতর্কিত কম নন। প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ এক সময়ে আলুবীজ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হন যদিও এখন তিনি সেসবকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। উল্টে আক্রমণ করেছেন তার একসময়ের সহযোগী পরেশচন্দ্রকেও। আশা রাখছেন ভোটাররা তৃণমূল বা বিজেপি কাউকেই জয়ী দেখতে চাইবেন না।

গোবিন্দ একসময়ে কমল গুহর নতুন দল সমাজতান্ত্রিক ফরওয়ার্ড ব্লকেও যোগ দেন এবং ১৯৯৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। পরে সেই নতুন দল ফরওয়ার্ড ব্লকে মিশে গেলে তিনিও ফিরে আসেন। এখন দেখার, এই বর্ষীয়ান নেতা কতটা বেগ দিতে পারেন তাঁর প্রধান দুই প্রতিপক্ষ নিশীথ এবং পরেশচন্দ্রকে। আগেরবার ফরোর্য়াড ব্লক প্রার্থী দীপক কুমার রায় প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন (জয়ী তৃণমূল পেয়েছিল ৩৯.৫০ শতাংশ)। গোবিন্দ কি পারবেন সেটুকুও ধরে রাখতে?

[আরও পড়ুন:বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্র সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য]

কংগ্রেস কোচবিহারে দাঁড় করিয়েছে প্রিয়া রায়চৌধুরীকে

কংগ্রেস কোচবিহারে দাঁড় করিয়েছে প্রিয়া রায়চৌধুরীকে

কংগ্রেস কোচবিহার থেকে দাঁড়ি করিয়েছে প্রিয়া রায়চৌধুরীকে। রাজনীতিতে অখ্যাত প্রিয়াকে সম্প্রতি মালদাতে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীর জনসভায় তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে এবং মঞ্চে বাকি দলনেতা-প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেলেও তখন ঘিরে নির্বাচনী প্রচারে সেরকম আগ্রহ তৈরী হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

কংগ্রেস অতীতে দু'বার এই কেন্দ্র থেকে জিতলেও (১৯৫৭ এবং ১৯৭১) আর সেভাবে ভালো ফল করতে পারেনি। গতবার তাদের প্রার্থী কেশবচন্দ্র রায় মাত্র ৫.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন (বিজেপিও সেখানে পায় ১৬.৩৩ শতাংশ)। বামেদের সঙ্গে জোট ভেস্তে যাওয়ার পরে কংগ্রেসের অখ্যাত প্রার্থী কতটা কী করতে পারেন তা জানা যাবে আগামী ২৩ মে।

কোচবিহারে মোট ১১ জন প্রার্থী লড়ছেন এই নির্বাচনে তবে সমস্ত আগ্রহ এখন একটাই প্রশ্নকে ঘিরে -- তৃণমূল না বিজেপি?

[আরও পড়ুন:লোকসভার লক্ষ্যে একনজরে বোলপুর! সিপিএম থেকে তৃণমূলে]

lok-sabha-home
English summary
Lok sabha election 2019 cooch Behar constituency know candidates tmc bjp left congress
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more