• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: একসময়ের শক্ত বাম ঘাঁটি আলিপুরদুয়ারে এবারে তৃণমূল-বিজেপি লড়াই

  • By Shubham Ghosh
  • |

আগামী ১১ এপ্রিল শুরু হতে চলেছে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচন। ওই দিন পশ্চিমবঙ্গ-সহ সারা দেশের মোট ৯১টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। প্রথম দফায় অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের মাত্র দু'টি কেন্দ্রেই ভোট হবে -- কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার। সংরক্ষিত দু'টি কেন্দ্রেই ২০১৪ সালে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করে, প্রথমবারের জন্যে। কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার -- দু'টি কেন্দ্রেই একসময়ে বামশক্তি দাপিয়ে বেরিয়েছে। কিন্তু গতবার তৃণমূল ফরওয়ার্ড ব্লকের হাত থেকে কোচবিহার এবং রেভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি বা আরএসপি-কে হারিয়ে আলিপুরদুয়ার দখল করে।

তবে এবারে, বামেদের জায়গায় তৃণমূলের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন বিজেপিকে। গেরুয়াবাহিনী কি পারবে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলকে বেগ দিতে?

কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার -- এই দুই কেন্দ্রেই ২০১৪ সালে বিজেপি তৃতীয় স্থান পেয়েছিল। কোচবিহারে ২০১৬ সালে হওয়া উপনির্বাচনে তো বামেদের সরিয়ে বিজেপি উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে।

আর আলিপুরদুয়ারে ২০১৪তেই বিজেপি বামেদের প্রায় ধরে ফেলেছিল। কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ মনোহর তির্কের থেকে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার মতো ভোটে পিছিয়ে ছিলেন বিজেপির প্রার্থী বীরেন্দ্র ওরাওঁ; তৃণমূলের থেকেও যে প্রচুর পিছিয়ে ছিলেন তা বলা যাবে না। এবারে কি তাহলে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রটি জেতার আশা রয়েছে বিজেপির?

পরিস্থিতি যে বিজেপির খুব প্রতিকূল নয়, তা বলা অত্যুক্তি হবে না। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাট কেন্দ্র দখল করে বিজেপি; কালচিনিতে দ্বিতীয় স্থান পায়। এবারে গেরুয়া দলের আদিবাসী প্রার্থী জন বার্লার সমর্থনে আলিপুরদুয়ারে সভা করে গিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ স্বয়ং। বিজেপি কি তবে আশাবাদী?

তৃণমূল ফের ভরসা রেখেছে প্রাক্তন আরএসপি নেতা দশরথ তির্কের উপরে

তৃণমূল ফের ভরসা রেখেছে প্রাক্তন আরএসপি নেতা দশরথ তির্কের উপরে

কোচবিহারে প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশচন্দ্র অধিকারীর মতো আলিপুরদুয়ারেও তৃণমূল এবারে ভরসা করেছে প্রাক্তন আরএসপি বিধায়ক দশরথ তির্কের উপরে। তির্কে গতবার তার আগেরবারের সাংসদ মনোহর তির্কেকে ২১,০০০-এর বেশি ভোটে হারান। আর তাঁদের ঠিক পিছনেই ছিলেন বিজেপি প্রার্থী ওরাওঁ।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পালাবদলের পরেও আলিপুরদুয়ারে বামেদের প্রভাব ছিল যথেষ্ট এবং তৃণমূল স্তরে তাঁরা তাঁদের লিড মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীত্বকালেও রাখতে সক্ষম হয়েছে ওই অঞ্চলে।

[আরও পড়ুন:লোকসভা নির্বাচন ২০১৯: কোচবিহারে সব দলই খেলাচ্ছে দলছুটদের; কে হাসবে শেষ হাসি?]

বিজেপি আগের নির্বাচনগুলিতে ভালো করলেও এবারে তারা প্রচুর সময় নষ্ট করেছে

বিজেপি আগের নির্বাচনগুলিতে ভালো করলেও এবারে তারা প্রচুর সময় নষ্ট করেছে

তবে, ২০১৪ সালে দশরথকে আলিপুরদুয়ারে দাঁড় করিয়ে বাজিমাত করার পর তৃণমূলকে আর বিশেষ বেগ পেতে হয়নি। এবারেও শাসকদল আশা করছে একই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হবে।

বিজেপির পক্ষে একটি হাওয়া থাকলেও সেই হাওয়াকে ভোটবাক্সে প্রতিফলিত করার মতো সাংগঠনিক তৎপরতা গেরুয়াবাহিনী এখনও দেখিয়ে উঠতে পারেনি। প্রার্থী চয়ন করতেই বিজেপি এত সময় লাগিয়ে দিয়েছে যে দলের নীচুতলার কর্মীরা বেশ নিরুৎসাহ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে বিভিন্ন সূত্রে।

আদিবাসী নেতা জন বার্লা -- যাঁর গ্রেফতারি নিয়ে গত বছর এপ্রিল মাস নাগাদ বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অখিল ভারতীয় আদিবাসী বিকাশ পরিষদের এই প্রাক্তন নেতা তাঁর গ্রেফতারির জন্যে তৃণমূলকেই দোষারোপ করেন। তফসিলি উপজাতি-সংরক্ষিত কেন্দ্র আলিপুরদুয়ারে কি বার্লা তির্কেকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবেন?

২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারের নাগরাকাটা কেন্দ্রে বার্লা বিজেপির টিকিটে লড়ে তৃতীয় হলেও ভালোই ফল করেছিলেন।

বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হবে সীমান্ত অঞ্চলে স্থিত আলিপুরদুয়ারে গোর্খা, আদিবাসী এবং হিন্দু শরণার্থীদের একজোট করা। চা-বাগানগুলির দুর্দশার কাহিনীও বিজেপি তুলে ধরে চাইবে জনসাধারণের সামনে।

[আরও পড়ুন:বাংলার ভোটযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ আসন শ্রীরামপুর, এলাকার রাজনৈতিক পরিসংখ্যান কী বলছে]

আরএসপি দাঁড় করিয়েছে মিলি ওরাওঁকে; পারবেন তিনি বামেদের বিগত দিনগুলি ফিরিয়ে আনতে?

আরএসপি দাঁড় করিয়েছে মিলি ওরাওঁকে; পারবেন তিনি বামেদের বিগত দিনগুলি ফিরিয়ে আনতে?

আরএসপি, যারা ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ১০বার এই কেন্দ্রে জিতে এসেছে, এবারে আলিপুরদুয়ারে দাঁড় করিয়েছে মিলি ওরাওঁকে। মিলি আরএসপি-র আগের দাপট ফিরিয়ে না আনতে পারলেও তৃণমূলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় কামড় বসিয়ে সুবিধে করে দিতে পারেন বিজেপিরই। প্রসঙ্গত মিলি ওঁরাই আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ মনোহর তির্কের কন্যা।

বামেরা অবশ্যই ভালো কিছু করে দেখানোর জন্য উৎসাহ দেখাতে পারতো যদি তাদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটটি যদি কার্যকর হতো। মিলি ওরাওঁ এই কিছুদিন আগেও কংগ্রেসের প্রতি অনুরোধ রাখেন যে তারা যেন বামেদের সমর্থন করে কিন্তু কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী (মোহনলাল বসুমাতা) দিয়েই ক্ষান্ত হয়। এর ফলে বিজেপি যে বেশ উৎফুল বোধ করবে, তাতে আর সন্দেহ কী?

[আরও পড়ুন২০১৯ ভোটের আগে একনজরে মেদিনীপুর লোকসভা আসনের খুঁটিনাটি]

lok-sabha-home
English summary
lok sabha elections 2019 alipurduar seat once left stronghold now trinamool bjp straight fight
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more