Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

আসরানি প্রয়াত, দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানোর কিছু পরেই মুম্বইয়ে জীবনাবসান কিংবদন্তি কমেডিয়ানের

পুরো নাম গোবর্ধন আসরানি। তবে কিংবদন্তি কমেডিয়ান হিসেবে খ্যাতি হয়েছিল আসরানি নামেই। আজ মুম্বইয়ে তাঁর জীবনাবসান হলো।

অন্ত্যেষ্টি হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের তরফে এ কথা জানানো হয়েছে। মৃত্যুকালে আসরানির বয়স হয়েছিল ৮৪। শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় সান্তাক্রুজ শ্মশানে।

আসরানির ম্যানেজার বাবুভাই থিবা এএনআইকে জানিয়েছেন, "আসরানি আজ বিকেল ৩টেয় জুহুর আরোগ্য নিধি হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। তিনি স্ত্রী, বোন এবং ভাগ্নেকে রেখে গেলেন।"

ভারতীয় সিনেমার অন্যতম প্রিয় কৌতুক অভিনেতা আসরানি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে স্নাতক হয়ে তিনি ১৯৬০-এর দশকে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং দ্রুত হিন্দি সিনেমার একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হন।

'শোলে' ছবিতে উদ্ভট জেলারের চরিত্রে তার হাস্যকর অভিনয়ের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত। আসরানির বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে কয়েকশো ছবিতে কমেডি এবং সিরিয়াস- উভয় ধরনের চরিত্রে উজ্জ্বল হতে সাহায্য করেছে।

হৃষিকেশ মুখার্জি এবং রাজ কাপুরের মতো পরিচালকদের সঙ্গে তাঁর কাজ একজন নির্ভরযোগ্য চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাঁর খ্যাতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। তাঁর ছিল এক চিরস্থায়ী আকর্ষণ এবং রসবোধ।

২০১৬ সালে আসরানি এক সাক্ষাৎকারে হিন্দুস্তান টাইমসে বলেছিলেন, "আগে আমাদের কমেডির দুটি স্কুল ছিল - বিমল রায় স্কুল (যা বাস্তবসম্মত ছিল) এবং মাদ্রাজ স্কুল (যা সূক্ষ্ম ছিল)। বিমল রায় কখনও গল্পের বাইরে কমেডি রাখতেন না। মাদ্রাজের কমেডি একটি ভিন্ন ধারা ছিল, কিন্তু কখনও অশ্লীল ছিল না। এখন এটি ভয়ানক পর্যায়ে নেমে এসেছে। এখন তো ভীষণ অশ্লীল হয়ে গিয়েছে, শুধু কাপড় খোলার দেরি।"

আসরানির শেষ বলিউড ছবি 'মাস্তিজাদে' ছিল একটি প্রাপ্তবয়স্ক কমেডি, যেখানে তিনি অভিনেত্রী সানি লিওনের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আসরানি বলেছিলেন, "আমাকে মাস্তিজাদেতে কাজ করতে হয়েছিল, আমি লজ্জিত বোধ করেছিলাম।"

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শত শত সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন গোবর্ধন আসরানি। তাঁর অনবদ্য কমিক টাইমিং এবং স্বতন্ত্র শৈলী মুগ্ধ করেছিল সকল স্তরের দর্শকদের। 'শোলে' ছবিতে জেলারের ভূমিকা থেকে শুরু করে 'চুপকে চুপকে', 'আ আব লৌট চলে' এবং 'হেরা ফেরি'-র মতো চলচ্চিত্রগুলিতে তাঁর অভিনয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে।

আজ হিন্দি সিনেমা এমন একজন অভিনেতাকে হারালো যিনি হাসি এবং অভিনয় উভয় দিয়েই দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। বলিউড ফিল্ম 'শোলে' ছাড়াও আসরানি সুপারস্টার রাজেশ খান্নার সঙ্গে ১৯৭২ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে ২৫টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন। 'চুপকে চুপকে', 'ছোটি সি বাত' এবং 'রাফু চক্কর'-এর মতো কমেডিতে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত পরিবেশনা তাঁকে সেরা কৌতুক অভিনেতার জন্য দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার-সহ একাধিক পুরস্কার এনে দিয়েছে। আসরানির পাঁচ দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনটি ছিল তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ। যেখানে তিনি ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকে তার কর্মজীবনের শিখর ছিল। যখন তিনি 'মেরে আপনে', 'কোশিশ', 'বাওয়ারচি', 'পরিচয়', 'অভিমান', 'চুপকে চুপকে', 'ছোটি সি বাত', 'রাফু চক্কর'-এর মতো আইকনিক চলচ্চিত্রগুলিতে অভিনয় করে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চরিত্র অভিনেতাদের একজন হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি কমিক টাইমিং এবং ডায়ালগ ডেলিভারিতে একজন মাস্টার হিসেবে নিজের অবস্থান মজবুত করেছিলেন। আসরানি হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন, যিনি প্রধান, সহায়ক এবং চরিত্রাভিনেতার ভূমিকায় অনায়াসে মানিয়ে নিতেন। তাণঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং নিখুঁত কমিক টাইমিং তাঁকে ভারতের অন্যতম প্রধান কৌতুক অভিনেতার মর্যাদা এনে দিয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+