রেকর্ড ছুঁল জেট ফুয়েলের দাম! ২ লক্ষ পেরোল ATF, যাত্রীদের খরচ কী বাড়বে? চাপে বিমান সংস্থা
প্রথমবারের মতো ভারতে বিমান জ্বালানি অথবা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি পার হল। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণেই এরকম বড়সড় দামবৃদ্ধি হয়েছে। যার সরাসরি প্রভাব বিমান পরিষেবায় পড়ছে।

সরকারি তথ্য অনুসারে, দিল্লিতে প্রতি কিলোলিটারে বিমান জ্বালানির দাম বেড়ে হয়েছে ২,০৭,৩৪১.২২ টাকা। আগে যে দাম ছিল প্রায় ৯৬,৬৩৮ টাকা। অর্থাৎ রেকর্ড অনুসারে, এক ধাক্কায় ১০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরেই ক্রুড অয়েলের দামও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বর্তমানে অপরিশোধিত ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০২ ডলার ও ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১০৫ ডলারের কাছাকাছি আছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ সংস্থার তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে ভারতেও। দেশে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উড়ানের জ্বালানি খরচ ১০০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। কলকাতায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি কিলোলিটারে বিমান জ্বালানির দাম প্রায় ১,৭২৭ ডলার ছুঁয়েছে, যা দেশের মধ্যে অন্যতম বেশি।
আর এরকম পরিস্থিতিতে বড় সমস্যার মধ্যে পড়েছে বিমান সংস্থাগুলি। কারণ, জ্বালানির খরচই হল তাদের মোট ব্যয়ের বড় অংশ। ইতিমধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও আকাসা এয়ারের মতো সংস্থাগুলি অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে খুব তাড়াতাড়িই বিমানের টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আবার, টাকার দাম কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনেকটা জটিল হয়ে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ডলারে নির্ধারিত হওয়ার কারণে এবং দুর্বল টাকার কারণে খরচ আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে, শুধু দামই নয়, যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ার কিছু কিছু আকাশপথ বন্ধ আছে। ফলে, বিমানগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে জ্বালানি খরচও আগের থেকে আরও বেশি বাড়ছে।
এরকম পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু রাজ্যগুলিকে জেট ফুয়েলের উপর ভ্যাট (VAT) অর্থাৎ মূল্য সংযোজন কর কমানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। বর্তমানে মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে ১৮ শতাংশ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট (VAT) ধার্য রয়েছে।
জ্বালানির বাড়তি দাম, টাকার দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণেই বিমান শিল্পে চাপ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। আর আগামী দিনে এর প্রভাব যাত্রীদের পকেটেও পড়তে পারে।












Click it and Unblock the Notifications