Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

NASA-র বড় পরিকল্পনা! ৫০ বছর পর ফের চাঁদের পথে মানুষ, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই নতুন মিশন? জানুন

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদের পথে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত নাসা। চারজন মহাকাশচারীকে আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশনের মাধ্যমে চাঁদের দিকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। অ্যাপোলো মিশনের সময় মানুষ মোট ছয় বার চাঁদে অবতরণ করেছিল। সেই সময় মনে হয়েছিল যে, চাঁদ সম্পর্কে অনেকটাই জানা হয়ে গেছে। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক রহস্য এখনও অজানা রয়ে গিয়েছে।

NASA-

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস জানার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল চাঁদ। পৃথিবীতে বাতাস, বৃষ্টি এবং নানা প্রাকৃতিক কারণে পুরনো শিলাস্তর তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যায়। এর ফলে সৌরজগতের শুরুর সময়কার প্রমাণ খুবই কম পাওয়া যায়। কিন্তু চাঁদে সেই ক্ষয় প্রায় নেই বললেই চলে। সেখানে যে সমস্ত শিলাগুলি রয়েছে সেগুলোর বয়স প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রাচীন পৃথিবী-চাঁদ যুগের তথ্যগুলি ধরে রেখেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী এবং চাঁদ একে অপরের খুব কাছাকাছি হওয়ার কারণে অতীতে যেসমস্ত ঘটনা চাঁদের উপর ঘটেছে, সেই সমস্ত কিছুর প্রভাব পৃথিবীতেও পড়েছিল। তাই চাঁদের পৃষ্ঠ বিশ্লেষণ করে সেই হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলি পাওয়া সম্ভব। অ্যাপোলো মিশনগুলো মূলত চাঁদের কাছাকাছি অংশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু চাঁদের দূরবর্তী অংশগুলি এবং মেরু অঞ্চল এখনও পর্যন্ত অনেকটাই অজানা। আর নতুন মিশন এই অঞ্চলগুলো নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ তৈরি করবে।

চাঁদ দেখতে শুষ্ক এবং নির্জীব হলেও সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। যেমন টাইটানিয়াম, লোহা এবং কিছু বিরল উপাদান, যা পৃথিবীতে খুবই কম পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো ভবিষ্যতে খননের জন্য অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাছাড়াও হেলিয়ামের মতো উপাদানও সেখানে রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল জল। চাঁদের মাটির মধ্যে, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের অন্ধকার গহ্বরে বরফ আকারে জল জমে রয়েছে। আর ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য এই জল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পানীয় জল, অক্সিজেন এবং জ্বালানি তৈরি করার জন্য এই জল ব্যবহার করা যাবে।

নাসার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হল, মঙ্গল গ্রহে মানুষকে পাঠানো। কিন্তু সেই পথে অনেক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাই একটি পরীক্ষাগার হিসেবে চাঁদকে ব্যবহার করতে চাইছে তারা। আগে থেকেই এখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে নেওয়া হবে, যেমন বাতাস এবং জলের সরবরাহ, বসবাসের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মহাকাশের চরম পরিবেশে টিকে থাকার উপায়গুলি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই সমস্ত পরীক্ষাগুলো যদি সরাসরি মঙ্গলে করা হয় তাহলে ঝুঁকি অনেকটা বেশি। তাই এই সমস্ত প্রযুক্তি যাচাই করার জন্য চাঁদই হল সবথেকে নিরাপদ জায়গা।

অন্যদিকে আবার, চাঁদ নিয়ে নতুন করে প্রতিযোগিতাও শুরু হয়ে গিয়েছে। এক সময় যেমন আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল, এখন সেই জায়গায় চীন এসেছে। চীন ইতিমধ্যেই চাঁদে রোবট পাঠিয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সেখানে মানুষকে পাঠানোর পরিকল্পনাও করছে। এখন চাঁদের সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা কৌশলগত দিক থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে, চাঁদের মালিক কোনও দেশই হতে পারে না, তবে স্থায়ীভাবে কাজ চালানো সেখানে সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা নতুন নমুনা সংগ্রহের দিকেও বিশেষ ভাবে আগ্রহী। কারণ আগে যে অ্যাপোলো মিশন হয়েছিল সেই সময় আনা শিলা থেকেই জানা গিয়েছিল যে, একটি বিশাল আকাশীয় বস্তুর সাথে পৃথিবীর সংঘর্ষ হওয়ার ফলে চাঁদের সৃষ্টি হয়েছে। তাই নতুন মিশন থেকে পাওয়া তথ্যগুলিও ভবিষ্যতে আরও বড় আবিষ্কারের পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

অর্থাৎ, চাঁদে আবারও মানুষের যাত্রা শুধু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে তোলার একটি প্রচেষ্টাও বলা যেতে পারে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+