Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ডিপসিক থেকে এজেন্টিক AI, এই প্রযুক্তিগুলি ২০২৫ সালে সাড়া ফেলেছে গোটা বিশ্বে! জানুন সেই সম্পর্কে

২০২৫ সালটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ AI-এর ক্ষেত্রে একেবারে নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে। এতদিন ধরে AI মূলত গবেষণাগার অথবা কিছু নির্দিষ্ট কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই বছর AI-এর ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা সংস্থা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার একেবারে প্রথম সারিতে ঢুকে পড়েছে। শুধু লেখা অথবা ছবি বানানোতেই আর আটকে থাকেনি AI। জটিল সমস্যার সমাধান, নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং মানুষের ব্যবহৃত ডিজিটাল সিস্টেমের ভেতরে কাজ করা, সমস্ত কিছুতেই দ্রুতগতিতে চলছে AI-এর ব্যবহার। ২০২৫ দেখিয়ে দিয়েছে যে, AI ঠিক কী কী করতে পারে এবং কত দ্রুত তার প্রভাব চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

AI

এই বছরের সবথেকে বড় চমক আসে চীন থেকে। 'DeepSeek' নামের একটি সংস্থার R1 মডেল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্ব AI বাজারে বড় পরিবর্তন শুরু হয়। খুব কম খরচে এই মডেল তৈরি হয়েও তাড়াতাড়ি আন্তর্জাতিক মানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। সবচেয়ে বড় বিষয়টি ছিল, এই মডেলটি বিশ্বের যে কেউ ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারছিল। এই কারণে বাজারে বড় ধাক্কা আসে। এনভিডিয়ার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ কোটি টাকা কমে যায়। এমনকি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একে সতর্কবার্তা বলে মন্তব্য করেন। এতে বোঝা যায় যে, কম খরচে তৈরি এই AI ভবিষ্যতে বিশ্ব রাজনীতিতেও কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৫-এ এমন এক AI এসেছে, যে সহজ এবং কঠিন প্রশ্নকে আলাদা করে দেখে। কঠিন সমস্যার ক্ষেত্রে আগে ভেবে, তারপর উত্তর দেয়। এই ধরনের AI গণিতের মতো কঠিন বিষয়েও অসাধারণ কাজ করে দেখায়।

এই বছর AI নিয়ে বিনিয়োগও আকাশছোঁয়া হয়েছে। বড় বড় সংস্থা AI চালানোর জন্য বিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করেছে। ফলে হাজার হাজার কোটি ডলারও খরচ হয়েছে। এই বিনিয়োগ একদিকে উন্নতি বাড়ালেও অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশের উপর চাপ এবং ভবিষ্যতের স্থায়িত্ব নিয়ে চিন্তা বাড়ায়।

AI যত বেশি মানুষের মতো কথা বলতে শিখেছে, ততই অনেক মানুষ একে সঙ্গী অথবা মানসিক ভরসা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে মানসিক চাপ অথবা একাকিত্বের সময়। কিন্তু এখানেই শুরু হয় বিতর্ক। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিকর অথবা অনুপযুক্ত কথোপকথনের অভিযোগ ওঠে। তারপরেই শুরু হয় মামলা-মোকদ্দমা ও তদন্ত। পরে সংস্থাগুলি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করে, যার ফলে সমস্যা কিছুটা কমে।

২০২৫-এ AI আর আলাদা অ্যাপ হয়ে থাকেনি। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যেই ঢুকে গিয়েছে AI। অ্যান্ড্রয়েড ফোন, নতুন আইফোন এবং উইন্ডোজ পিসিতে এখন এক ক্লিক অর্থাৎ এক কথায় ছবি এডিট, ইমেল লেখা, ডকুমেন্ট সংক্ষেপ করা বা ট্রাভেল প্ল্যান তৈরি করা সম্ভব।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে হার্ডওয়্যারেও। AI-র জন্য আলাদা চিপযুক্ত নতুন প্রজন্মের এক কম্পিউটার জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এতে ইন্টারনেট ছাড়াই দ্রুত কাজ করা যায়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য আরও সুরক্ষিত থাকে।

২০২৫-এ এমন AI ব্যবহৃত হতে শুরু করে, যারা শুধুমাত্র পরামর্শই দেয় না, নিজেরাই সব কাজ সম্পন্ন করে দেয়। শিডিউল বানানো থেকে শুরু করে গবেষণা করা অথবা অফিসের কাজ সামলানো পর্যন্ত, সবটাই AI নিজে পরিকল্পনা করে শেষ করতে পারে।

ভয়েস-ভিত্তিক AI আরও স্বাভাবিক এবং সহজ হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানে AI ব্যবহারের কারণে গবেষণার সময় কয়েক বছর থেকে কমে গিয়ে কয়েক মাসে নেমে আসে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণ থেকে শুরু করে মেডিক্যাল ইমেজিং এবং বয়স বিশ্লেষণে AI গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। রোবটিক্সেও বড় অগ্রগতি হয়। রোবট এখন পরিবেশ বুঝে কাজ করতে পারে।

বড় সংস্থাগুলি পরীক্ষামূলক ব্যবহার ছেড়ে পুরোপুরি AI কাজে লাগাতে শুরু করেছে। চীনসহ একাধিক দেশে মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত AI নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায় যে, ২০২৫ সাল থেকেই AI আমাদের জীবনের একেবারে স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এর প্রভাব যে আরও বাড়বে তা একদম নিশ্চিত।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+