Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাংলার জেলায় জেলায় চলল দশমীর সিঁদুর খেলা,বাংলাজুড়ে বিজয়া দশমীর উজ্জ্বল আয়োজন

কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বর্ষণের মধ্যেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল বাংলার বাঙালি। দশমীর দুপুরে প্রবল ঝড় বৃষ্টি চললেও দেবীর বিদায় লগ্নে সিঁদুর খেলায় ভাঁটা পড়েনি। মণ্ডপের সামনে ভিড় জমিয়েছিলেন নারী পুরুষ, ছোট বড় সকলের। শাড়ির আঁচলে সিঁদুর মেখে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত ছিলেন মহিলারা। কোথাও আবার ঢাকের তালে তালে সিঁদুর খেলার সঙ্গে জমে উঠল নাচ গানও।

গ্রামীণ বাংলার বিভিন্ন জেলায়ও ছিল একই ছবি। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, হাওড়া কিংবা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি সহ বেশকিছু জেলাতেই আকাশ কালো করে ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেও উৎসবের আবহাওয়ায় তাতে ভাটা পড়েনি। স্থানীয় মণ্ডপে একে অপরকে সিঁদুর মেখে বিদায়ের আবেগ ভাগ করে নেন সকলে।

মহিলাদের চোখেমুখে ছিল দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার পরের বছর "আসছে বছর আবার হবে"-র প্রত্যাশাও। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলার সর্বত্র সিঁদুর খেলায় তৈরি হল রঙিন ও আবেগঘন এক চিত্র, যা প্রমাণ করল বাঙালির কাছে দুর্গোৎসব কেবল উৎসব নয়, বরং আত্মার সঙ্গে জড়ানো এক অমূল্য অনুভূতি।
বৃহস্পতিবার বাংলার নানা প্রান্তে পূর্ণ উদ্দীপনায় পালিত হল বিজয়া দশমী। দুর্গাপূজার সমাপ্তি লগ্নে প্রতিবারের মতোই দেবী দুর্গাকে আবেগঘন বিদায় জানালেন দর্শনার্থীরা। ঐতিহ্য মেনে সর্বত্রই অনুষ্ঠিত হয় 'ঘট বিসর্জন' ও 'সিঁদুর খেলা'।

কলকাতার বাগবাজার ও কুমোরটুলি সর্বজনীনের মতো বিখ্যাত পূজামণ্ডপে লালপাড় সাদা শাড়ি পরিহিত মহিলারা অংশ নেন সিঁদুর খেলায়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাও। বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার এই প্রাচীন রীতি পরিবারের মঙ্গল ও স্বামীর দীর্ঘায়ুর প্রার্থনার প্রতীক। দেবীর বিদায় লগ্নে এই লাল রঙের আবেশে ভরে ওঠে মণ্ডপ চত্বর।

প্রথা মেনে শোভাবাজার রাজবাড়ি ও মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজার রাজবাড়িতেও আয়োজন করা হয় প্রতীকী বিসর্জনের। বেলুড় মঠেও ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান ঐতিহ্যবাহী আচার মেনে।

তবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মাঝে মধ্যেই বৃষ্টি বিঘ্ন ঘটায় দশমীর আনন্দে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে এই বৃষ্টি। কোথাও সিঁদুর খেলায় সাময়িক বাধা পড়লেও উচ্ছ্বাসে ঘাটতি ছিল না। মণ্ডপপ্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের প্যান্ডেল হপিং এও বৃষ্টির ফোঁটা নিয়ে আসে খানিকটা অসুবিধা।

উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে প্রতিবারের মতো এবছরও ইছামতী নদীতে প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে তৈরি হয় বিশেষ আবহ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই নদীতে দুই দেশের মানুষ একসঙ্গে ভিড় জমান দেবী বিসর্জনের দৃশ্য দেখতে। বিপুল জনসমাগম সামলাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জোরদার করে নিরাপত্তা।

বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে আনন্দ আর বেদনার মিশেল চোখে পড়ল সর্বত্র। দেবী বিদায় নিলেও "আসছে বছর আবার হবে"র আশায় একে অপরকে বরণ করলেন মানুষ। শুভেচ্ছা বিনিময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলল মিষ্টি বিতরণ ও কোলাকুলি।

রাজনীতির মঞ্চ থেকেও এদিন পৌঁছল শুভেচ্ছা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দেন। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও বাংলার মানুষকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+