Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

আমেরিকার H1B ভিসা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ভারতীয়দের ওপর, জানুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের H1B ভিসা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারিভিত্তিক বাছাই প্রক্রিয়া তুলে দিয়ে এবার চালু হচ্ছে 'ওয়েটেড সিলেকশন' বা ওজনভিত্তিক নির্বাচন পদ্ধতি। আর এই বদলের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে চলেছে ভারতীয় পেশাজীবীদের ওপর।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আর ভাগ্যের উপর নির্ভর করে H1B ভিসা মিলবে না। বরং যাঁদের দক্ষতা বেশি, যাঁরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ বেতনের চাকরিতে নিযুক্ত তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ও ২০২৭ অর্থবর্ষের H1B ভিসা নিবন্ধনেই তার প্রভাব পড়বে। এতদিন প্রতি বছর সীমিত সংখ্যক H1B ভিসা লটারির মাধ্যমে বণ্টন করা হত।

H1B

নতুন ব্যবস্থায় যদিও সব স্তরের বেতন কাঠামোর আবেদনকারীরা সুযোগ পাবেন, তবে বেশি মাইনে ও বিশেষায়িত দক্ষতা থাকলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। ফলে সংখ্যার জোরে কর্মী নিয়োগের পথ কার্যত বন্ধ হতে চলেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, H1B ভিসা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড ভারতীয়রাই। প্রতি বছর মোট ভিসার ৭০ শতাংশেরও বেশি যায় ভারতীয় নাগরিকদের ঝুলিতে। বর্তমানে প্রায় তিন লক্ষ ভারতীয় পেশাজীবী মূলত আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিষেবা ক্ষেত্রে এই ভিসায় আমেরিকায় কাজ করছেন। কিন্তু নতুন নিয়মে বড় প্রযুক্তি সংস্থায় উচ্চ বেতনে কর্মরত ভারতীয়রা তুলনামূলকভাবে সুবিধা পেলেও, এন্ট্রি লেভেল কর্মী, মাঝামাঝি অভিজ্ঞতার ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ছোট সংস্থা ও স্টাফিং ফার্মের মাধ্যমে যাওয়া পেশাজীবীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্রাগেসার এই পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করে বলেন, পুরনো লটারিভিত্তিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অনেক নিয়োগকর্তা কম মজুরিতে বিদেশি কর্মী আনতেন। নতুন নিয়মে মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও মজুরি সুরক্ষিত থাকবে বলেই দাবি প্রশাসনের।

এখানেই শেষ নয়। H1B ভিসা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরও বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ভিসা আবেদনে অতিরিক্ত এক লক্ষ ডলার ফি চাপানো হয়েছে, যা ভারতের ২৪৫ বিলিয়ন ডলারের আইটি শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বড় বহুজাতিক সংস্থাগুলি হয়তো এই খরচ সামলাতে পারবে, কিন্তু ছোট ও মাঝারি সংস্থার পক্ষে মার্কিন কর্মী পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

এর পাশাপাশি, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে H1B ও H4 ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই আরও কড়া করা হয়েছে। এর জেরে ভারতজুড়ে বহু ভিসা ইন্টারভিউ পুনর্নির্ধারিত হচ্ছে। অনেক পেশাজীবী দেশে এসে ভিসা স্ট্যাম্পিং করাতে গিয়ে আটকে পড়ছেন। অভিবাসন আইনজীবীদের আশঙ্কা, এই বিলম্ব ২০২৬ বা এমনকি ২০২৭ পর্যন্ত গড়াতে পারে, যার ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মজুরিভিত্তিক বাছাই, চড়া ফি ও কঠোর নজরদারি এই তিনের সম্মিলিত প্রভাব ভারতীয় তরুণদের 'অনসাইট' স্বপ্নে বড়সড় ছেদ ফেলতে পারে। শিল্প মহলের মতে, এর ফলে ভারতীয় প্রতিভারা কানাডা বা ইউরোপের মতো বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকতে পারেন। আবার অনেক সংস্থাই বিদেশে কর্মী পাঠানোর বদলে ভারতে গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার ও অফশোর ডেলিভারি মডেল আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটতে পারে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+