আমলা ও পুলিশ বদলি নিয়ে তীব্র সুর, জনতার প্রতিরোধ গড়ার ডাক মমতার
ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহেই নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক বদলি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু রাজনৈতিক মঞ্চেই নয়, এ বার সরাসরি রাজ্যবাসীকেই সামনে এনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের আমলা ও পুলিশকর্তাদের ঢালাও বদলি কোনও স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে কোণঠাসা করতে ও প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল করে দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি, পরিস্থিতিকে তিনি অঘোষিত জরুরি অবস্থার সঙ্গেও তুলনা করেছেন।

এর আগেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেওয়া থেকে শুরু করে মিছিলের মঞ্চ সর্বত্রই তাঁর অভিযোগ ছিল, বিজেপির সঙ্গে কমিশনের একপ্রকার বোঝাপড়া রয়েছে। তবে এবার সেই অভিযোগের সুর আরও তীব্র। তাঁর বক্তব্য, সব কিছু বদলানো গেলেও মানুষের মনকে বদলানো সম্ভব নয়, আর সেই মানুষের শক্তিকেই হাতিয়ার করতে চাইছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমেও সরব হয়েছেন মমতা। সেখানে তিনি লেখেন, বিজেপি রাজ্যবাসীর আস্থা হারিয়ে এখন জোরজবরদস্তি, ভয় দেখানো ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজ্য দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, সরানো সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন পশ্চিমবঙ্গ কখনও মাথা নোয়ায়নি, ভবিষ্যতেও নোয়াবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন এত সংখ্যক সিনিয়র আধিকারিককে হঠাৎ করে সরানো হল, ও কেন তাঁদের অন্য রাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়ার সুপরিকল্পিত প্রয়াস।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের জবাবে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। দলের নেতা রাহুল সিনহা প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই কিছুদিন আগে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিককে বদলি করেছিলেন কেন? তাঁর কথায়, "তখন বদলি ঠিক, আর এখন হলেই আপত্তি, এই দ্বিচারিতা কেন?"
প্রসঙ্গত, ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে একাধিক রদবদল করেছে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদল আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী, আর সেই লড়াইয়ে জনসাধারণকেই নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications