Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Women's Day 2025: শুনতে না পেলেও কথা বলতে পারেন! অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে আজও সফল বাংলার ওলি

সামাজের বিভিন্ন স্তরে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নারীরাও যে এগিয়ে আসতে পারেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার যন্ত্র না থেকে নারীরাও যে নিজের নিজের স্বপ্ন ছোঁয়ার বার্তা দিতে পারেন, সেই ভাবনার উদযাপনই হল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। যেসকল নারী নিজেদের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সফল হয়েছেন। এই নারী দিবসে সেইসকল অনন্যাদের কুর্ণিশ জানাতেই Oneindia-র বিশেষ নিবেদন Herindia।

আর তাই নারী দিবস উপলক্ষ্যে আমরা পৌঁছে গিয়েছিলান এমন এক নারীর কাছে। যাঁর জীবনের শুরুটাই হয়েছিল লড়াই দিয়ে। প্রতিবন্ধকতাকে জীবনের চলার পথে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেননি নরেন্দ্রপুরের ওলি মিশ্র। পাটনায় জন্ম হয় তাঁর, সেখানেই বেড়ে ওঠা। জন্ম থেকেই মূক ও বধির ওলি। তবে তাঁর অদম্য শক্তির কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধকতাও। শুনতে না পেলেও কথা বলতে পারেন ওলি। সমাজের অবহেলায় দমে না গিয়ে চালিয়ে গিয়েছেন লড়াই। এভাবেই হয়েছে ওলির অসাধ্য সাধন।

Womens Day 2025

ওলি মিশ্র জানান, লিপ দেখে আসতে আসতে কারোর কথা বুঝতে পারেন তিনি। কোনও অসুবিধা হয় না। কানে না শুনলেও তিনি সব বুঝতে পারেন।

ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলার মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও জানান, 'প্রথমে আমি জানতাম না যে আমি শুনতে ও বলতে পারিনা। সবাইকে দেখতাম কথা বলতো, শুনতো, লিখতো। তখন আমার মনে প্রশ্ন জাগতো, যে আমি কেন বলতে পারিনা? ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন যে আমি শুনতে ও বলতে পারবো না। কিন্তু যদি আমি চেষ্টা করি, তাহলে আমি বলতে পারবো। তখন আমার মনে হল, আমার সব বন্ধু বলতে পারলে আমি কেন বলতে পারব না? তখন আমার মা, বাবা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন এবং সেই ডাক্তার আমাকে কথা বলা প্র্যাকটিস করাতেন। তবে, স্কুলে বন্ধুরা আমাকে খুবই হেয় করতো, খুবই বিরক্ত করতো। আমাকে অ্যাবনর্মাল বলে বিরক্ত করতো বন্ধুরা। এইসব শুনে আমার রাগ হত। তখন আমি ঠিক করলাম যে সবাই যেটা পারে আমিও সেটা পারি। আমি অ্যাবনর্মাল নই। আরও কথা বলা প্র্যাকটিস করতে শুরু করলাম। বাবা, মা আমাকে ভীষণ সাপোর্ট করেছিলেন। আমাকে উচ্চারণ করা শিখিয়েছেন বাবা, মা-ই। এরপর আমি স্কুলে ভর্তি হই। এরপর ম্যাট্রিক পাস করি এবং পড়াশোনাটাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই'।

পড়াশোনার পাশাপাশি আঁকতেও ভালোবাসেন ওলি। বাড়ির দেওয়াল জুড়ে রয়েছে তাঁর আঁকা পেইন্টিং। রঙ, তুলি সাফল্যের দিকে এগিয়ে দিয়েছে ওলিকে। বাড়িতে যেটুকু সময় ফাঁকা পান, সেটুকু সময় আঁকায় মনোনিবেশ করেন ওলি মিশ্র। আঁকার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। তাঁর প্রাপ্ত এই অ্যাওয়ার্ডগুলি তাঁকে শান্তি দেয় বলে জানান ওলি।

বর্তমানে পেশায় একজন ব্যাঙ্ক কর্মী ওলি মিশ্র। সংসার আর ব্যাঙ্কের কাজ একা হাতে সামলান তিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন যোগব্যায়াম করা তাঁর অভ্যাস। ওলির কথায়, 'সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যোগব্যায়াম করি। তারপর অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হই। রেডি হয়ে অফিস যাই। তারপর বাবার সঙ্গে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে বই পড়ি। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা উপন্যাসগুলি পড়ি। সময় পেলে আঁকি, আবার কথা বলারও চেষ্টা করি। তারপর রাতে রান্না করি। আমি রান্না করতে খুব ভালবাসি। খুব ভালো রান্নাও করতে পারি। বিরিয়ানি, চিকেন ও মাছের নানান সুস্বাদু পদ রান্না করি। প্রিয় খাবার বিরিয়ানি। বর ও আমি দুজনে মিলে রান্না করি। সেইসময় আমি ভীষণ এনজয় করি'।

করোনার সময় ওলির পরিচয় হয় সুজয় মণ্ডলের সঙ্গে। তারপর বদলে যায় তাঁর জীবন। পরণতি পায় তাঁদের সম্পর্ক। সংসারি হয়ে ওঠেন ওলি। বর্তমানে সংসার ও কাজ একাহাতে সামলান ওলি মিশ্র। আর তাঁকে সর্বক্ষণ সাহস জোগান তাঁর বাবা, মা এবং স্বামী সুজয়।

বর্তমানে বহু নারীর অনুপ্রেরণা ওলি। সমাজে বিশেষভাবে সক্ষম নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমি সবাইকে একটাই কথা বলতে চাই। আমি সকল নারীকে বলতে চাই, Disability does not mean inability। এর মানে হল, অক্ষমতা বলে কিছু নেই। সবাই যখন কাজ করতে পারছে, তখন আমি কেন পারবো না। এটা সবসময় ভাবতে হবে। ভিতর থেকে কাজ করার শক্তিটা বের করে আনতে হবে'।

রান্নার পাশাপাশি সাজতে ভালোবাসেন ওলি। আলমারি ভর্তি তাঁর গয়না। মাঝে সময় পেলে গাছের পরিচর্চা করেন এই সাহসিনী। অক্ষমতা নয় বরং সক্ষম মানুষের মতোই সাধারণ জীবনযাপন ওলির মিশ্রর। বিশেষভাবে সক্ষম-এই তকমাটা সমাজ তাঁকে দিলেও তিনি যে আর পাঁচ জনের মতোই সুস্থ স্বাভাবিক একজন নারী, তা বারে বারে বুঝিয়ে দেন ওলি মিশ্র। নারী দিবসে তাঁর এই অদম্য শক্তিকে কুর্নিশ জানায় ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা। এভাবেই এগিয়ে চলুক বাংলার ওলিরা।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+