পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন সমীকরণ, ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরান বৈঠক ঘিরে জল্পনা
শান্তির পথ কি খুলতে চলেছে ইসলামাবাদে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই কূটনীতির নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে এবার সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা চলতি সপ্তাহেই সেখানে মুখোমুখি বসতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে কড়া অবস্থান নিলেও আচমকাই নরম সুরে কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম ও সামরিক হুমকির পর হঠাৎই পাঁচ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা, এই পরিবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাতের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেই দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।

যদিও তেহরান সরাসরি কোনও আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের দাবি ভিন্ন। বিভিন্ন সূত্রের খবর, পর্দার আড়ালে ইতিমধ্যেই পরোক্ষ সংলাপ শুরু হয়েছে। এই সংলাপের সেতুবন্ধন তৈরি করছে পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক সহ একাধিক দেশ। তাদের মাধ্যমেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান চলছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। পাকিস্তান নিজেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই প্রস্তাব রেখেছে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা, বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও তীব্র হয়েছে।
প্রস্তাবিত বৈঠকে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রতিনিধিদলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও কূটনীতিকদের থাকার জল্পনা যেমন রয়েছে, তেমনই ইরানের তরফে পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নামও শোনা যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতার মাত্রা বোঝাতে সাম্প্রতিক কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগই যথেষ্ট। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের কথা বলা ও তার পরদিনই ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে, ইসলামাবাদেই হয়তো তৈরি হতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ, যেখানে সংঘাতের বদলে সংলাপই হয়ে উঠবে মূল চাবিকাঠি। এখন দেখার বিষয় সেই সম্ভাব্য বৈঠক বাস্তবে রূপ নেয় কি না।












Click it and Unblock the Notifications