ভোটে কড়া নজর কমিশনের, একগুচ্ছ বিধি জারি নির্বাচন কমিশনের
ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ, সীমান্তেও বাড়তি কড়াকড়ি করা হয়েছে। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার বিশেষ পর্যবেক্ষকদের জন্য ১০ দফা নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে এই বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।
এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তঃরাজ্য সীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়াচ্ছে কমিশন। এই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একাধিক প্রতিবেশী রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মুখ্য সচিব, ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ, স্বরাষ্ট্র, আবগারি ও কর দপ্তরের কর্তারা অংশ নেন।
অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ওডিশা, সিকিম ও ত্রিপুরা এই সব রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত অবৈধ নগদ ও পণ্যের পাচার রুখতে ও আইনশৃঙ্খলা অটুট রাখতে একাধিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কমিশনের দাবি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে এই ১০ দফা নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন।












Click it and Unblock the Notifications