Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

এক মাসে ৩৩ মৃত্যু, ১৮ আত্মঘাতী, এসআইআর নিয়ে বাংলায় চরম অস্থিরতা, নিশানায় কমিশন

রাজ্যে এসআইআর শুরু হওয়ার পর কেটে গিয়েছে মাত্র ৩১ দিন। আর এই সময়ের মধ্যেই মৃত্যু মিছিলে জড়িয়েছে ৩৩টি প্রাণ। আত্মহত্যা করেছেন ১৮ জন। মৃত্যুর নেপথ্যে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও অতিরিক্ত কাজের চাপকেই দায়ী করছেন মৃতদের পরিবার ও রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের অভিযোগ, এত গুরুতর পরিস্থিতি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শুরুতেই মৃত্যু, লাফিয়ে বাড়ল আত্মঘাতী মানুষের সংখ্যা। ২৮ অক্টোবর বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার দিনই খড়দহের বাসিন্দা প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আত্মঘাতী হয়েছেন মোট ১৮ জন, তাঁদের মধ্যে দুইজন বিএলও। বাকি ১৫ জনের মৃত্যু হৃদ্‌রোগ বা স্ট্রোকজনিত। পরিবারগুলির দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত ভয়, ভুলভাল তথ্য হবে কিনা সেই আশঙ্কা, আর ঘরে ঘরে পৌঁছে তথ্য যাচাইয়ের চাপ, সব মিলিয়ে মানসিক অবসাদেই এসেছে এই পরিণতি।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যু মুর্শিদাবাদে ৯ জন। এরপর রয়েছে দুই মেদিনীপুর ও দুই ২৪ পরগনা। অভিযোগ উঠেছে হুগলি, দিনাজপুর, হাওড়া ও জলপাইগুড়িতেও।

বাংলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বরাবরই বেশি, কিন্তু এসআইআর সন্ত্রস্ত মৃত্যু নজিরবিহীন। এনসিআরবির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে আত্মহত্যা করেছিলেন ১২,৮১৯ জন, অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ১,০৬৮ টি। দিনে প্রায় ৩৫ জন মানুষ আত্মহত্যা করেন।
তবে এসআইআর আতঙ্কে নাগরিকের আত্মহত্যা বাংলার ইতিহাসে একেবারেই নজিরবিহীন, বলছেন বিশ্লেষকেরা। এতদিন পর্যন্ত পারিবারিক সমস্যাই আত্মহত্যার প্রধান কারণ ছিল। সেই পরিসংখ্যানে এবার যুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক চাপ সংশ্লিষ্ট আত্মহত্যার অভিযোগ।

এনসিআরবি বলছে, বাংলায় কৃষক আত্মহত্যা শূন্য। কিন্তু পারিবারিক কলহে ২,৬১০ জন, বিবাহ বিবাদে ৬৮৩ জন, পণপ্রথায় ১২৮ জন ও প্রেমঘটিত সমস্যায় ১৫১ জন আত্মহত্যা করেছেন। কর্মক্ষেত্রের চাপ বা চাকরি হারানোর ভয়ে আত্মহত্যার হার মাত্র ১.১ শতাংশ।

বাংলা নয়, ১২ রাজ্যেই চলছে এসআইআর, তবে এমন জনআতঙ্ক আর কোথাও নেই।
দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একসঙ্গে এসআইআর চলছে। অন্যান্য রাজ্যেও কয়েকজন বিএলও অকালে মৃত্যু বরণ করেছেন, কেউ কেউ আত্মহত্যাও করেছেন বলে খবর। তবে সাধারণ ভোটারদের আত্মহত্যার প্রবণতা শুধু বাংলাতেই দেখা যাচ্ছে।
কম সময়ের মধ্যে বিপুল কাজ শেষ করার চাপই বহুরাজ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, দিল্লিতে সরব হবে তৃণমূল। দলের ১০ সাংসদের প্রতিনিধি দল শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে গিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের দাবি মৃত্যু নিয়ে কমিশন কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে পারেনি।
আত্মহত্যার দায় কমিশন নেবে কি না সে প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি।

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০ নভেম্বর চিঠি দিয়ে এসআইআর স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ প্রস্তুতির অভাবে বাড়ছে মৃত্যু, বাড়ছে বিভ্রান্তি।

৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৮২.৯১ শতাংশ ভোটারের ডেটা ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজড।
তাই কাজ থামানোর প্রশ্নই নেই।

বিরোধী দলগুলির আক্রমণ তীব্র হচ্ছে। কেবল তৃণমূল নয়, দেশের ১২ রাজ্যে মোট ২৬ জন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি। তাদের মতে
"এই মৃত্যুর দায় প্রধানমন্ত্রীর ও নির্বাচন কমিশনের।"

তবে কমিশনের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য "বিহারেও এক মাসে পুরো কাজ হয়েছিল, কিন্তু সেখানে আত্মহত্যা হয়নি। কতজন সত্যিই কাজের চাপে আত্মহত্যা করেছেন, তা রাজ্যের রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না।"

মানুষের মৃত্যু, আতঙ্ক, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক উত্তাপ সবকিছু মিলিয়ে এসআইআর নিয়ে বাংলায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব চাপের পরিস্থিতি।
আত্মহত্যার সংখ্যা কোথায় গিয়ে থামবে, এসআইআরের ভবিষ্যৎ কী এখন সেই উত্তর সময়ই দেবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+