Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

নির্বাসিত রাজপুত্রের খামেনি বিরোধী আন্দোলনের ডাকের পর ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা

নতুন করে অস্থিরতার মুখে ইরান। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন পরিষেবা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যে নেটব্লকসের ভাষায়, "ইরান পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগ ব্ল্যাকআউটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।"

এই দমনমূলক পদক্ষেপের কেন্দ্রবিন্দুতে তীব্র বিক্ষোভ অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রাজধানী থেকে প্রদেশ, সর্বত্রই চলছে আন্দোলন। মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৪২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তবে সরকারি হিসেবে মৃত্যু সংখ্যা অনেক কম দেখানো হচ্ছে, এএফপি বলছে, সরকারিভাবে অন্তত ২১ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে।

চলমান এই বিক্ষোভের মূলে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে রিয়ালের বিপর্যয়কর পতন যা বাজার ধস, জীবিকা ও ক্রয়ক্ষমতায় বড়সড় ধাক্কা দেয়। তার পরেই তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার বন্ধ হয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ইসফাহান, কেরমানশাহ, আবাদান ও অন্যান্য শহরে।

অর্থনৈতিক ক্ষোভ দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ পেতে শুরু করে। বিভিন্ন জায়গায় শোনা গেছে "স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক", "পাহলাভি ফিরে আসবে" এমন স্লোগান। নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলাভির ডাকেও বৃহস্পতিবার রাতে বড় আকারের বিক্ষোভ দেখা যায়। তিনি দাবি করেছেন, "লাখো মানুষ স্বাধীনতার দাবি তুলেছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে পাহলাভি বলেন ইরান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো হোক।

রাস্তায় প্রতিরোধও একপাক্ষিক ছিল না। ইসফাহানে আইআরজিসি সংযুক্ত একটি ভবন আগুনে পুড়ে যায়। তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুরসহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন প্রদেশে গুলিবর্ষণ, ছুরি হামলা ও দাঙ্গায় নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি বলছে, সরকারের দমন পীড়ন "অবৈধ" ও "অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের" উদাহরণ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ উভয়েই জলকামান, শটগান ও মারধর ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে।

বিক্ষোভকে আন্তর্জাতিক মহলেও কঠোর নজরে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন ইরান "যদি জনগণকে হত্যা শুরু করে", তাহলে ওয়াশিংটন "কঠিন জবাব" দেবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী সহ ইউরোপীয় নেতারা সরকারি দমননীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি অবশ্য অন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ বিদেশি শক্তি ও শত্রুপ্ররোচনার ফলেই অর্থনৈতিক অসন্তোষ রাজনৈতিক আগুনে ঘি ঢেলেছে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি রাজনীতিক দলগুলির আহ্বানে সাধারণ ধর্মঘটও পালিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও দাবি করেছে প্রায় ৩০টি শহর ও জনপদে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

ইরানে বিক্ষোভ দমন, ব্ল্যাকআউট ও গ্রেপ্তার সবমিলিয়ে সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ দিনকে দিন কঠিন হচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেও আন্দোলনের আগুন নিভছে না এটাই এখন তেহরানের বড় উদ্বেগ।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+