Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বন্দর ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে চিনের আধিপত্য খর্ব, তাতেই টার্গেটে আদানি! কুৎসা ছড়াতে উড়ছে বিদেশি অর্থও

Adani: হিন্ডেনবার্গকে ভাড়া করে আমেরিকান-চিনা লগ্নিকারী বা চিনের গুপ্তচরদের গৌতম আদানিকে আক্রমণ ও তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নানা প্রশ্ন সামনে এনেছে।

কেন বিশ্বের তথাকথিত শক্তিধর দেশ আদানির মতো শিল্পপতিকে আক্রমণ করছে? কেন চিনের বিরুদ্ধে আদানিকে সমর্থন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র? মূলত বন্দর ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে চিনের আধিপত্য খর্ব করতে গিয়েই চিনের চক্ষুশূল হয়েছে আদানি গোষ্ঠী। পরিকল্পিত কুৎসা ছড়িয়ে বদনাম করতে টাকা আসছে বিদেশ থেকেও।

Adani

সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত গুজরাতে আদানির মুন্দ্রা ও খবড়া সাইটে গিয়ে সেখানকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন। তাতে আদানির পাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে রয়েছে সেই বার্তা জোরালোভাবে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের ডিএফসি ২০২৩ সালের নভেম্বরে আদানির কলম্বোর বন্দর প্রজেক্টে লগ্নি করেছে। সেই সঙ্গে মার্কিন তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট অপ্রাসঙ্গিক।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে রাহুল গান্ধী গোপনে চিনের দূতাবাসে গিয়েছিলেন। সেখানে চিনের মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। যদিও সেই বৈঠকের কথা প্রথমে অস্বীকার করেন রাহুল। পরে দূতাবাস ছবি প্রকাশ করলে রাহুলের অস্বস্তি বাড়ে। তিব্বতে কৈলাস মানস সরোবরেও রাহুল ২০১৮ সালে চিনের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রশ্ন হলো, কেন বারবার গোপনে বৈঠকের এমন চেষ্টা? কেনই বা কংগ্রেস আদানির বিরুদ্ধে এতটা সরব?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাক্ষাদ্বীপে গিয়েছিলেন মালদ্বীপ, নাকি চিনকে টার্গেট করতে? এই সব প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। মনে করা হচ্ছে, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কারণেই আদানিকে বারবার টার্গেট করা হচ্ছে। কেন না, বিশ্বের শক্তির যে ভারসাম্য তাতে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, বন্দরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য বর্তমানে প্রাচ্যের দিকে দ্রুত আসছে।

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, একবিংশ শতকে বিশ্বে সেই দেশগুলির আধিপত্য থাকবে যারা শক্তিধর থাকবে বন্দরের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিককালেও চিনের সেখানে দাপট ছিল। চিন বাণিজ্য ও সেনাবাহিনীর স্বার্থের কথা ভেবে একাধিপত্য বজায় রাখতে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি করেছে ওয়ান বেল্ট অ্যান্ড ও ওয়ান রোড প্রকল্পে।

চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর, ভারত মহাসাগরে স্ট্রিং অব পার্লসের মাধ্যমে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তায় আঘাত হানার চেষ্টা চলছে এর মাধ্যমে। ভারতের শক্তি, বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ভৌগোলিক সীমানা দখলের চেষ্টা চালিয়ে বিব্রত করতে মরিয়া চিন।

তবে কয়েক বছর আগে চিনের বেড়ে চলা আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে আদানি গোষ্ঠী। মুন্দ্রায় স্থাপিত হয় বন্দর। আদানিকে মিডিয়া মোদীর সহযোগী বলেও প্রচার করে। কিন্তু বাস্তব হলো, ব্রিটিশদের পর আদানি গোষ্ঠীই প্রথম ও একমাত্র সংস্থা যারা বন্দর ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করেছে। বন্দর শিল্পে পিছনে ফেলেছে বাকিদের। মুন্দ্রা বন্দরের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠী যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তা সামগ্রিকভাবে বিদেশের কাছে ভারত সরকারের অবস্থানকেও জোরদার করেছে। আর তাতেই রাগ বাড়ছে চিনের।

চিনের তাই লক্ষ্য আদানিকে বেকায়দায় ফেলে নিজেদের লাভবান হওয়া। দ্বৈরথে জেতা। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা যাক:

অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থ ও ইক্যুয়িটি মিলিয়ে আদানি গোষ্ঠী ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি করেছে। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ সবথেকে বেশি কিনতো চিন। আদানির প্রবেশে সেই দাপট খর্ব হতে থাকে।

২০১০ সালে আদানি কারমাইকেল খনি কেনে। তার আগে অবধি চিন ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে কয়লা রফতানি হতো। ২০১১ সালে আদানি উত্তর কুইন্সল্যান্ডে অ্যাবট পয়েন্ট কোল টার্মিনাল অধিগ্রহণ করে। সেখান থেকে ভারতে কয়লা রফতানি হয়। চিনের সংস্থা আদানির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কয়লা তুলে রফতানি করলেও আদানিদের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে প্রতিবাদ, আন্দোলন শুরু হয়।

২০১২ সালে স্টপ আদানি নামে যে আন্দোলন শুরু হয়। আগে কাউকে এমন বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। এরপর ২০১৪ সালে বিশ্বের বৃহত্তম কোল পোর্ট পোর্ট অব নিউক্যাসল চিনের সমর্থিত কনসর্টিয়ামের হাতে অস্ট্রেলিয়া সরকার তুলে দেয় ৯৮ বছরের জন্য। ১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। এই কাজ করা নিউ সাউথ ওয়েলসের তৎকালীন প্রধান মাইক বেয়ার্ডের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল ২০১৫ সালে।

২০১৫ সালে চিন ডারউইন পোর্টের দখল নেয়। ৯৯ বছরের জন্য লিজে ৫০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে। ২০১৭ সালে ম্যানিলায় আসিয়ান সামিটে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিঞ্জো অ্য়াবে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চিনকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলায় কোয়াডে জোর দেন। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দক্ষিণ চিনের সমুদ্র বরাবর এলাকার কথা ভেবে। কোয়াড মেম্বারদের সঙ্গে চিনের নতুন করে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়।

২০১৮ থেকে অস্ট্রেলিয়া ও চিনের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, মিডিয়া এবং দক্ষিণ চিন সমুদ্রে বিতর্ক প্রসঙ্গে চিন রাজনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করায়। ২০২০ সালে চিন অস্ট্রেলিয়ার বদলে কানাডা থেকে কয়লা নিতে শুরু করে। ২০২৩ সালে চিন আনঅফিসিয়াল ব্য়ান তুলে নিলেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখন তলানিতে।

শ্রীলঙ্কা

২০১১ সালের অগাস্টে চিনের মার্চেন্ট পোর্টস শ্রীলঙ্কার বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩৫ বছরের কনসেশন এগ্রিমেন্ট সই করে। কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল কন্টেনার টার্মিনালের বিষয়ে। চিনের বিনিয়োগ ও কলম্বো বন্দরের বিস্তৃতির ফলে এখন এই বন্দর ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গোর ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।

২০১৫ সালে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদানি গোষ্ঠী কেরল সরকারের সঙ্গে কনসেশন এগ্রিমেন্ট করে। ভিজিঞ্জাম ইন্টারন্যাশনাল সমুদ্র বন্দরকে পুরোপুরিভাবে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্গো হিসেবে ব্যবহারের জন্য। যদিও এই প্রকল্প বিরোধিতার মুখে পড়ে স্থানীয় চার্চ ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালও বিরোধিতা করে। যদিও পরিবেশ ও সামাজিক কোনও অনিষ্টের প্রমাণ মেলেনি। ২০২২ সালের নভেম্বরে জানা যায় লাতিন চার্চ বোর্ডের সদস্যরা বিদেশ থেকে হিংসাত্মক আন্দোলন চালানোর জন্য অর্থ পেয়েছিলেন।

বর্তমানে এই বন্দরের কাজ শেষ হতেই এলডিএফ ও ইউডিএফ কৃতিত্ব নিতে মুখিয়ে। কেরলের রাজনৈতিক দলগুলির পরিণত মাননিসকতা ও সমর্থনেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সিএম পোর্টস হাম্বানটোটা পোর্ট ৯৯ বছরের লিজে অধিগ্রহণ করে। যা নিয়ে বিতর্ক হয়। ভারত মহাসাগরে নৌবাহিনীর কাজকর্ম চালাতে এই বন্দর নেওয়ার পরিকল্পনা করে চিন। ভারতের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার মাটিকে কাজে লাগাতে চিন টেকনিক্যাল ও অর্থনৈতিক সহায়তাও দিতে শুরু করে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কলম্বো পোর্ট টার্মিনালে আদানি গোষ্ঠী শ্রীলঙ্কার বন্দর ক্ষেত্রে ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে, যা সর্বকালীন রেকর্ড। ভারতীয় সংস্থা শ্রীলঙ্কার বন্দর ক্ষেত্রে ঢুকে পড়ায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে চিন। সেই সময় ভারতের কোনও সংস্থা শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়নি।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদানির উইন্ড পাওয়ার প্রজেক্টে সাড়ে চারশো মিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নিতে অনুমোদন দেয় শ্রীলঙ্কা। ২০২৩ সালের নভেম্বরে আদানির কলম্বো টার্মিনালের জন্য আদানি ফিনান্সে মার্কিন সরকারের সমর্থিত সংস্থা ডিএফসি ৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নি করে। এতেই স্পষ্ট হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট অপ্রাসঙ্গিক।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় আদানিকে। ২০২৪ সালের জুনে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টে বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগের পদ্ধতি, এই প্রকল্প তৈরি এবং পরিবেশের উপর এর প্রভাব নিয়ে মামলা দায়ের হয়। আদানি গোষ্ঠীকে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়।

ইজরায়েল

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে চিনের সংস্থাকে পিছনে ফেলে হাইফা বন্দর অধিগ্রহণ করে আদানি গোষ্ঠী। যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংযোগকারী সংক্ষিপ্ত পথ সুয়েজ ক্যানালের খুব কাছে। ইজরায়েলে আগেই চিনের দুটি বন্দর ছিল। ২৫ বছরের চুক্তিতে চিনের সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল পোর্ট গ্রুপ বেসরকারি মালিকানাধীন হাইফা বে-র কাজকর্ম পরিচালনার ভার নিয়েছিল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ওই গ্রুপ হাইফা বাইপোর্ট টার্মিনাল চালাচ্ছে। আশডড পোর্টও রয়েছে চিনের সংস্থার হাতেই।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আদানি নিয়ে রিপোর্ট বের করে হিন্ডেনবার্গ। শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গকে দিয়ে ওই রিপোর্ট চিনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক ব্যবসায়ী করিয়েছেন বলে দাবি করেন বিশিষ্ট আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। এই রিপোর্টে আদানি গ্রুপের শেয়ারে ধাক্কা লাগে। জেঠমালানি জানান, চিনের গুপ্তচর আনলা চেং ও তাঁর স্বামী মার্ক কিংডন হিন্ডেনবার্গকে দিয়ে আদানি সম্পর্কে রিপোর্ট বের করিয়েছেন। কোটাক মাহিন্দ্রা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ব্যবহার করে শর্ট-সেলিং আদানি শেয়ারের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। গোটাটাই হয় চিনের স্বার্থরক্ষার জন্য।

চেং ২০১৬ সালে সুপচায়নার মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল নিউজ ও ইভেন্ট প্ল্যাটফর্ম খোলেন। পাশ্চাত্যে পাঠকদের কাছে চিন সম্পর্কে নানা তথ্য তুলে ধরা হতে থাকে। ২০২২ সালে এর নাম বদলে করা হয় দ্য চায়না প্রজেক্ট। তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক বেশ খারাপ। চেংয়ের মিডিয়া পরবর্তীতে অভিযুক্ত হয় চিনের কমিউনিস্ট পার্টির ব্যক্তি ও সংগঠনের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চলার জন্য।

তানজানিয়া বা আফ্রিকা

২০২৪ সালের মে মাসে আদানি চিনের পোর্ট কোম্পানি হাচিনসন পোর্টের থেকে দার এস সালান বন্দর অধিগ্রহণ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রাখে। চিনের দাপটকে ভালোভাবে নিতে পারছিল না তানজানিয়ার সরকার। সে কারণেই মালিকানা বদলের সিদ্ধান্ত।

আফ্রিকা, বিশেষ করে সেই দেশের পূর্ব উপকূল বরাবর চিন নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছিল। এতে পাশ্চাত্যের দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বিঘ্নিত হতে পারতো। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের মোকাবিলায় ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকনমিক করিডরের পরিকল্পনা করা হয়। ২০২৩ সাসে দিল্লিতে জি২০ সামিটে এই সংক্রান্ত মই স্বাক্ষরিত হয়। ভারত থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইজরায়েল, গ্রিস হয়ে রুট প্রস্তাবিত হয়। উল্লেখ্য, চিনের বন্দর রয়েছে কেনিয়া, সুদান ও মিশরে।

মায়ানমার

২০১৯ সালের মে মাসে আদানি গোষ্ঠী ঘোষণা করে ইয়াঙ্গনে নতুন কন্টেনার টার্মিনাল চালানোর জন্য ২৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের কথা। সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা জমিতে বন্দর তৈরির কথা ছিল। তা নিয়ে মায়ানমারের রাজনৈতিক মহলের তরফে প্রবল বাধা আসে। যদিও পরবর্তীকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আনা হলে এই গোষ্ঠী ওই বন্দর বিক্রি করে দেয়।

যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মায়ানমার চিনকে অনুমতি দেয় কিয়াউফিউ বন্দর তৈরির জন্য। যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ২০১০ সালে। কিন্তু তা তৈরি হতে অনেক দেরি হয়। তবে মায়ানমারের এই সিদ্ধান্তে লাভবান হয়েছে চিন।

ভারতের উপর সামরিক চাপ তৈরির জন্য চিন মায়ানমার, দক্ষিণে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা ও পশ্চিমে পাকিস্তানের গদর ও আফ্রিকার জিবৌটিতে নৌসেনা ঘাঁটি তৈরি করে ফেলেছে। কিয়াউফিউয়ে মায়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। চিন নিজেদের দেশে মুসলিমদের উপর অত্যাচার চালায়। মায়ানমারেও রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরে অত্যাচার চালাচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কোনও পদক্ষেপের মুখে পড়তে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ

২০১০ সালের মার্চে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির প্রস্তাব দেয় চিন। ২০১৫ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে চিনের আধিপত্য খর্ব করতে আদানি গ্রুপ ১৬০০ মেগাওয়াটের গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেয় প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে। যদিও ভারত ও বাংলাদেশে এনজিও-সহ অনেকেই বিরোধিতা শুরু করে। শেষ অবধি ২০২৩ সালে তা চালু করা সম্ভব হয়েছে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিসিয়েটিভের অংশ হিসেবে ঢাকার সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে চিন। চিনের ২৬৪০ মেগাওয়াটের পায়রা পাওয়ার প্লান্ট বাংলাদেশে বৃহত্তম। তারা ২০২৩ সালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নেয় ১৮.৩৭ টাকা। যদিও তার অর্ধেক দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে গোড্ডা পাওয়ার প্লান্ট। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ইউনিট ৯.০৯ টাকায়।

ইরান ও পাকিস্তান

২০১৫ সালের মে মাসে ইরানের চাবাহার বন্দরের বিকাশের বিষয়ে মউ স্বাক্ষরিত হয়। ভারত এই কাজ করে দেবে বলে স্থির হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইরান সফরে এই সংক্রান্ত চুক্তি হয়। চিন-পাকিস্তানের কৌশলগত জোট ও চিনের বিআরআইকে ধাক্কা দিয়ে ইউরেশিয়ার যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কেন না, চাবাহারের কাছে বালুচিস্তান প্রদেশে চিন গদর বন্দরে প্রভূত লগ্নি করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার চট্টগ্রাম, হাম্বানটোটা ও গদরে চিন পরিচালিত তিন বন্দরকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাকে ট্রায়াঙ্গেল অব ডেথ বলা হচ্ছে, যা ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। চিনের সেই আধিপত্য খর্ব করতে গিয়েই টার্গেট করা হচ্ছে আদানিকে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+