রাধাকৃষ্ণের প্রেমের লীলায় এখনও মাতে হাওড়া জেলার বালির দাঁ পরিবার
রাধাকৃষ্ণের প্রেমের লীলায় এখনও মাতে হাওড়া জেলার বালির দাঁ পরিবার
পুরাণ বর্ণিত তথ্য থেকে জানা যায়, শ্রীকৃষ্ণ কার্তিক পূর্ণিমার রাতে বৃন্দাবনের যমুনা নদীর তীরে সুমধুর বাঁশীর ধ্বনিতে শ্রীরাধা সহ গোপিনীদের আহবান করেন এবং তাদের 'অহং' বর্জিত বিশুদ্ধ ভাবে তুষ্ট হয়ে সঙ্গদান করেন। বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের এই যুগলমিলন মূলত রাসলীলা নামে খ্যাত। তাই রাস উৎসব বৈষ্ণবদের কাছে পরম পবিত্র উৎসব। সময়টা ১৫০১ থেকে ১৬০০ খৃষ্টাব্দ। সেই সময়েই জোড়াসাঁকোর দাঁ পরিবার বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। তাঁরা নিয়মিত রাধাকৃষ্ণের সেবা ও পুজো করতেন।

সেই সেবা প্রায় তিনশো বছর অতিক্রান্ত। এই পরিবারের বধূ কাদম্বিনী দেবীর ইচ্ছা হয়েছিল একটি স্থায়ী মন্দির তৈরি করে, সেখানেই রাসমেলার সূচনা করার। মায়ের ইচ্ছে অনুযায়ী তাঁর পুত্র পূর্ণচন্দ্র দাঁ হাওড়া জেলার বালি থানার অধীন ভোটবাগানের মোহন্ত বিলাস গিরির থেকে কিনলেন ২৪ বিঘা জমি। সে ১৮৭০ সালের কথা। বিশাল জমি জায়গা এবং জমিদারির অংশীদার হয়ে সেখানে তিনি শ্রী শ্রী রাধারমন জিউয়ের ৪০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট নবরত্ন মন্দির , ২৪ ফুট উচ্চতার ৬টি শিব মন্দির, নাট মন্দির , রাসবাড়ী ঘাট নির্মাণ করেন।
হাওড়ায় এই ঘাটটি স্থাপিত হয় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে। ঘাটটি পূর্ণ চন্দ্র 'দাঁ' এর ঘাট নামেই বেশি পরিচিত।দেবালয় সংলগ্ন প্রশস্ত ঘাট। স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য উন্মুক্ত। ভগিনী নিবেদিতা কয়েকবার বাগবাজার থেকে নৌকাযোগে এই ঘাটে এসেছিলেন। ঠাকুরের সেবাপুজোর জন্যে 'শিবকৃষ্ণ দেবত্তোর এষ্টেট'-এর হাতে অর্পণ করেন। এই এষ্টেটের সিংহভাগই এখন পরিবারের বাৎসরিক রাসযাত্রায় ব্যয় হয়।
রাসযাত্রা উপলক্ষে দাঁ পরিবারের প্রতিষ্ঠিত সেবায়তনের বিশাল প্রাঙ্গণে রাস উপলক্ষে কীর্তন গান ও মেলা বসত এবং দীর্ঘদিন ধরেই হাওড়ার অন্যতম মেলা রূপে প্রতিষ্ঠিত ছিল। প্রায় এক পক্ষকাল ধরে চলত এই মেলা। রামায়ণ , মহাভারত , শ্রীকৃষ্ণের জীবন নিয়ে বিভিন্ন ঘটনার মূর্তি মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। কাঠের জিনিস , পাথরের থালা বাটি গেলাস , গৃহস্থালি জিনিস , লোহার নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ইত্যাদি বহু ধরনের জিনিস মেলায় আসত। দাঁ পরিবারের জায়গার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে রাস্তার দুপাশে বিস্তারিত হয়ে যেত এই মেলা ।
রাস পূর্ণিমায় হাওড়া জেলার অনেক জায়গাতেই শ্রীকৃষ্ণের পুজো , উৎসব ও রাস হয়ে থাকে। জমিদার নেই ,তাঁর জমিদারিও নেই । হাওড়া জেলার সিংটি , রামপুর , কল্যাণচক , গজা , ঝিখিরা , বাগনান , রসপুর প্রভৃতি জায়গায় প্রাচীন রাসমঞ্চ আছে। জগৎবল্লভপুর থানার ইছাপুর , কুমারপুর , গড় বালিয়া , স্যাকরাহাটি এবং নিজ বালিয়ায় রাসমঞ্চ আছে। এখনও এই জেলার বালি , আন্দুল , উলুবেড়িয়া এবং প্রিয়নাথ ঘোষ বাড়ির রাসমেলা, কয়েকটি স্থানে বারোয়ারি উদ্যোগেও রাস উৎসব পালিত হয়।
-
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে কি? অনলাইনে ট্রাইবুনালে আবেদন কিভাবে করবেন? জানুন -
তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, কবে সম্পূর্ণ হবে এসআইআর প্রক্রিয়া? -
বাঙালিই স্বাধীনতার লড়াইয়ের অগ্রদূত, মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় -
নওদায় তৃণমূলের সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, অভিষেক আসার আগেই বিক্ষোভ -
'বন্ধু ভারতের' আরও দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার জাহাজ হরমুজ পারের অনুমতি ইরানের -
জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা! এবার থেকে পেট্রোল পাম্পে পাওয়া যাবে কেরোসিন, কত দিনের জন্য? বড়সড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের -
ভোটের আগেই প্রশাসনে বড় ধাক্কা, নন্দীগ্রাম সহ ৮৩ ব্লকের বিডিও ও এআরও বদলি -
বঙ্গ জুড়ে বদলাচ্ছে পরিস্থিতি! সপ্তাহের শুরুতেই বৃষ্টির সতর্কতা, কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া? জেনে নিন -
২০ শতাংশ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! বাংলার ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে এই কেন্দ্রগুলি -
টলিপাড়ায় শোকের ছায়া, প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় -
তৃণমূলের কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ক্যারম খেলছেন, ভিডিও ভাইরাল, তিন জওয়ানকে সাসপেন্ড করল কমিশন -
দেশজুড়ে সতর্কতা, ১৭ রাজ্যে প্রবল দাপট, ঘণ্টায় ৮০ কিমি বেগে হাওয়ার আশঙ্কা












Click it and Unblock the Notifications