TMC-BJP'র 'সেটিং' তত্ত্ব থেকে বাংলা দখল, বঙ্গের 'পুনর্জাগরণ' নিয়ে কী কী ফাঁস করলেন অমিত শাহ?
আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগেই পশ্চিমবঙ্গের শাসক তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তিনি কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন যে, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ ভয়, দুর্নীতি এবং অপশাসনের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। আর আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সেই পরিবর্তনের রায়ই দেবে।

অমিত শাহ বলেন যে, আগামী এপ্রিল মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই ভোটকে সামনে রেখে রাজ্যের মানুষের মনোভাব একদম স্পষ্ট। তাঁর দাবি, "যে সরকার উন্নয়ন, সংস্কৃতি রক্ষা এবং গরিব মানুষের স্বার্থে কাজ করে, আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাংলার মানুষজন সেই সরকার গঠনের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত আছে। ভয়, দুর্নীতি এবং অপশাসনের রাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়।"
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দায়ী করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত দিয়ে যেভাবে অনুপ্রবেশ হয়ে চলেছে, তা শুধু রাজ্যের জন্যই নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।"
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, "বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী দেশছাড়া করা হবে। এই বিষয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।" স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনায় নতুন করে বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহ আরও বলেন যে, দেশের অন্য সমস্ত রাজ্য সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বিএসএফ-কে জমি দিয়েছে। কিন্তু একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ সরকারই বার বার সেই কাজে বাধা দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, "তৃণমূল সরকার সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবেই উপেক্ষা করছে।"
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দাবি, "এক সময় যেখানে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ছিল মাত্র ৩, সেখানে এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭৭। অন্য দিকে কংগ্রেস কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে আর বাম দলগুলির অস্তিত্বও প্রায় মুছে গিয়েছে।" তাঁর কথায়, "২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রচুর ভোটে জিতে রাজ্যে সরকার গঠন করবে।"
CAA প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেন যে, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক এই কর্মসূচির বিরোধিতা করে তৃণমূল সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প আটকে যাচ্ছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন না।"
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে অমিত শাহ বলেন যে, "দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য হলে দেশপ্রেমিক সরকার দরকার। আর এই কাজ তৃণমূল পারবে না, একমাত্র বিজেপিই পারবে।"
তবে শাহর এই বার্তার পরেই আবার উঠে আসে পুরনো প্রশ্ন। বিজেপি কী সত্যিই বাংলা জিততে চায়, নাকি তৃণমূলের সঙ্গে অন্য কোনও বোঝাপড়া রয়েছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, ভোটের আগে বিজেপি বড় বড় কথা বললেও ভোটের পরে বিজেপি সেরকম লড়াই করে না। এই থেকেই 'সেটিং তত্ত্ব'-এর কথাও উঠে আসে।
এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন যে, "আমরা যখন বলছি ২০২৬-এ বিজেপি সরকার গড়বে, তার মানে এর পিছনে যথেষ্ট কোনও কারণ আছে।"
এরপর একে একে ভোটের অঙ্ক তুলে ধরেন তিনি। শাহ জানান, "২০১৪ সালে বিজেপির ভোট ছিল ১৭ শতাংশ, ২০১৬-তে বিধানসভায় ৩টি আসন, ২০১৯ লোকসভায় ৪১ শতাংশ ভোট, ২০২১ বিধানসভায় ৭৭টি আসন এবং ২০২৪ লোকসভায় প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট বিজেপি পেয়েছে।" তিনি দাবি করেন যে, এই ধারাবাহিক বৃদ্ধিই প্রমাণ করে দেয় যে বিজেপিই ধীরে ধীরে বাংলার প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে।
তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও 'সেটিং'-এর প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, "কংগ্রেস এখন শূন্য, বামদের তো ভোটই নেই। আমরাই এখন প্রধান বিরোধী দল। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরের ধাপে বিজেপি সরকার গঠন হবে।"
বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন এবং সুশাসন হওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, "বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির দিকে তাকালেই উন্নয়নের ছবি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। আর এই একই মডেল বাংলায় প্রয়োগ করাই তাঁদের লক্ষ্য। বাঙালি মনীষীদের স্বপ্নের বাংলা গড়তে চাই আমরা।"
অন্যদিকে অমিত শাহের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার জনসভা থেকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন যে, "বিজেপি সোনার বাংলা গড়ার কথা বলছে, অথচ অন্য রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে।" তিনি প্রশ্ন করে বলেন যে, "এইরকম পরিস্থিতিতে বিজেপি কীভাবে বাংলার উন্নয়নের কথা বলে?"
২০২৬-এর ভোট যতই এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক তরজা জোরালো হচ্ছে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে এখন রয়েছে বিজেপির বাংলা জয়ের দাবি ও সেটিং তত্ত্ব-এর বিতর্ক।
-
একদিনে ২৬৭ আধিকারিক বদলি, কমিশনের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ -
বাঙালিই স্বাধীনতার লড়াইয়ের অগ্রদূত, মহুয়া মৈত্রের বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় -
তৃণমূলের বিধানসভা কমিটি, ভোটের প্রস্তুতি নাকি নেতৃত্বের ভারসাম্য? -
অঙ্গ কলিঙ্গের পথে এবার বঙ্গও, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি সরকার গড়ার ডাক অমিত শাহের -
SIR ইস্যুতে তৃণমূলকে পাল্টা তোপ কেন্দ্রের! 'শুধু বাংলাতেই কেন আদালতের হস্তক্ষেপ?' মমতাকে সরাসরি প্রশ্ন শাহের -
নওদায় তৃণমূলের সভাস্থলে বিশৃঙ্খলা, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, অভিষেক আসার আগেই বিক্ষোভ -
পুরুলিয়ায় মমতার ঝড়, অমিত শাহকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিলেন মমতা -
রবিবার রাজ্যে কালবৈশাখীর সতর্কতা, বৃষ্টির সতর্কতা ৬ জেলায় -
LPG সঙ্কট নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে? আর চিন্তা নয়, সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে ৫ লক্ষ ইন্ডাকশন কুকস্টোভ আনছে সরকার -
রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা! রবিবার পর্যন্ত চলতে পারে অস্থির আবহাওয়া, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জেনে নিন -
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব! বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম, তালিকায় কোন কোন জিনিস? চাপ বাড়ছে বাজারে -
ভোটের আগেই বকেয়া ডিএ নিয়ে নয়া পদক্ষেপ, বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন করে নতুন ঘোষণা রাজ্যের











Click it and Unblock the Notifications