রাজ্য সরকারি কর্মীদের মুখে হাসি! বাজেটে এক লাফে ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা অর্থমন্ত্রী স্বপনের
রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় একটি সুখবর শোনালেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বা ডিএ বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান রাজ্য প্রশাসন। এর ফলে কর্মচারীদের মোট প্রাপ্ত ডিএ-র পরিমাণ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশ থেকে এক লাফে বেড়ে দাঁড়াল ৩৮ শতাংশে।
সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মরত সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগী প্রবীণ মানুষেরা সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন। অর্থমন্ত্রী বাজেটে জানিয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত মহার্ঘভাতার আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।

এদিন সোমবার বিধানসভায় করমুক্ত ও উন্নয়নমুখী বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মচারীরা হলেন রাজ্য প্রশাসনের মূল স্তম্ভ। তাঁদেরকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে কোনও রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজ্য কোষাগারের ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ পড়লেও কর্মীদের স্বার্থ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন ঘোষণার পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র বিপুল ব্যবধান অনেকটাই মিটে গেল। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কর্মরত চাকুরিজীবীরা ৪২ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন বাজেটের সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের কর্মীদের ডিএ বেড়ে ৩৮ শতাংশের ঘর ছোঁয়ায় কেন্দ্রের সঙ্গে এই ব্যবধান এখন কমে দাঁড়াল মাত্র ৪ শতাংশ।
অতীতে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে তীব্র সংঘাত ও টানাপোড়েন চলেছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্য সরকারের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রের সমতুল হারে ডিএ দিতে স্পষ্ট অসম্মতি জানিয়েছিল। কর্মচারীদের দাবি মেনে না নেওয়ায় এই লড়াই শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়িয়েছে।
বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর করা হবে। ফলে দুর্গাপুজোর আগে হাসি ফুটবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মুখে।
| কর্মচারীদের বিভাগ | পূর্ববর্তী মহার্ঘভাতার হার | বাজেটে ঘোষিত নতুন হার | কার্যকর হওয়ার সময়সীমা |
|---|---|---|---|
| রাজ্য সরকারি কর্মচারী | ১৮ শতাংশ | ৩৮ শতাংশ (২০ শতাংশ বৃদ্ধি) | ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে |
| কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী | ৪২ শতাংশ | ৪২ শতাংশ | অপরিবর্তিত |
সরকারি স্তরে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন যে, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর কর্মীদের মধ্যে কাজের প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনা বহুগুণ বেড়ে যাবে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বঞ্চনা ও আর্থিক বৈষম্যের কারণে রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে যে একঘেয়েমি ও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল, তা এই এক ঘোষণায় দ্রুত দূর হয়ে যাবে। নতুন শাসক দল প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এক নিয়মানুবর্তী ও সক্রিয় কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে সফল হবে।
ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণার পাশাপাশি বাজেটে আরও কিছু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যা ভবিষ্যতে রাজ্যের কর্মসংস্থান ও শিল্পে গতি আনবে। প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি কর্মচারীদের পরিকাঠামো মজবুত করার পর লক্ষ্য থাকবে বিভিন্ন দপ্তরে পড়ে থাকা শূন্যপদগুলি অবিলম্বে পূরণ করা এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করা। রাজ্যের সার্বিক বিকাশে এই যৌথ প্রয়াস নতুন দিশা দেখাবে।
প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই এই বিপুল অঙ্কের ডিএ প্রদানের মতো সাহসী ও উন্নয়নমুখী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন সরকার তার সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয়েছে। দীর্ঘ বঞ্চনার কালো মেঘ কাটিয়ে কর্মচারীদের এই নতুন জয় আগামী দিনে রাজ্যের গোটা প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করে তুলবে বলেই সকলের প্রত্যাশা।












Click it and Unblock the Notifications