Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের সমালোচনায় তৃণমূল, স্বাগত জানাল বাম-বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরানো হয়েছে মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজিপি, কলকাতার নগরপাল ও রাজ্যের আইজি আইনশৃঙ্খলাকে। যা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এই পদক্ষেপকে 'গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট জিততে পারবে না এমন একটি দলের আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া' বলে আখ্যা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপি এবং সিপিআই(এম) এই রদবদলকে 'অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি যতই 'পেছনের দরজা দিয়ে রাজনীতি' করুক না কেন, তারা 'পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেকার সম্পর্ককে দুর্বল করতে ব্যর্থ হবে'। তিনি মন্তব্য করেন, বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যপাল বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রদবদল করতে পারে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মন পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই। বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের 'নিজস্ব শাখা' হিসেবে ব্যবহার করে মুখ্য সচিব ও রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের তড়িঘড়ি বদলি করছে।

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, "যাঁকে খুশি সরান, কিন্তু আপনারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে পারবেন না। তিনি ভারতের বাঘিনী, এবং বিরোধীরা যত বেশি তাঁকে টার্গেট করবে, দল তত বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।" তিনি ইসির এই পদক্ষেপকে 'স্বেচ্ছাচারী ও অগণতান্ত্রিক' আখ্যা দিয়ে যুক্তি দেন যে, তারা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্য সচিবকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করেছে।

এর পাশাপাশি, তৃণমূল মুখপাত্র কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজ (এমজিএনআরইজিএ), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (পিএমএওয়াই) এবং জল জীবন মিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকার বেশি তহবিল আটকে রেখেছে। এই তহবিল আটকে রাখা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নিজেদের সংস্থান থেকে মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা প্রদান করে চলেছে।

রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের বলেছেন, "আমি আনন্দিত যে নির্বাচন কমিশন এমন কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে এনেছে, যাঁদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একঘরে করে রেখেছিল বা তাঁদের সরিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ তাঁরা দলের অনুগত ছিলেন না এবং তৃণমূলের সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।"

শুভেন্দু অধিকারী আরও উল্লেখ করেন, "যেসব দক্ষ, পক্ষপাতহীন এবং সৎ আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের তৃণমূল সরকার এতদিন গুরুত্বহীন পদে রেখেছিল, তাঁদের এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থেকে একটি মসৃণ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবেন।"

শুভেন্দু অধিকারীর সুরেই কথা বলেন বিধানসভার বিজেপি মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের আমলাদের একটি অংশ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সম্প্রসারিত শাখা হিসেবে কাজ করছিল। কিছু আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস কর্মকর্তা এমনভাবে কাজ করেন যেন তাঁরা তৃণমূলের সদস্য।

শঙ্কর ঘোষ আরও বলেন, নির্বাচনী সততার জন্য নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি মনে করছেন, এই রদবদল অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। যাঁদের একটি সংকেত পাওয়ার দরকার ছিল, তাঁরা তা পেয়ে গিয়েছেন।

সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী উল্লেখ করেন, যদিও নির্বাচন কমিশন সাধারণত নির্বাচনের সময় কর্মকর্তাদের বদলি করে থাকে, তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের আচরণ এবার এই ধরনের পদক্ষেপকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের অবস্থা এমন যে, একজন কর্মকর্তা তাঁর ইউনিফর্ম খুলে তৎক্ষণাৎ তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য হতে পারেন।" যা তিনি প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন।

তবে সুজন চক্রবর্তী জোর দিয়ে বলেন যে, মূল ফোকাস অবশ্যই ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপর থাকা উচিত। তিনি বলেন, "প্রশ্নটা শুধু কে বদলি হলেন বা কাকে আনা হলো, তা নিয়ে নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ যেন নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারেন।" তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+