Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূলকে তোপ মোদীর, রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কোন দুই বিষয়ে জোর?

বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে দুটো জিনিস হবে। একদিকে সব কা সাথ সব কা বিকাশের লক্ষ্যে হবে উন্নয়নের কাজ। অন্যদিকে, যে টিএমসির গুন্ডারা মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে তাদের জায়গা হবে জেলে।

আজ ব্রিগেডের পরিবর্তন সংকল্প সমাবেশ থেকে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে তোপ দাগলেন অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও।

মোদীর কথায়, টিএমসি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত রাখতে এসআইআর (ভোটার তালিকা সংশোধন) প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। মোদীর দাবি, টিএমসি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গের নানা স্থানে জনবিন্যাসের ভারসাম্য বদলে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যের অনেক স্থানে "জনবিন্যাস পাল্টে গিয়েছে" এবং "বাঙালি হিন্দুদের ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘু করা হচ্ছে"। তিনি অভিযোগ করেন, টিএমসি প্রতিবেশী দেশগুলি থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিরোধিতা করছে। মোদী বলেন, শাসক দল এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ভয় পায়, কারণ এর মাধ্যমে অবৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ চলে যাবে।

মোদী বলেন, "এই লোকেরা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে, যাতে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরানো না যায় এবং ভোটার তালিকা শুদ্ধ না হয়। যাঁরা ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন, তাঁদের নাম সরাতেও তারা রাজি নন।" প্রধানমন্ত্রীর মতে, অনুপ্রবেশ বাংলার জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং টিএমসি সরকার নির্বাচনী লাভের জন্য এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, "টিএমসি-র লাগামহীন অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার জনবিন্যাস অনেক অঞ্চলে পাল্টে গিয়েছে। টিএমসি ইচ্ছাকৃতভাবে অনেক জায়গায় হিন্দুদের সংখ্যালঘু বানাচ্ছে।" এটিকে রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিরোধিতা করছে টিএমসি। এই প্রসঙ্গে মোদী মন্তব্য করেন, "যখন নিপীড়িত হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রশ্ন আসে, টিএমসি এর বিরোধিতা করে, কারণ তারা তাদের নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক মনে করে না।"

মোদী অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রশাসন অপরাধী চক্রের সমর্থনে চলে। তিনি বলেন, "টিএমসি সরকার গুন্ডা ও অপরাধীদের সমর্থনে চলে। তোলাবাজি ও কাটমানি তাদের আয়ের উৎস। এই ধরনের গ্যাংগুলোকে শক্তিশালী করতে তারা অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আসে। অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার রুটি, কন্যা এবং জমি আজ হুমকির মুখে।"

প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে টিএমসি নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করেছে। মোদী বলেন, "টিএমসি নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আক্রমণ করতে ব্যস্ত। এটি লজ্জাজনক।"

মোদী এদিন জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে "সব কা সাথ, সব কা বিকাশ" (সবার সঙ্গে, সবার উন্নয়ন) নীতি অনুযায়ী সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, "একইসঙ্গে প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় এনে হিসাব নেওয়া হবে।"

রাজনৈতিক ভয় দেখানো ও সহিংসতায় জড়িতদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "যারা টিএমসি-র গুন্ডা হয়ে আপনাদের হুমকি দেয়, তাদের ভয়ের দিন শুরু হবে। অপরাধীরা আইনকে ভয় পাবে। অনুপ্রবেশকারীরা আইনকে ভয় পাবে। তোষণ রাজনীতি আইনকে ভয় পাবে। এই ধরনের অপরাধীদের কেবল একটিই জায়গা হবে - জেল, জেল, জেল।"

মোদী বলেন, "টিএমসি ভয়ের রাজনীতিকে তাদের অস্ত্র বানিয়েছে। ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মিডিয়াকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কেউ টিএমসি-কে ভোট না দিলে, তাদের বলা হয় তারা বাঙালি নয়। কেউ টিএমসি-কে ভোট না দিলে, তাদের বলা হয় সরকারি সুবিধা পাবে না।"

এই নির্বাচনকে রাজ্যের ভবিষ্যতের এক নির্ণায়ক লড়াই হিসেবে তুলে ধরে মোদি জনগণের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "কিছু লোক আপনাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। কেউ কেউ বলবে পরিবর্তন অসম্ভব। কিন্তু মনে রাখবেন, যখন মানুষ সিদ্ধান্ত নেয়, তখন কোনও শক্তি তাদের আটকাতে পারে না।" তিনি আরও বলেন, "এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়। এই নির্বাচন বাংলার আত্মাকে বাঁচানোর জন্য। এই নির্বাচন কাটমানি বন্ধ করার জন্য। এই নির্বাচন ভয় থেকে মুক্তির জন্য।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+