Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

স্বপ্নাদেশে শুরু হয় কাঁসারি বাড়ির জগদ্ধাত্রী আরাধনা, জেনে নিন ইতিহাস

স্বপ্নাদেশে শুরু হয় কাঁসারি বাড়ির জগদ্ধাত্রী আরাধনা, জেনে নিন ইতিহাস

পশ্চিমবঙ্গে জগদ্ধাত্রী পুজোর আড়ম্বর দুর্গাপুজোর মতো বিস্তৃত না হলেও, সানন্দে এখনো উৎযাপন করা হয় বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে। এদের মধ্যে চন্দনগর, কৃষ্ণনগর কিংবা গুপ্তিপাড়ার ঐতিহ্যের কথা তো আমরা প্রায় সকলেই জানি। তবে, এর পাশাপাশি কলকাতাতেও বনেদী ও বারোয়ারি মিলিয়ে বেশ কিছু পুজো এখনো বেশ রমরমিয়ে হয়ে আসছে।

স্বপ্নাদেশে শুরু হয় কাঁসারি বাড়ির জগদ্ধাত্রী আরাধনা, জেনে নিন ইতিহাস

বনেদী কলকাতার ঘরবাড়িগুলো দুর্গাপুজোয় যেমন এগিয়ে থাকে বরাবর, তেমনই কালী এবং জগদ্ধাত্রী পুজোতেও একই নিষ্ঠার সঙ্গে আরাধনা করে চলে তাদের আরাধ্য দেবীকে। কলকাতায় যে সব বাড়িতে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা হয়, তাদের অন্যতম জোড়াবাগান কাঁসারি বাড়ির কথা।

এই পরিবারে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা শুরু হয় ১৮২৭ সালে (১২৩৪ বঙ্গাব্দে) স্বর্গীয় রাজেন্দ্র চন্দ্র দাস এবং গোপীনাথ দাসের হাত ধরে। বলা হয় এঁদেরই স্বপ্নাদেশের ফলস্বরূপ দেবীকে আনা হয়েছিল দাস পরিবারে। সেই স্বপ্নাদেশে নাকি দেবীকে সে সময় ভোগ হিসেবে প্যাড়া নিবেদনও করা হয়েছিল। যার ফলে, এখনো প্রতিবছর এই বাড়িতে পুজোর আগের দিন ভিয়েন বসানো হয় প্যাড়া বানাবার জন্য।

জগদ্ধাত্রী যেহেতু মূলত নবমীর পুজো, ফলে সেদিনই সকাল থেকে একে একে পালন করা হয় সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান। এ বাড়িতে পুজো শাক্তমতে হলেও এখন আর আগের মতো পশুবলির চল নেই, সে জায়গায় বলি দেওয়া হয় ইক্ষু, চালকুমড়ো ও শসা। তবে শোনা যায়, আজ থেকে ৪০ বছর আগেও কাঁসারি বাড়িতে রীতিমতো ধুমধাম করে বলিদানের পর্ব চলত, যার মধ্যে ছিল পাঁঠা, মোষ ও ভেড়া বলি।

কলকাতা শহরে সব অঞ্চলে কখনোই চট করে মোষ এবং ভেড়ার দেখা মেলে না। ফলে দক্ষিণ কলকাতার এক নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে মোষ কিনে তাকে জোড়াবাগানে টেনে নিয়ে এসে হাঁড়িকাঠে চড়ানো হতো প্রতিবার। উত্তর কলকাতার গলিপথ জুড়ে বলিপ্রদত্ত মোষের আগমন দেখতে এবং তার গোঙানি শুনতে নাকি পাড়াশুদ্ধু লোক জড়ো হয়ে যেত প্রতিবার পুজোর দিন, কাঁসারি বাড়ির সামনে।

সেসব রক্ষণশীল রীতির দিন কেটে গেছে আজ বহু বছর হলো। তবে মাতৃ আরাধনা এখনো একইরকম ভাবে চলে আসছে এই বাড়িতে। এখনো পুজোর দিন প্রথমে এই পরিবারের জেষ্ঠ্যপুরুষ শ্রী স্বপন কুমার দাসের নামে সংকল্পের মাধ্যমে পূজাপাঠ শুরু হয় দাস বাড়িতে। অষ্টমীর পুজোয় যেমন থাকে অঞ্জলী, কুমারী পুজো এবং ধুনো পোড়ানোর শোভা, তেমনই থাকে মা'কে উৎসর্গ করা প্যাড়াপুজোর বিশেষ রীতি।

একসময়ে, দশমীর দিন দুপুরে যাত্রাপালার আয়োজন করা হতো এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। সেখানে অংশগ্রহণ করতে আসতেন চিৎপুরের নামকরা সব যাত্রাদলের সদস্যরা। সঙ্গে বসত গানের জলসা, যেখানে মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সহ বহু প্রথিতযশা শিল্পীরা একসময় এসে সঙ্গীতমুখর করে তুলতেন কাঁসারি বাড়ির অন্দরমহলকে। সেসব দেখতে আমজনতাও উপচে পড়তেন, কাঁসারি বাড়ি ছড়িয়ে বাইরের রাস্তা অবধি।

আজ সময় এবং অর্থনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে এ বাড়ির পুজোর জৌলুস আগের চেয়ে কমে গেলেও এস্টেটের ভাড়ার সঞ্চয় থেকে এখনো সাধ্যমতো পুজোর আয়োজন করা হয় এই পরিবারে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+