বিজেপিতে ভাঙন ধরাল তৃণমূল! ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী বদলালেন ফুল
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচন শুরু হয়ে গিয়েছে। বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রে ভোট মে মাসের ১৩ তারিখ। তার আগে বিজেপি শিবিরে ভাঙন ধরাল তৃণমূল কংগ্রেস।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ রায় বিজেপি ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূলে।

বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শর্মিলা সরকার গতকালই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। সেই সময় তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিতির হার কম থাকা নিয়ে চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ছিল, গরমের কারণেই বেশি সংখ্যায় কর্মীদের আসতে বারণ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালনায় সাতটি বিধানসভা ক্ষেত্রের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলাদা করে কথা বলেন বিধায়কদের সঙ্গে। কালনা পুরসভার পাশাপাশি মেমারি, রায়নার মতো জায়গাগুলিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা উঠে এসেছিল অভিষেকের সামনেই।
একজোট হয়ে ভোটে লড়ার নির্দেশ দেন অভিষেক। ফল খারাপ হলে পদাধিকারীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও তিনি দেন। মেমারিতেই তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের ঘটনা ঘটেছিল দলীয় প্রার্থীর প্রচারকে কেন্দ্র করেই। সূত্রের খবর, কালনা, জামালপুর, রায়না, মেমারি বিধানসভার সাংগঠনিক চিত্র স্বস্তিতে রাখছে না তৃণমূলকে।
এরই মধ্যে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ রায় আজ যোগ দিলেন তৃণমূলে। তিনি রাজ্য বিজেপির এগজিকিউটিভ কমিটির সদস্য। ১৯৯০ সালে বিজেপির প্রাথমিক সদস্য পদ লাভ করেছিলেন। অ্যাক্টিভ মেম্বারশিপ ১৯৯১ সাল থেকে। ফলে আদি বিজেপির এই নেতাকে দলে টানল তৃণমূল।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তিনি প্রচার প্রমুখের দায়িত্বে ছিলেন। যুব, মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের জন্য বিজেপির স্টেট ইলেকশন ম্যানেজমেন্টের সদস্য হয়েছিলেন ২০২০ সালে। ২০২২ সালে বাঁকুড়া জেলায় পুরভোটের দায়িত্ব ছিল সন্তোষ রায়ের উপর। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
সন্তোষ রায়ের বাড়ি মেমারির চাঁচাইয়ে। আজ বর্ধমানের কালীবাজারে দলীয় পার্টি অফিসে তাঁর হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ প্রমুখ। বিজেপি শিবির অবশ্য এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে তৃণমূলের সুনীল কুমার মণ্ডল ১,১৪,৪৭৯ ভোটে নিকটতম সিপিআইএম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈশ্বরচন্দ্র দাসকে হারিয়ে সাংসদ হন। সেবার সন্তোষ রায় পেয়েছিলেন ১২.৯৩ শতাংশ ভোট। বিজেপি ছিল তৃতীয় স্থানে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে সুনীল কুমার মণ্ডলের জয়ের ব্যবধান ছিল ৮৯,৩১১। বিজেপির পরেশচন্দ্র দাস ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। তৃণমূল ভোট পায় ৪৪.৫২ শতাংশ, বিজেপি ৩৮.৩২ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications