ট্রাইব্যুনাল ছাড় পাওয়া ভোটাররাই পারবেন ভোট দিতে, নচেৎ নয়, এসআইআর মামলার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া ভোটাররা, ভোটের কমপক্ষে দু'দিন আগে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য চূড়ান্ত হলে, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

রাজ্যে ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দু'টি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে, ২১ এপ্রিল (প্রথম ধাপের জন্য) বা ২৭ এপ্রিলের (দ্বিতীয় ধাপের জন্য) মধ্যে যারা আপিল ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমোদন পাবে, তারাই ভোটদানের অধিকারী হবেন।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ সংবিধানের ১৪২ ধারার সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই আদেশটি দেয়। নির্দেশটি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়ের করা পিটিশনগুলির পরিপ্রেক্ষিতে আসে। এসআইআর-এর ফলে ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপক নাম বাদ পড়ায় বিতর্ক দেখা দেয়। ইসিআই ও রাজ্য সরকারের আস্থার সংকটের কারণে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে।

আস্থার সংকট নিরসনে, সুপ্রিম কোর্ট গত ২০শে ফেব্রুয়ারি এসআইআর সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের প্রায় ৯০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে, যার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরাও ছিলেন, নিযুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এই আধিকারিকরা ৬০ লক্ষ আপত্তি নিষ্পত্তি করেছেন, যার ফলস্বরূপ প্রায় ২৭ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য আপিল ট্রাইব্যুনাল গড়ার নির্দেশ দেয়। বর্তমানে ১৯টি ট্রাইব্যুনাল কার্যকর রয়েছে এবং তারা আপিলগুলির শুনানি করছে। আদালত জানিয়েছে, এদের সদস্যদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আপিল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত।

সর্বোচ্চ আদালত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোনো আবেদন মঞ্জুর হলে এবং ভোটার তালিকায় কারো নাম অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত নির্দেশ জারি হলে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটগ্রহণের তারিখের (২৩ এপ্রিল বা ২৯ এপ্রিল) আগেই তা কার্যকর করতে হবে। ১৩ এপ্রিলের আদেশে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়:

"যেখানে আপিল ট্রাইব্যুনালগুলি ২১.০৪.২০২৬ বা ২৭.০৪.২০২৬ এর মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হবে, সেখানেই সম্পূরক সংশোধিত ভোটার তালিকা জারি করে এই আপিল আদেশগুলি কার্যকর করতে হবে এবং ভোটদানের অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত প্রয়োজনীয় ফলাফল অনুসরণ করতে হবে।"

আদেশে আরও বলা হয়েছে: "তবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাদ পড়া ব্যক্তিরা আপিল ট্রাইব্যুনালের সামনে আপিলের অপেক্ষায় থাকলেই তারা ভোটদানের অধিকার পাবেন না।"

আদালতে দায়ের করা আবেদনগুলির মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল। তারা আপিল চলাকালীন নিজেদের নাম পুনর্বহালের আবেদন জানায়। কিন্তু আদালত এই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিতে অস্বীকার করে।

আদালত যুক্তি দেয় যে, আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়া ব্যক্তিদের ভোট দিতে দিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে সংশোধিত তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের ভোটদানে বাধা দেওয়া হতে পারে। আদেশে বলা হয়েছে: "এর ফলে আপত্তি উত্থাপনকারীরাও একইভাবে সংশোধিত ভোটার তালিকায় যাদের নাম আছে, তাদের ভোটদানের অধিকার অস্বীকার করতে চাইবে।"

আদেশটিতে আরও বলা হয়েছে যে, "এটি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উপর যাচাইয়ের দায়িত্ব অর্পণের পূর্বের অবস্থাকেই পুনরুজ্জীবিত করবে। এটি অনুমোদিত হতে পারে না, বিশেষ করে যখন পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা একটি সত্যিই বিশাল কাজ (herculean task) অত্যন্ত অল্প সময়ে সম্পন্ন করেছেন।"

১৩ এপ্রিলের আদেশে আদালত উল্লেখ করেছে যে, ইতিমধ্যেই ৩৪ লক্ষেরও বেশি আপিল দায়ের করা হয়েছে। এই সমস্ত আপিলের বিচার ও নিষ্পত্তি কমিটি কর্তৃক প্রণীত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং ০১.০৪.২০২৬ তারিখের আদেশে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী হওয়া উচিত।

সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর কার্যক্রমে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের অসামান্য উৎসর্গ এবং অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেছে, বিশেষ করে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে তাদের কর্মনিষ্ঠার স্বীকৃতি জানিয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+