মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: ইরান ও রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার অনুমতি বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের, সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতে
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কেনার সাময়িক অনুমতি নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারতসহ কয়েকটি দেশকে দেওয়া এই অনুমতি উঠেই যাচ্ছে বলে খবর।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১১ মার্চের আগে সমুদ্রে থাকা তেল ছাড়ার সাধারণ লাইসেন্সের মেয়াদ ফুরিয়েছে। রিনিউ ছাড়াই এটি বাতিল হবে। তিনি বলেন, “রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর এই সাধারণ লাইসেন্স রিনিউ করব না। সব তেল ইতিমধ্যে ব্যবহার সম্পন্ন হয়েছে।”

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছে। ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ বলবৎ করায়, চিনও ইরানি তেল কেনা বন্ধ করবে বলে ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের। ট্রেজারি সেক্রেটারি বলেন, “আপনারা যদি ইরানি তেল কেনেন বা ইরানি অর্থ ব্যাঙ্কে থাকে, তাহলে নিষেধাজ্ঞা আরোপে আমরা প্রস্তুত।”
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধ বৈশ্বিক তেল সরবরাহকে ব্যাহত করেছে। যদিও ৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আটকে থাকা রুশ তেল আমদানির অনুমতি দেয়। এক সপ্তাহ পর তা অন্যদের জন্যও বাড়ে। ২০ মার্চ, ইরানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
এই সুবিধা বাতিল ও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তেহরানকে চাপে ফেলার জন্য সামরিক নয়, অর্থনৈতিক পদক্ষেপেই জোর দেওয়া হচ্ছে। বেসেন্ট যোগ করেন, “ইরানিদের জানা উচিত, এটা সামরিক পদক্ষেপের মতোই একটি আর্থিক সমতুল্য পদক্ষেপ।”
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ট্রেজারি বিভাগ 'ইকোনমিক ফিউরি’ (Economic Fury) জোরালোভাবে প্রয়োগ করছে। এটি 'অপারেশন এপিক ফিউরি’র ইঙ্গিত, যা এক প্রকার আর্থিক যুদ্ধের সূচনা হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমার আশায় বৃহস্পতিবার সকালে তেলের দাম কমেছে। তেহরান হয়তো হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেবে বলে খবরে ছিল। ওয়াশিংটন ও তেহরান ওমানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার হোয়াইট হাউস ইরানের সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করেছে, তেহরান নমনীয় না হলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে। উত্তেজনা প্রশমন চুক্তি হলে ইরান হরমুজ প্রণালীর ওমান সংলগ্ন পাশ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক ভারত। কঠোর নিষেধাজ্ঞায় তেলের বাজারে চাপ বাড়লেও, ভারত সরকারের দাবি, দেশটির পর্যাপ্ত সরবরাহ ও বৈচিত্র্যপূর্ণ উৎস থেকে তেল কেনার কৌশল আছে। ভারত রুশ তেলের বৃহৎ ক্রেতা, তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানি তেল তার জ্বালানি থেকে প্রায় বাদ পড়েছে।
এই সাময়িক শিথিলতার সুযোগে ভারত গত সপ্তাহে সাত বছরের মধ্যে প্রথম ইরানি তেলের চালান পেয়েছে। দুটি জাহাজে করে প্রায় ৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ভারতে এসে পৌঁছেছে।












Click it and Unblock the Notifications