Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Piyali Basak: এভারেস্টের পর বিনা অক্সিজেনে লক্ষ্য এবার শিশাপাংমা, পাহাড় থেকে রাজনীতির ময়দানেও নামবেন পিয়ালি?

পাহাড়ের প্রতি বাঙালির টান চিরন্তন ও চিরকালীন, সেই টানে বাঙালি বার বার গিয়েছে পাহাড়ে। কখনও তার সুন্দর্য উপভোগ করতে আবার কখনও প্রাণ হাতে করে দুঃসাহসিক অভিযানে। সফল পর্বতারোহীর সংখ্যা বঙ্গ সমাজে কম নয়। সাফল্যের সেই মুকুটে রঙিন পালক পিয়ালী বসাক। বিনা অক্সিজেনে এভারেস্টের পর এবার মিশন শিশাপাংমা অভিযান , পৃথিবীর চৌদ্দ উচ্চতম শৃঙ্গ জয়। এবারও পিয়ালি সঙ্গে নিচ্ছেন না। অক্সিজেন।

রোগা- পাতলা এক স্কুল শিক্ষিকা পিয়ালীকে দেখে বোঝার উপায় নেই তিনি অক্সিজেন সাপোর্ট ছাড়াই পা রেখেছেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে। কিন্তু মনের জোর, আত্মবিশ্বাস ও সাহসকে সঙ্গী করেই অসম্ভবকে সম্ভব করে করে দেখিয়েছেন পিয়ালী। চন্দননগরের বঙ্গ তনয়া যেন পাহাড় কন্যা। কিন্তু শিশাপাংমা অভিযানের জন্য চিন কাউকে অনুমোদন দেয় না, কিন্তু একান্তই শিশাপাংমা অভিযানের অনুমতি না পেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পিয়ালি।

Piyali Basak

সমুদ্র পৃষ্ঠ তল থেকে দুর্গম গগনচুম্বী ২৭,০০০ ফুট উচ্চতার দিগ্বিদিকে যাতে বিশ্ব শান্তি ও পরিবেশ ভাবনার কথা বিকশিত হয় তারই চেষ্টা চলবে এবারের এই অভিযানের সমস্ত পথরেখায়।আগামী ৭ এপ্রিল অভিযান শুরু করছেন পিয়ালি।

তার আগে চন্দননগরের নিজের বাড়িতে বসে ওয়ান ইন্ডিয়াকে একান্ত সাক্ষাৎকারে পিয়ালি বসাক বলেন, এবার আমি আমার অভিযানের মধ্য দিয়ে পরিবেশ সতেচনতার বার্তা দেব। কারণ চারদিকে দূষণ হচ্ছে এবং পরিবেশকে কলুষিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চলছে যুদ্ধ। এতে শিশুদের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমার অভিযানে এই বিষয়গুলি বার্তা থাকবে।

অক্সিজেন ছাড়া কতটা কঠিন এই অভিযানগুলি, এই প্রসঙ্গে পিয়ালি বলেন, এটা অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। কারণ অক্সিজেন নিয়েই এভারেস্ট সহ এই শৃঙ্গগুলিতে উঠা যায় না। কিন্তু পাঁচ বছর বয়স থেকেই পাহাড়ে উঠা আমার কাছে অভ্য়াস। বয়স যত বেড়েছে ততই অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ফলে অন্যরা পাহাড়ে গিয়ে যে ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন সেটা আর সামলাতে হয় না। বরং অন্যদের অভিযানে সময় শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, আমার সেটা স্বাভাবিক থাকে। পাশাপাশি অন্যরা খেতে পারেন না। কিন্ত আমার খুব খিদে পায়। ফলে শরীরে খাবার থাকায় এনার্জি্ও থাকে।

২০২২ সালে এভারেস্ট জয় করেই সংবাদ শিরোনামে আসেন পিয়ালী। কিন্তু তার আগের যাত্রাপথটা সহজ ছিল না পিয়ালীর জন্য। এভারেস্ট-এ উঠার পথটা যতটা কঠিন ছিল তার থেকে শক্ত ছিল চন্দননগরের কাঁটাপুকুর থেকে নেপালের বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো। পর্বতপ্রেমী পিয়ালীর এভারেস্ট জয় করার স্বপ্ন সেই ছোট থেকেই। জীবনে বয়স যত বেড়েছে ততই পাহাড়ের প্ৰতি টান বেড়েছে। কিন্তু এক সাধারণ ঘরেই মেয়ের এভারেস্ট জয় করার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে এক ঘাত প্রতিঘাতের কাহিনি।

চ্যালেঞ্জ শুধু শারীরিক নয় সঙ্গে আর্থিকও। কারণ এর আগে বিপুল ঋণ নিয়ে বাড়ি বন্দক রেখে এভারেস্ট অভিযান করেছিলেন। এবারও সেই সমস্যার মধ্য়েই পিয়ালিকে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ থেকে একাধিক সংস্থা তাঁর পাশে থেকেছেন। এই প্রসঙ্গে পিয়ালি বলেন, আমাকে বিপদ শঙ্কুল পরিবেশের মধ্যে দিয়েই যেতে হয়, এখানে হার মানে মৃত্যু। কিন্তু তার পরও যখন আর্থিক চাপ থাকে সেটা আরও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু আমার শহরের বাসিন্দারা আমার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি এবার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ক আমাকে স্পনসর করছেন।

এভারেস্ট জয়ের আগেই এক কঠিন পথ পেরোতে হয় পিয়ালীকে। মানসিকভাবে প্রস্তুতির সঙ্গেই ছিল আর্থিক চ্যালেঞ্জ। কারণ বড় কোনও স্পনস্বর পিয়ালীর ছিল না। মূলত ক্রাউন্ড ফান্ডিং ছিল পিয়ালীর ভরসা। সেই টাকা জোগাড় করে যখন রেজিস্ট্রেশন করে নেপালের বেস ক্যাম্পে পৌঁছালেন তখন এভারেস্ট আরোহনের নির্দিষ্ট সময়( যখন ভালো আবহাওয়া থাকে) পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু অসীম সাহসী পিয়ালী তুষার ঝড়ের পূর্বাভাসকে সঙ্গী করেই শুরু করেন ঝুঁকির যাত্রা। পিয়ালী জানতেন তুষার ঝড়ের মধ্যে পড়লে প্রাণ নিয়ে ফেরা সম্ভব নয়। কিন্তু পাহাড় জয় করার নেশা যার শিরা উপশিরাতে তাঁর কাছে যে কোনও চ্যালেঞ্জই গ্রহণযোগ্য।

কিন্তু এত সাহস কোথায় পেলেন পিয়ালী? আসলে পর্বত আরোহনের নেশা ছোট থেকেই। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ডে কেদারনাথে মেঘ ভাঙা বৃষ্টি হয়। সেই সময় সেখানেই সামিটে গিয়েছিলেন পিয়ালী। কিন্তু ইন্ডিয়ান মাউন্টেন সংস্থা সারা দেশ থেকে ১০ জন মহিলাকে সেখানে উদ্ধার কাজে নিয়োগ করে ছিলেন, বাংলার একমাত্র মুখ ছিলেন পিয়ালী। সেই অভিজ্ঞতা এভারেস্ট জয়ের থেকে কোনও অংশে কম নয় পিয়ালীর কাছে। টানা তিন দিন তুষার ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। তার মধ্যে থেকেই ১০০ জন তীর্থ যাত্রীকে উদ্ধার করেন পিয়ালীরা। সেই অভিজ্ঞতা এভারেস্ট জয়ের ক্ষেত্রে অনেকটা কার্যকরী হয়েছে পিয়ালীর জন্য।

শুধু পর্বত জয়ই নয় নাগরিক সমাজের কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে। এবার কি রাজনীতিতে আসবেন, এই প্রসঙ্গে পিয়ালি বলেন, নাগরিক হিসাবে সমাজের অন্যায়ের প্রতিবাদ সব সময়ই করি। আমি সব স ময়ই চায় আমার জন্য যে সাধারণ মানুষ এত কিছু করেছেন তাদের জন্য আমিও কিছু করব। তবে রাজনীতিতে এখনই আসার ইচ্ছে নেই। আমার ইচ্ছে একটা অ্যাকাডেমি চালু করার। কারণ এখানে সেই রকম পরিকাঠামো বা সুযোগ সুবিধা নেই। ক্রিকেটের মতো অর্থ নেই। ফলে ইচ্ছে থাকলেও তরুণ প্রজন্ম পর্বতারোহনে আসছে না।

সম্প্রতি এসএসসি মামলায় রাজ্যের বহু শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। পিয়ালি নিজেও একজন শিক্ষিকা। ফলে যোগ্য শিক্ষকরদের প্রতি ব্যাথীত পিয়ালি। তাঁর কথায়, আমি নিজে একজন শিক্ষি্কা তাই জানি কত পরিশ্রম করে এই চাকরি পেতে হয়। কিন্তু যখন কোনও দেোষ ছাড়াই এই চাকরি চলে যায় সেটা অত্যন্ত কঠিন হয়। যেভাবে অযোগ্যরা শিক্ষাঙ্গনে ঢুকে পড়ছেন সেটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ক্ষতি।

এভারেস্টের চূড়ায় এক বঙ্গ কন্যা জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে। বাঙালির কাছে এমন গর্বের ফ্রেম খুব কমই আছে। শুধু ২ মাসের লড়াই ছিল না । ৫ বছর বয়সে কিশলয় বইয়ের পাতায় এভারেস্ট গল্প পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখা শুরু। স্বপ্ন দেখেন অনেকেই কিন্তু স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন খুব জনই। পিয়ালী শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণই করেননি গর্বিত করেছেন গোটা বাংলা ও দেশকে। শুধু এভারেস্ট জয় করেই থেমে থাকেননি লোৎসে জয় করার চ্যালেঞ্জটা নেন একই সঙ্গে। সেই অভিযান সফল ভাবে করে সাউথ কলে ফিরে আসেন। এবার নতুন মিশন, নতুন লক্ষ্য, পিয়ালী কাহিনী যেন থ্রিলার ওয়েব সিরিজকেও হার মানাবে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+