Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

এলপিজি সঙ্কটের মাঝে কলকাতায় রমরমা কালোবাজারি! চলছে প্যানিং বুকিং, বন্ধের দোরগোড়ায় বহু হোটেল-রেস্তরাঁ

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ এখন শহর কলকাতাতেও। এর জেরে শহর জুড়ে রাতারাতি এলপিজি সিলিন্ডার কেনার হিড়িক পড়ে গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে রান্নার গ্যাসের বুকিং, আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।

রিপোর্ট বলছে, সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই তীব্র চাহিদা সাধারণ এলপিজি বিতরণে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (পিএমইউওয়াই)-এর অধীনে গরিব পরিবারের জন্য নির্ধারিত সিলিন্ডারগুলোও এখন কালোবাজারে বহু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তেল কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যে তা স্পষ্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস সিলিন্ডারের বুকিং ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সিলিন্ডার বুকিং ৫ মার্চ ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ২.৫ লাখ থেকে বেড়ে ৯ মার্চের মধ্যে প্রায় ৫.৮ লাখে পৌঁছে গেছে।

ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL) সহ সব তেল বিপণন সংস্থাগুলির মিলিত পরিসংখ্যান দেখলে এই চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। একই সময়ে, সম্মিলিত বুকিং ৩.৯ লাখ থেকে বেড়ে ৭.৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাভাবিক দিনে রাজ্যের প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে।

সাধারণত, ইন্ডিয়ান অয়েল এর মধ্যে ৩ লাখের বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করে, বাকিটা BPCL ও HPCL থেকে আসে। মূলত ছাত্রছাত্রী এবং এমন ভাড়াটিয়ারা কালোবাজারের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যাদের নিজস্ব গ্যাস সংযোগ নেই। তবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আতঙ্কিত বুকিং সাময়িকভাবে বিতরণ নেটওয়ার্ককে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, যার ফলে অবৈধ ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা লোটার সুযোগ পাচ্ছে।

কলকাতার ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এবং জেলা থেকে আসা মানুষ ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। তাদের অনেকেরই স্থায়ী এলপিজি সংযোগ না থাকায় এখন সমস্যায় পড়ছেন। বর্তমান তীব্র ঘাটতির কারণে, এমনকী যাদের সরকারি এলপিজি সংযোগ আছে, তারাও এখন কালোবাজারের দিকে ঝুঁকছেন।

শুধু গৃহস্থালি নয়, শহর কলকাতার রেস্তোরাঁ ও খাদ্য ব্যবসাও এই সঙ্কটে ভীষণভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলপিজি-র ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আর শিল্প সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে যে, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

শিল্প প্রতিনিধিদের মতে, কলকাতার বর্তমান পরিস্থিতি বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের মতো অন্যান্য শহরেও রেস্তোরাঁগুলির একই ধরনের অভিযোগের প্রতিফলন। ন্যাশনাল রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI) জানিয়েছে, এই ক্ষেত্র বাণিজ্যিক এলপিজি-র উপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তাই জ্বালানি সরবরাহে কোনো দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত ব্যাপকহারে রেস্তোরাঁ বন্ধের কারণ হতে পারে।

NRAI-এর কলকাতা শাখার প্রধান পীযূষ কাঙ্কারিয়া উল্লেখ করেছেন, শহরে প্রায় ৫ হাজার রেস্তোরাঁ আছে এবং সদস্যদের মধ্যে একটি দ্রুত সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানেই রান্নার জ্বালানি প্রায় ফুরিয়ে আসছে।

কাঙ্কারিয়া বলেন, "প্রায় ৪০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অবিলম্বে কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছে। আর বাকি ৩০-৪০ শতাংশ জানিয়েছে যে তাদের সীমিত স্টকের কারণে তারা হয়তো আর মাত্র কয়েকদিন তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+