Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চাঁদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন চার মহাকাশচারী। নাসার 'আর্টেমিস ২ (Artemis II)' মিশনের অংশ হিসেবে এই দলটি প্রায় পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও মানুষের চাঁদ অভিযানের নতুন এক অধ্যায় শুরু করল।

-

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার (Kennedy Space Center) থেকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ বিশাল রকেটে চেপে যাত্রা শুরু করেন তিনজন মার্কিন এবং একজন কানাডীয় মহাকাশচারী। রকেট উৎক্ষেপণের সময় গোটা এলাকা তুমুল গর্জনে মুখর হয়ে ওঠে, আর সেখানে উপস্থিত দর্শকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

কারা আছেন এই অভিযানে?

এই মিশনে রয়েছেন রিড উইজম্যান (Reid Wiseman), ভিক্টর গ্লোভার (Victor Glover), ক্রিস্টিনা কক (Christina Koch) এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন (Jeremy Hansen)। যাত্রা শুরুর আগে হ্যানসেন বলেন যে, "সমগ্র মানবজাতির পক্ষ থেকে আমরা এই অভিযানে যাচ্ছি।"

কী হবে এই মিশনে?

এই সফরটি প্রায় ১০ দিনের। মহাকাশচারীরা এই সফরে চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসবেন, তবে অবতরণ করবেন না। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হল নতুন মহাকাশযানের নিরাপত্তা এবং কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা। সেইসঙ্গে ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও পরীক্ষা চালানো হবে।

এই অভিযানটিতে একাধিক ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। সমস্ত কিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে, এই দলটি পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার নতুন রেকর্ডও গড়তে পারে।

নতুন রকেটের প্রথম মানবযাত্রা

এই মিশনে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (Space Launch System) ব্যবহৃত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত এবং স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনার একটি অংশ।

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মিশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা রকমের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বারবার মিশনটি পিছিয়ে যায়। এমনকি রকেটকে পরীক্ষা করার জন্য ফেরত নিয়ে যেতেও হয়েছিল। অবশেষে সমস্ত বাধা পেরিয়ে সফলভাবে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়।

২০২৮ সালের মধ্যে এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের অবতরণের পথ তৈরি করতে চাইছে নাসা। সেইসঙ্গে, মহাকাশ গবেষণায় অন্য দেশগুলির সাথে প্রতিযোগিতাও এই পরিকল্পনার বড় একটি দিক।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার জন্য ফ্লোরিডার 'স্পেস কোস্ট'-এ প্রায় চার লক্ষ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন, যা এই অভিযানের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে দেয়।

চাঁদ দেখতে শুষ্ক এবং নির্জীব হলেও সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। যেমন টাইটানিয়াম, লোহা এবং কিছু বিরল উপাদান, যা পৃথিবীতে খুবই কম পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো ভবিষ্যতে খননের জন্য অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাছাড়াও হেলিয়ামের মতো উপাদানও সেখানে রয়েছে, যা আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হল জল। চাঁদের মাটির মধ্যে, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের অন্ধকার গহ্বরে বরফ আকারে জল জমে রয়েছে। আর ভবিষ্যতে মানুষের বসবাসের জন্য এই জল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পানীয় জল, অক্সিজেন এবং জ্বালানি তৈরি করার জন্য এই জল ব্যবহার করা যাবে।

নাসার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হল, মঙ্গল গ্রহে মানুষকে পাঠানো। কিন্তু সেই পথে অনেক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তাই একটি পরীক্ষাগার হিসেবে চাঁদকে ব্যবহার করতে চাইছে তারা। আগে থেকেই এখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করে নেওয়া হবে, যেমন বাতাস এবং জলের সরবরাহ, বসবাসের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং মহাকাশের চরম পরিবেশে টিকে থাকার উপায়গুলি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই সমস্ত পরীক্ষাগুলো যদি সরাসরি মঙ্গলে করা হয় তাহলে ঝুঁকি অনেকটা বেশি। তাই এই সমস্ত প্রযুক্তি যাচাই করার জন্য চাঁদই হল সবথেকে নিরাপদ জায়গা।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+