সোনার বাংলা গড়ার শপথ! অমিত শাহের কথায় রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা ও সিএএ পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত
কলকাতার বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের কাজের খতিয়ান জনগণের দরবারে পেশ করেছেন। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এই মহাসভায় তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের সময় দল জনগণের কাছে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে 'সোনার বাংলা’ গড়ার যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। বর্তমান প্রশাসনের কাজের গতি ও আন্তরিকতা দেখে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী যে আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচনী ইস্তাহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে সক্ষম হবে বর্তমান রাজ্য সরকার।

এদিন সোমবারের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভায় অমিত শাহের বক্তব্যে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা, শরণার্থী সমস্যা সমাধান ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বের বিষয়গুলি বিশদভাবে উঠে আসে, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ প্রসঙ্গ নিয়ে একটি বড় ঘোষণা করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে, ওপার থেকে চলে আসা শরণার্থী পরিবারগুলিকে সিএএ আইনের অধীনে ভারতের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এর ফলে লক্ষ লক্ষ শরণার্থী পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি ও অধিকার আগামী দিনে সুরক্ষিত হতে চলেছে।
এর পাশাপাশি পূর্ব সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ বা অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা রুখতে কেন্দ্র সম্পূর্ণ শূন্য সহনশীলতা বা 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখবে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এই বিষয়ে কোনওরকম শৈথিল্য প্রদর্শন করা হবে না।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নতুন সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিশীল ও তৎপর সিদ্ধান্তের কারণেই সীমান্ত সুরক্ষার কাজ এত দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক সীমান্ত রক্ষা ব্যবস্থাকে পূর্বের তুলনায় আরও নিশ্ছিদ্র করে তুলবে।
অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগেই পূর্ব কলকাতায় ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির উদ্দেশে একটি বিশাল স্মারক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এখানে এই মহান চিন্তাবিদের স্মরণে একটি ১২৫ ফুট উঁচু ব্রোঞ্জের তৈরি সুউচ্চ মূর্তি স্থাপন করা হবে, যা বাংলার নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও জাতীয় সংহতির মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ করবে।
এই গৌরবময় অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উদযাপনী সভার দর্শকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই বিশেষ দিনটি সমগ্র দেশের জন্য এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের পাতায় অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ও অপরিসীম তাৎপর্য বহনকারী দিন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ভারতের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার ক্ষেত্রে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক অবদানের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকেন্দ্রিক একাত্মতার ভাবধারা রক্ষাকারী এবং দেশের মানুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গকারী এক মহান দূরদর্শী নেতার চিন্তাধারা আজও আমাদের সঠিক পথপ্রদর্শন করে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, কলকাতার বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণের এই সমাবেশ থেকে অমিত শাহের দেওয়া জোরালো বার্তা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রে একটি নতুন হাওয়া নিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই প্রকাশ্য ও নিরঙ্কুশ সমর্থন প্রমাণ করে যে, এই মুহূর্তে কেন্দ্রের নীতিনির্ধারক মহল পশ্চিমবঙ্গের শান্তি, স্থায়িত্ব ও উন্নয়নের রোডম্যাপ তৈরির ব্যাপারে কতটা সহায়ক।
নির্বাচনী ইস্তাহারে করা সামাজিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতিগুলি একের পর এক বাস্তবায়নের উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গে সীমান্ত সমীক্ষা করা এবং উন্নয়নমূলক কাজের সরাসরি তদারকি সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনের ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করছে। পাঁচ বছরের এই পরিকল্পিত কাজের গতি আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নতুন দিশা দেখাবে।
সামগ্রিকভাবে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে ডাবল ইঞ্জিন বিশিষ্ট শাসন ব্যবস্থার যে রূপরেখা তুলে ধরা হল, তা রাজ্যের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘকালের সামাজিক অধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এখন সরকার দৃঢ়পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications