ইরান সংঘাতে দূরত্ব লন্ডনের, আত্মরক্ষায় অনড় স্টার্মার
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ ঘনিয়ে উঠতেই অবস্থান স্পষ্ট করল লন্ডন। ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় ব্রিটেনের কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই, এমনটাই দৃঢ়ভাবে জানালেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার। তাঁর কথায়, ব্রিটিশ ভূখণ্ড বা ঘাঁটি ব্যবহার করা হলেও তা কেবলমাত্র 'আত্মরক্ষামূলক' ও সীমিত উদ্দেশ্যে, কোনও আক্রমণাত্মক অভিযানে নয়।
স্টার্মার স্মরণ করিয়ে দেন ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। সে সময় আমেরিকার সঙ্গে যৌথ অভিযানে অংশ নিয়েছিল ব্রিটেন, লক্ষ্য ছিল ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের শাসন অবসান। কিন্তু সেই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবেও ধরা হয় ওই যুদ্ধ পরবর্তী বিতর্ককে। সেই ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করেই স্টার্মারের মন্তব্য "ইরাকের ভুল আমরা ভুলিনি, সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েছি।"

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, মার্কিন বাহিনী ব্রিটিশ কিছু সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করলেও তা একান্তই প্রতিরক্ষামূলক প্রয়োজনের খাতিরে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ঠেকাতে ও পশ্চিম এশিয়ায় ব্রিটিশ নাগরিক ও সেনাকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা এই সংঘাতে যোগ দিচ্ছি না। তবে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। স্টার্মারের কথায়, ইরানের কিছু হামলা প্রতিহত করতেও তারা সফল হয়েছে। তবে লন্ডনের অবস্থান আলোচনাই একমাত্র টেকসই সমাধান।
গত শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হয়েছে। পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। শুধু ইজরায়েলই নয়, যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেও হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এমনকি ব্রিটিশ ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি লন্ডনের।
স্টার্মার এক ভিডিও বার্তায় জানান, "গত দু'দিন ধরে ইরান এমন দেশগুলিতেও আক্রমণ চালাচ্ছে, যারা তাদের উপর হামলা করেনি। ব্রিটিশ নাগরিকেরা যেখানে রয়েছেন সেই হোটেল, বিমানবন্দরও রেহাই পাচ্ছে না।" তাঁর হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমানে প্রায় দু'লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিক অবস্থান করছেন।
ইরানে হামলার জেরে নিহত হয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনি। তবে তাঁর মৃত্যুর পরেও সংঘাত থামেনি, বরং আরও বিস্তৃত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে থাকা ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলিও। বাহরিনে একটি ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্টার্মার। যদিও তাঁর দাবি, ব্রিটিশ সেনারা অল্পের জন্য বড় ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
চূড়ান্ত উত্তেজনার মধ্যেও ব্রিটেন নিজেদের অবস্থান কূটনৈতিক পরিসরেই রাখতে চায়, এমনই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, "সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতেও ইরান পিছু হটেনি, বরং আরও বেপরোয়া হয়েছে। তবু আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়াব না। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব শুধু পশ্চিম এশিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের স্বার্থেই।"
যুদ্ধের ধোঁয়াশার মাঝে তাই লন্ডনের বার্তা একটাই আগুনে ঘি নয়, বরং কূটনীতির জল ঢালাই এখন সময়ের দাবি।
-
প্রতিশোধের ডাক ইরানের, শেষ না করা পর্যন্ত থামব না ট্রাম্পের হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের আশঙ্কা -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচে সতর্ক ভারত, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জ্বালানি মজুতের খোঁজে তৎপর কর্তৃপক্ষ -
অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্যের মাঝে কূটনৈতিক বার্তা, ইজরায়েলের পাশে থাকার জন্য মোদীকে ধন্যবাদ নেতানিয়াহুর -
হরমুজ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই আগুনে পুড়বে জাহাজ! প্রণালী বন্ধ করে কড়া হুঁশিয়ারি তেহরানের -
ইজরায়েল ও ইরান সংঘাতে অশান্ত আকাশপথ, মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক উড়ান বাতিল ভারতীয় বিমান সংস্থার -
পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা, সৌদি যুবরাজ ও বাহরিনের রাজার সঙ্গে ফোনালাপে শান্তির বার্তা মোদীর -
অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরান কাঁপল, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনাচ্ছে -
'যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই'! আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন মোদীর, কী কথা হল? -
পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার মাঝে নয়াদিল্লির সতর্ক পদক্ষেপ, শান্তির ডাক দিল ভারত -
খামেনি হত্যাকাণ্ডে কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে তোপ, সংসদে খোলামেলা বিতর্কের দাবি সোনিয়া গান্ধীর -
যুদ্ধের ধাক্কা! বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন, কত বাড়ছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? চাপে ভারত -
পাক-আফগান সংঘাতে নতুন মোড়! অপারেশন সিঁদুরের পর ফের টার্গেটে নূর খান, ড্রোন হামলায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য












Click it and Unblock the Notifications