Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

খামেনি হত্যাকাণ্ডে কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে তোপ, সংসদে খোলামেলা বিতর্কের দাবি সোনিয়া গান্ধীর

ইজরায়েল ইরান সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেসের শীর্ষনেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতাকে তিনি 'নিরপেক্ষতা' নয়, বরং 'দায় এড়ানো' বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে সংসদে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার দাবি তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী বলেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতিতে গভীর অভিঘাত সৃষ্টি করেছে। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী পদক্ষেপ।

প্রসঙ্গত, ১ মার্চ ইরান সরকার জানায়, আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা খামেনেই নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরেও ভারত সরকার স্পষ্টভাবে নিন্দা জানায়নি এ কথা উল্লেখ করে সোনিয়া প্রশ্ন তোলেন, "একটি স্বাধীন দেশের প্রধানকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হলে ভারত কি শুধুই নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?"

প্রধানমন্ত্রী ননরেন্দ্র মোদীর ভূমিকাও তিনি সমালোচনার মুখে তোলেন। তাঁর দাবি, প্রথমদিকে মার্কিন ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের নিন্দা করেন। পরে 'সংলাপ ও কূটনীতির' কথা বললেও, সেই প্রক্রিয়াই তো হামলার আগে চলছিল এমন মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেত্রী।

সোনিয়া গান্ধী আরও উল্লেখ করেন, ইউনাইটেড নেশনস সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনও রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ। এই নীতির সরাসরি লঙ্ঘন হয়েছে বলে তাঁর অভিমত। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের উচিত ছিল স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া, নীরবতা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার স্বাভাবিকীকরণে সাহায্য করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সোনিয়া। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েল সফর থেকে ফিরেছেন এবং সে সময় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। গাজা সংঘাতে নারী শিশু সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন ভারতের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন প্রশ্ন তুলছে বলে দাবি তাঁর।

কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই ইরানের মাটিতে বোমাবর্ষণ ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্য, ভারতের সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ শান্তিপূর্ণ সমাধান ও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি প্রতিশ্রুতির কথা বলে। সার্বভৌম সমতা, অহস্তক্ষেপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা এই নীতিগুলিই দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কূটনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের নীরবতা সেই ঘোষিত নীতির সঙ্গেই অসঙ্গতিপূর্ণ বলেই মনে করছে কংগ্রেস।

সব মিলিয়ে, ইরান ইজরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সংসদে এই ইস্যুতে সরব আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছে বিরোধী শিবির।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+