• search

তিন বছরের বৃষ্টি এক দিনেই! ওমানে 'মেকুনু'-র ধ্বংসলীলা, মৃত অন্তত ১৩

Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোনে তছনছ হয়ে গেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ ওমান। ঘুর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনেও। ওমানের সরকারি মতে, সাইক্লোন 'মেকুনু'-র দাপটে একদিনেই তিনবছরের বৃষ্টি হয়। তীব্র ঝোড়ো হাওয়া ও অত্যধিক বর্ষণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যর খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ওমানে মেকুনু-র দাপটে তিন বছরের বৃষ্টি এক দিনেই!

    সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণ ওমানের দোফার প্রদেশের সালাহ শহরের। সাইক্লোন মেকুনুর প্রভাবে এই শহরে হড়পা বান নেমে আসে। একদিনে ২৭৮.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে এই শহরে। যা ওমানের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের তিনগুন। সাইক্লোনিক স্টর্ম 'মেকুনু' আছড়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সালাহ শহরটির রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যায়। আটকে পড়ে বহু বাস ও গাড়ি। চালকরা রাস্তাতেই গাড়িগুলি ফেলে পালাতে বাধ্য হন। দুর্যোগের জেরে সালাহ শহরে আটজন নিখোঁজ। মৃত ১৩ জনের মধ্যে একজন ১২ বছরের কিশোরী। পুলিশ জানিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ায় ধাতব দরজায় মাথা ঠপুকে ওই কিশোরী মাথায় একটি এসে সজোরে আঘাত করে। তাতেই তার মৃত্যু হয়েছে।

    ওমানে মেকুনু-র দাপটে তিন বছরের বৃষ্টি এক দিনেই!

    এমনিতে শুখা আবহাওয়ার দেশ ওমান। সেই দেশেরই শুকনো খাঁড়িগুলি দিয়ে এখন তীব্র গতিতে জলের স্রোত বইছে। ওমানের সমুদ্র উপকূলগুলি পর্যটকদের অত্যন্ত প্রিয়। কিন্তু এখন সেখানে একজন পর্যটকও চোখে পড়ছে না। এর বদলে এখন বেলাভূমিতে রাশি-রাশি ধ্বংসস্তূপ। রাস্তা জুড়ে পড়ে রয়েছে বিশাল গাছ। দুরযোগে ধ্ংংসস্তূপ সরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফুিরতে সালাহ শহরে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে মনে করা হচ্ছে।

    এদিকে, ভারতের মৌসুম ভবন এই সাইক্লোনকে 'অত্যন্ত তীব্র' বলে বর্ণনা করেছে। দিল্লিতে অবস্থিত মৌসুম ভবনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘন্টায় প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিমি বেগে ঝড় বয়ে গিয়েছে ওমানের ওপর দিয়ে। কোথাও কোথাও ঝড়ের দাপট পৌঁছেছিল ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটারের ওপরেও।

    সাইক্লোনের পর থেকে এখনও পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে সালাহ বন্দর। সৌদির নেতৃত্বাধীন পাঁচটি আরব দেশের জোট কাতারকে অবরুদ্ধ করার পর থেকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বানিজ্য ও অন্যান্য কাজে এই বন্দরটির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে থাকে কাতার। বন্দরটি ওমানের গেটওয়ে বলেও পরিচিত। কাজেই এই বন্দরটি বন্ধ থাকলে ব্য়াহত হবে ত্রাণ পরিষেবাও। তবে তীব্র ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে বড় বড় ক্রেনগুলিকে রক্ষা করা গিয়েছে বলে জানিয়েছে সালাহ বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে এখনও সালাহ বন্দরকে তারা 'নিরাপদ' বলছেন না। তাঁদের অনুমান আরও অন্তত ৭২ ঘন্টা লাগবে বন্দরের স্বাভাবিক কাজ চালু করতে।

    ওমানে মেকুনু-র দাপটে তিন বছরের বৃষ্টি এক দিনেই!

    এদিকে দোফার প্রদেশের প্রাইভেট কোম্পানি ও এস্টাবলিশমেন্টগুলিতে তিনদিনের ছুটি ঘোষণা করেছেন সেদেশের শ্রমমন্ত্রক। সেইসঙ্গে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কও তিনদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। বন্ধ থাকছে মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, ব্যাঙ্ক, ফিনান্স ও লিজ দানকারী সংস্থাগুলির দপ্তর। দেশের প্রায় ৫০০ টি পরিবার সাইক্লোন মেকুনুর দাপটে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই বিপদের সময়ে ব্যাঙ্ক সেক্টর বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের সমস্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা।

    ওমানে আছড়ে পড়ার আগে অবশ্য মেকুনু তার আগমন জানান দিয়েছিল ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপে। আরব সাগরের বুকের এই দ্বীপটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড ন্যাচারাল হেরিটেজ সাইট-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু মেকুনুর দাপটে চুড়ান্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দ্বীপটি।

    ওমানে মেকুনু-র দাপটে তিন বছরের বৃষ্টি এক দিনেই!

    অল্পের ওপর দিয়ে রক্ষা পেয়েছে সালাহ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর। সাইক্লোনেরর পূর্বাভাষ আগেই ছিল। সেইমতো আগে থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করায় খুব বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি বিমানবন্দরকে। সাইক্লোনের ধ্বংসলীলা চলাকালীন বন্ধ রাখা হলেও ইতিমধ্যেই বিমান চলাচল শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পুরোটা সামলে উঠতে এখনও অনেক দিন লাগবে। মেকুনুর দাপটে অনেক বাড়়ির চাল উড়ে গিয়েছে। ধসে পড়েছে কোনও কোনও বাড়ির দেওয়াল। অধিকাংশ জায়গাতেই বন্ধ বিদ্যুত পরিষেবা। বহু জায়গায় মিলছে না পাণীয় জলও। সব মিলিয়ে ওমান জুড়ে এখন মেকুনুর ক্ষতচিহ্ন আর হাহাকার।

    English summary
    A disastrous cyclone Mekunu slammed the Gulf country Oman and caused an immidiate flash flood leaving 13 dead.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    Notification Settings X
    Time Settings
    Done
    Clear Notification X
    Do you want to clear all the notifications from your inbox?
    Settings X
    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more