Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

৭৭ বছরেও সেতু নেই, ভোটও নয়, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারে বিহারের গ্রামবাসীদের হতাশা চরমে

বিহারে নির্বাচন জোরকদমে চলছে। উন্নয়ন, নারী সুরক্ষা, যুবশক্তি এসব ইস্যুতেই ভোটের হাওয়া বইছে। কিন্তু গয়া থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের কয়েকটি গ্রাম যেন থমকে আছে। উন্নয়ন সেখানে এখনও আশা নয়, স্বপ্নও নয় বরং বেঁচে থাকার এক অসম্ভব সংগ্রাম।

মহোরহার নদীর তীরে অবস্থিত পাঠড়া, হেরহঞ্জ ও কেওয়ালডিহ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষের একটাই দাবি একটি সেতু। গত ৭৭ বছর ধরে অপেক্ষা করেছে বাসিন্দারা, কত নেতা এলেন গেলেন কথা দিলেও তা এখনও অধরা, সেতু তৈরি হয়নি। তাই এবার সেতুর দাবী পূরণ না হলে ভোটও নয়, কার্যত গ্রামবাসীদের ভোট বয়কটের ঘোষণা।

এক মহিলা ভোটারের কথায়, "৭৭ বছর ধরে আমরা একই কষ্ট করছি। বর্ষায় নদীর জল বুকে এসে ঠেকায়। বাজারে যাওয়া যায় না। ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। উন্নয়ন বলতে আমরা শুধু একটা সেতুই বুঝি।"

প্রতি বছর প্রায় চার মাস এই গ্রামগুলি পুরোপুরি রাজ্যের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় এক বুক জল পেরিয়ে চলাফেরা, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়া, হাটবাজার করা সবই প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

অপর এক গ্রামবাসীর কথায়,
"বাইরের কেউ আমাদের কষ্ট বুঝবে না। প্রতি বছর চার মাস আমরা যেন দেশের মানচিত্র থেকে মুছে যাই।"

নারীরাই যেমন ভোটের মেরুদণ্ড, তেমনই তারাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। নারীরা হাসপাতালে পৌঁছতে গিয়েই প্রাণ হারান বহুবার।

পাঠড়া গ্রামের সুনীল বিশ্বকর্মার মৃত্যুর গল্প আজও গ্রামকে তাড়া করে বেড়ায়। অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার উপায় ছিল না। নদী পেরোনোর কোন ব্যাবস্থাই ছিল না। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে নদীর ধারেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার মা জানান, "অ্যাম্বুলেন্স ছিল না। গাড়ি আনতে হলেও নদীর ওপার থেকে আনতে হয়। ও বাঁচতে পারত যদি সেতু থাকত।"

গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, বর্ষাকালে প্রায় প্রতি বছর কমপক্ষে দুজনের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।

এবারও নির্বাচনের মরশুমে রাজনৈতিক দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু এই গ্রামগুলোর একটাই দাবি বাঁচতে হলে সেতু চাই।

এবারের নির্বাচন দুই দফায় ৬ নভেম্বর প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় দফা ১১ নভেম্বর। ফলাফল ঘোষণা হবে ১৪ নভেম্বর। কিন্তু ফলাফল যাই হোক, এই গ্রামগুলোর সিদ্ধান্ত পরিষ্কার "সেতু না হলে ভোট নয়।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+