Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

উত্তরে মেঘভাঙা বৃষ্টি, দক্ষিণে অতিবর্ষণ-ধস, তারপরেও বর্ষার ঘাটতি একাধিক রাজ্যে

বিচিত্র প্রকৃতির খেলা। বর্ষাকাল কৃষকদের কাছে আশীর্বাদ। সেই বর্ষাই এখন বড় কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা দেশে। চাষের জন্য যে বৃষ্টির প্রয়োজন সেটা যেন হঠাৎ করে কোথাও হারিয়ে গিয়েছে। কোথাও অতি বৃষ্টিতে সব তছনছ হয়ে যাচ্ছে তো কোথাও অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে মরছে জমির ফসল।

এবারে বর্ষা আগেই ঢুকে পড়েছে কেরলে। নিয়ম মতো কেরল পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব হিমালয়ের রাজ্যগুলিতে বর্ষণ শুরু হয়। সে বর্ষণ চাষের জন্য আশীর্বাদ নয় অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছিল। ধস-বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি। চলছিল মৃত্যু মিছিল। প্রকৃতির রোষে দিশেহারা অবস্থা মানুষের। কোথায় গিয়ে প্রাণ বাঁচাবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না তাঁরা।

Monsoon

মধ্যভারতে বর্ষার আগমন হলেও সেটা অনেকটা ওই বুড়ি ছোঁয়ার মতো। বিহার-উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ( দক্ষিণবঙ্গ) ঝাড়খণ্ডে বর্ষার বৃষ্টির ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। উত্তর প্রদেশ, এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ চাষের জন্য বর্ষার বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু কোন অজানা কারণে কিছুতেই এই রাজ্যগুলিতে বর্ষার বৃষ্টির তেমন আশীর্বাদ মেলেনি।

এদিকে অতিবর্ষণ প্রায় গ্রাস করতে বসেছে কেরলের ওয়েনাড়। ২৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে মৃত্যু মিছিল। এখনও একাধিক বাসিন্দা নিখোঁজ। ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। রাতারাতি চেহারা বদলে গিয়েছে ওয়েনাড়ের চেহারা। ওয়েনাড় যেন মৃত্যু পুরীতে পরিণত হয়েছে। রাস্তা বলে কিছু নেই সেখানে। কার্যত কাদামাখা মাঠে পরিণত হয়েছে সব রাস্তাঘাট।

সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে বায়ুসেনা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। কেরলের এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে মোদী সরকার। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী দেশবাসীকে কেরলের পাশে দাঁড়াতে মুক্তহস্তে দান করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

কেরলের পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ তার মাঝেই আবার উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কেদারনাথে ইতিমধ্যেই ধস নেমেছে। চারধাম যাত্রা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ২০০-র উপর পুণ্যার্থী আটকে রয়েছেন সেখানে। অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত সিমলা-মানালি-মাণ্ডি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে বইছে নদী। হিমাচলের মান্ডিতে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে নিখোঁজ কমপক্ষে ৫০ জন।

এদিকে উল্টো ছবি দেশের ২৫ শতাংশ রাজ্যে। সেখানে বর্ষার দেখা নেই বললেই চলে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, জম্মু ও কাশ্মীরে খুব কম পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে। কাশ্মীরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। এতোটাই গরম সেখানে যে স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লেহ-র অবস্থাও সেরকমই। উত্তর-পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের একাধিক জায়গায় জুন এবং জুলাই মাসে ১৩.৩ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতেও বৃষ্টির ঘাটতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেখানে ২০৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা সেখানে মাত্র ১৮২. ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে জুলাই মাসে। ১৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছে। মধ্যভারতের রাজ্যগুলিতেও সেই একই ভাবে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+