Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

টাকা ছিল না, ভুখা পেটেই ঘুমোতে যেতেন মনমোহন, বইয়ে দাবি মেয়ের

মুন্নু
নয়াদিল্লি, ১৭ অগস্ট: ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়ে অর্থাভাবে কখনও-সখনও খাওয়া জুটত না। খালি পেটে বা সামান্য একটা ক্যাডবেরি চকোলেট খেয়ে রাতে শুতে গিয়েছেন। কখনও আবার মাঝরাতে বিছানায় বসে ফাইল সই করার ফাঁকে নিজেই বিড়বিড় করছেন। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে নিয়ে এমনই নানা তথ্য উঠে এল একটি বইয়ে। বইটি লিখেছেন তাঁরই মেয়ে দমন সিং।

'স্ট্রিক্টলি পার্সোনাল: মনমোহন অ্যান্ড গুরশরণ' শীর্ষক ওই বইয়ে মেয়ে দমন সিং বাবা-মাকে নিয়ে নানা অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে ব্যক্তি মনমোহন সিংয়ের কথাই বেশি, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কথা কম! কম কথা বললেও বাবার রসবোধ যে খুবই উচ্চ মার্গের, তা জানাতে ভোলেননি তিনি।

দমন সিং লিখেছেন, দাদু অর্থাৎ মনমোহন সিংয়ের বাবার ইচ্ছে ছিল, ছেলে ডাক্তার হোক। ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে তাই তিনি ভর্তি হন অমৃতসরের খালসা কলেজে। কিন্তু ডাক্তারির পাঠ কাঠখোট্টা লাগত মনমোহন সিংয়ের। তিনি ক্লাসে বসে হাই তুলতেন। কয়েক মাস পরই ডাক্তারি পড়া ছেড়ে বাবার দোকানে কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু দোকান খুলে ঝাড়ু দেওয়া, জল ভরে আনা, খদ্দেরদের তদারকি করা ইত্যাদিও একঘেঁয়ে হয়ে যায় তাঁর কাছে। ফলে আবার পড়াশুনো শুরু করতে মনস্থির করেন। স্কুল থেকেই অর্থনীতির প্রতি একটা টান ছিল মনমোহন সিংয়ের। একদল কেন বড়লোক, বাকিরা কেন গরিব, কেন হঠাৎ হঠাৎ জিনিসের দাম বাড়ে, ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অর্থনীতি পড়তে শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।

এ দেশে শিক্ষার পাঠ শেষ করে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষার পাঠ নিতে রওনা হন কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বছরে সব মিলিয়ে ৬০০ পাউন্ড খরচ হত। কিন্তু পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ মিলত মাত্র ১৬০ পাউন্ড। বাকি অর্থের জন্য বাবার ওপর নির্ভর করতে হত। তাই ইংল্যান্ডে খুব সতর্কভাবে খরচ করতেন তিনি। দু'বেলাই খেতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে। কারণ সেখানে কম দামে খাবার পাওয়া যেত। অন্যান্য বন্ধুরা নিয়মিত মদ্যপান করলেও তিনি তা করতেন কদাচিৎ। হাত খালি হয়ে যাওয়ায় অনেকবারই রাতে একটা ছ'পেন্স দামের ক্যাডবেরি চকোলেট খেয়ে শুয়ে পড়তে হয়েছে। যখন তাও জোটেনি, খালি পেটে ঘুমোতে যেতে হয়েছে।

হার্পার কলিন্স ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রকাশিক ওই বইয়ে আরও বলা হয়েছে, ইয়ার্কি করে অন্য লোকের মজাদার নামকরণ করা পছন্দ করতেন মনমোহন সিং। এক ভাইকে তিনি ডাকতেন 'জন বাবু' বলে। কাউকে বলতেন, 'চুঞ্জওয়ালে', এমনকী গুরুশরণ কউরকে ডাকতেন 'গুরুদেব' বলে।

দমন সিং লিখেছেন, "বাবা আধুনিক পাঞ্জাবি সাহিত্য পড়তে ভালোবাসেন। গুরুমুখী আর উর্দু ভাষা-সাহিত্য নিয়ে তাঁর আগ্রহ আছে।" প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় বিছানার ওপর গ্যাঁট হয়ে বসে কোলে একটি বালিশ তুলে নিতেন। তার ওপর ফাইল রেখে তা দেখতেন। ঘুমোতে যেতে ভোর হয়ে যেত। আবার সকালে উঠে শুরু হয়ে যেত নিত্যদিনের ঠাসা কর্মসূচি।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+