হাওড়ার গ্রামে কেদারনাথের মন্দির, ভিড় জমাচ্ছে আট থেকে আশি
শহর বা মফস্বলে থিমের আধিক্য চোখে পড়লেও এখনও বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে থিমের পুজোর সংখ্যা হাতেগোনা। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের ভূঁয়েড়া তরুণ সংঘ(লাইব্রেরী) বেশ কয়েকবছর ধরে প্রত্যন্ত গ্রামের বুকে থিমের পুজো করে চলেছে।

থিম
কখনও তাদের ভাবনায় উঠে আসে সহজপাঠ, কখনওবা লক্ষ্মীর ভান্ডার। প্রতি বছরই ভাবনায় থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। শৈল্পিক ভাবনায় শিল্পীরা তাঁদের কর্মকান্ডকে উপস্থাপন করেন। এবার ৫৯ তম বর্ষে ভূঁয়েড়া তরুণ সংঘের(লাইব্রেরী) ভাবনা কেদারনাথের মন্দির। উদ্যোক্তারা জানান, স্থানীয় শিল্পীরা প্রায় একমাসেরও বেশি সময় ধরে কেদারনাথের মন্দিরের আদলে এই মন্ডপ গড়ে তুলেছেন।

মন্ডপসজ্জা
মন্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব সামগ্রী। মন্ডপের আলোকসজ্জাতেও রয়েছে চমক। প্রত্যন্ত গ্রামের বুকে কেদারনাথের মন্দির দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের আট থেকে আশি প্রায় সকলেই কেদারনাথ দর্শনে ভূঁয়েড়ায় আসছেন। উদ্যোক্তারা জানান, এবার তাদের বাজেট প্রায় একলক্ষ সত্তর হাজার টাকা।

বস্ত্র দান
পুজোয় থিমের পাশাপাশি শতাধিক মানুষকে বস্ত্র প্রদান সহ বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। পুজো উদ্যোক্তা অভিজিৎ সাউ, শ্রীমন্ত ভৌমিকরা জানান, গ্রামের মানুষকে থিমের পুজো উপহার দিতেই তাদের এই উদ্যোগ। প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রাক্কালে সিঁদুরখেলায় গ্রামের বহু মহিলা সামিল হন বলে জানান তাঁরা।

ভোটের আগে ইস্তেহারে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটের আগে ইস্তেহারে জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মহিলাদের 'লক্ষীর ভান্ডার' প্রকল্পের মাধ্যমে জেনারেল কাস্ট মহিলাদের একাউন্টে ৫০০ টাকা এবং এসটি/এসসি মহিলাদের জন্য হাজার টাকা করে প্রতিমাসে ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে। সালকিয়া বারোয়ারী পুজো কমিটির দুর্গোৎসব এবার দেড়শ বর্ষে পদার্পণ করল। সার্ধশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পুজো কমিটি। এবার তাদের ভাবনা 'লক্ষ্মীর ভান্ডার'। আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন কারুকার্যে সেজে উঠেছে হাওড়া জেলার অন্যতম প্রাচীন এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব। আকর্ষণীয় মন্ডপে থাকছে লক্ষ্মীলাভের সুযোগ। তবে এ সুযোগ কেবল মা-বোনেদের জন্যই। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সমিত কুমার ঘোষ জানান, পঞ্চমী থেকে নবমীতে সন্ধ্যায় প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর লটারির মাধ্যমে মহিলাদের নির্বাচন করা হবে। তাঁদের ৫০০ টাকা করে উপহার দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রথমে কাউন্টারে কুপন লেখা হবে। তারপর সাঁকো দিয়ে পুকুরের মাছ বরাবর লক্ষ্মীর ভান্ডার, সেই ভান্ডারে ড্রপবক্স থাকবে। সেখানে ওই কুপন ড্রপ করবেন দর্শকরা। তারপর প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর লটারির মাধ্যমে পুরষ্কার দেওয়া হবে। পুজোর দিনে এহেন লক্ষ্মীলাভের সুযোগে ইতিমধ্যেই সাড়া পড়েছে হাওড়া শহরে।












Click it and Unblock the Notifications