এনআরএস কাণ্ড: এর মধ্যে মমতার সঙ্গে সমাজের এলিট শ্রেণীর একটি 'ক্লাস ওয়ার' চোখে পড়ছে
দু'হাজার ষোলো সালে যখন তিনি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কল্পনাও করতে পারেননি কী পরিস্থিতি তাঁর জন্যে অপেক্ষা করে আছে।
দু'হাজার ষোলো সালে যখন তিনি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কল্পনাও করতে পারেননি কী পরিস্থিতি তাঁর জন্যে অপেক্ষা করে আছে। দু'হাজার ঊনিশে এসে নেত্রী এমন একটি সঙ্কটের মুখোমুখি হলেন যে তাঁর এখন নিজের কোনও অবস্থাতেই সমঝোতা না করার ভাবমূর্তিটি খোয়ানোর প্রবল আশঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসকদের উপরে হামলা নতুন কিছু নয় এবং প্রশাসনিক স্তরে দিনের পর দিন এই সমস্যাটিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শাসকদলের হয়তো হিসেব ছিল ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলি আর কীই বা করবে। মাথায় হাত বুলিয়ে চালিয়ে দেওয়া যাবে যতই সমস্যা হোক না কেন। সোজাসুজি বললে, বিরাট ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন শাসককূল। বাংলার জনজীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব এখন আর বিকল্পহীন বলে মানুষ মনে করছে না আর এই পরিস্থিতি তৈরী করেছেন স্বয়ং মমতা নিজেই।
দাবড়ানি নেতা-আমলারা শুনলেও এলিট শ্রেণী শুনবে না
এনআরএস কাণ্ডে পরিষ্কার হয়েছে যে ধমকানি-দাবড়ানি দিয়ে মমতা নিজের দলের নেতা বা প্রশাসনের হোতাদের কথা শোনাতে পারলেও সাধারণ মানুষকে আর পারবেন না। যেভাবে জুনিয়র ডাক্তাররা মুখ্যমন্ত্রীর এসএসকেএম হাসপাতালে হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিয়েছেন, তাতে এটুকু পরিষ্কার যে তাঁরা এবারে মরিয়া এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাজ্যের প্রশাসনিক মাথাকেও পাত্তা দিতে রাজি নন। তাঁরা এখন নিজেদের সুরক্ষাকেই পাখির চোখ করেছেন, তাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা চুলোয় গেলে যাক।
ডাক্তাররা রবিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় অনেকে তাঁদের দায়বোধ নিয়ে ক্ষুব্ধ হলেও এটা লক্ষ্যণীয় যে ডাক্তারদের পাশে কিন্তু অনেকেই এগিয়ে এসেছেন; এমনকি শাসকদলের সাংসদ বা নেতা-মন্ত্রীদের পরিজনরাও। সুশীল সমাজও বলেছে ডাক্তারদের নিরাপত্তার বিষয়টি।
এই প্রেস্টিজ ইস্যুতে মমতাকে তাঁরই লড়াই ফিরিয়ে দিচ্ছেন ডাক্তাররা
সাধারণ মানুষের মধ্যেও মমতার এই সংবেদনশীল বিষয়টির মধ্যে হঠকারি প্রতিক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেন তিনি ডাক্তারদের কথা একটিবার শুনলেন না? এনআরএস হাসপাতালে যাওয়ার ন্যূনতম প্রয়োজনটি বোধ করলেন না এবং উল্টে ডাক্তারদের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করলেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত বিষয়টি একটি 'প্রেস্টিজ ইস্যু' হয়ে গিয়েছে এখন আর রাজ্যের সর্বময় প্রশাসনিক কর্ত্রী হিসেবে মমতাকেই অবস্থান নরম করতে হবে; নয়তো রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমনকি আইন শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা।
একটু তলিয়ে ভাবলে, এনআরএস কাণ্ডটি আদতে একটি 'ক্লাস ওয়ার'-এর দিকেই এগিয়েছে। এই ক্লাস ওয়ার বা শ্রেণী সংগ্রাম সাবেক বামপন্থীদের তত্ত্বমাফিক নয়। শোষক বা শোষিতের লড়াই নয়। এই শ্রেণী সংগ্রাম আদতে হয়ে দাঁড়িয়েছে এলিটের সঙ্গে সব-অল্টার্ন-এর লড়াই।
সমাজের একটি অংশের কাছে মমতা আজও গ্রহণযোগ্য নন
ব্যাপারটি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনভিত্তি নিয়ে কোনওদিন কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন শাসক কংগ্রেস এবং বামেদের অনেক তাবড় নেতার চেয়েও মমতার রাজনৈতিক স্বীকৃত অনেক বড়। নিজের অক্লান্ত, সমঝোতাহীন, নির্ভীকতা দিয়ে তিনি এগিয়েছেন বছরের পর বছর। রাজ্য রাজনীতি তো বটেই, কেন্দ্রেও প্রতাপ-প্রভাব কম ফলাননি। কিন্তু এতকিছুর পরেও সমাজের এক বিশিষ্ট অংশের মানুষের কাছে মমতার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে। এবং মমতা নিজেও সেটা খুব ভালো করে জানেন। সমাজের সেই 'উন্নাসিক' অংশটির সঙ্গে সমানে সমানে চলার জন্যে তৃণমূল নেত্রী তাঁর সাংস্কৃতিক দিকটি নিয়েও কম ঘষামজা করেননি। কবিতা লেখা, ছবি আঁকা, বই ছাপানো -- মমতার প্রচেষ্টায় খামতি ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি বাম-উদারবাদী মধ্যবিত্তের কাছে চিরকাল দূরের মানুষই রয়ে গিয়েছেন।
রাজনীতির আঙিনায় মমতা শক্তিশালী কিন্তু তার বাইরে?
এই ব্যবধানটি বিরাট বড় আকার ধারণ করে এনআরএস কাণ্ডে। রাজনীতিবিদ মমতার সঙ্গে সংঘাতে যেতে চান না তাঁর বাম-উদারবাদী বিরোধীরা কারণ তাঁরা জানেন রাজনীতিবিদ হিসেবে তৃণমূল নেত্রী কতটা শক্তিশালী। রাজনীতিতে তাঁর হাতে রয়েছে মনোবল, পেশীবল, শাসনযন্ত্র ইত্যাদি। কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে মমতাকে চ্যালেঞ্জ করাটা কার্যত অসম্ভব একটি কাজ সমকালীন বঙ্গীয় রাজনীতিতে।
মমতা যখন বলেন "আমি আঁতেল নই", সেটা তাৎপর্যপূর্ণ
কিন্তু রাজনীতির বাইরের সমাজে? সেখানে ব্যক্তি মমতাকে কিন্তু পরোয়া করতে আর রাজি নয় তথাকথিত এলিট শ্রেণী। মমতা যে বেশ কয়েকবার বললেন যে তাঁকে অনেকে পছন্দ করেন না কারণ তিনি আঁতেল নন, এটি তাৎপর্যপূর্ণ। মমতা জানেন যে রাজনীতির বাইরে প্রশাসনের আঙিনায় এলিটশ্রেণীর কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কম এবং সেই গ্রহণযোগ্যতা আরও কমেছে গত তিন সপ্তাহে, লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে। ডাক্তারদের মতো উচ্চশিক্ষিত শ্রেণীর কাছে মমতা যে সাব-অল্টার্ন-এর প্রতীক তার প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা পোক্ত হওয়া দুষ্কর। আর তার উপরে হামলার ঘটনার পরে মুখ্যমন্ত্রীর ডাক্তারদের প্রতি হুঁশিয়ারিতে সেই শ্রদ্ধা এখন প্রায় ধূলিসাৎ।
এলিট শ্রেণীর কাছে মমতা 'ইন্টেলেকচুয়ালি' যোগ্য নন
পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যেখানে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোক শ্রেণী শাসকের আসনে বসেছেন ২০১১ পর্যন্ত, সেখানে মমতার উত্থান নিঃসন্দেহে গণতন্ত্রের জয় কিন্তু সমাজের এলিট শ্রেণীর কাছে সেই জয় জয় মনে নাও হতে পারে। আর এখানেই অঙ্ক না মেলার একটি বড় গণ্ডগোল। আজ ডাক্তারের পরিবর্তে এই বিদ্রোহ পুলিশ বা সরকারি কর্মচারীরা করলে মমতা তাঁর রাজনৈতিককে ব্যবহার করে হয়তো বা সমাধানসূত্র পেতেন। কিন্তু ডাক্তারদের ক্ষেত্রে এই সমস্যার একটি ইন্টেলেকচুয়াল দিক রয়েছে যা ঠিকঠাক ভাবে সমাধান করতে একটি ন্যূনতম স্থিতিশীলতা, বাস্তবিক চিন্তাভাবনা এবং সমবেদনার প্রয়োজন। মমতা সেগুলির একটিও দেখাতে পারেননি।
-
হামলা যতই বাড়ুক, জয় তৃণমূলেরই, পাণ্ডবেশ্বরে আক্রমণাত্মক মমতা -
ভোটের আগে উত্তাপ! মধ্যরাতে ভবানীপুরে শুভেন্দু, কী কারণ? উত্তেজনার মাঝে সরাসরি থানা থেকেই সিপি-কে ফোন -
কখনও ঝড় বৃষ্টি, কখনও রোদ, জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার আপডেট -
সুপ্রিম কোর্টের চাপেই কী গতি? বকেয়া ডিএ দিতে অর্থ দফতরের পোর্টাল চালু, প্রথম কিস্তি কবে? তাকিয়ে কর্মীরা -
লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা! কোন রাজ্যে কত হতে পারে আসন, বাংলার আসন বেড়ে হতে পারে কত? জানুন একনজরে -
মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! ফেরিঘাট থেকে সোজা পদ্মায় তলিয়ে গেল যাত্রীবোঝাই বাস, মৃত ১৮, নিখোঁজ বহু -
কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ! চিকিৎসকরাও এবার ভোটের ডিউটিতে, চাকরিহারা শিক্ষকদের নিষেধাজ্ঞা, কড়া নির্দেশ EC-র -
বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে কতজনের নিষ্পত্তি? নতুন করে বাদই বা গেল কতজনের নাম? কী জানাল কমিশন -
'আবারও লকডাউন করে সবাইকে লাইনে দাঁড় করাবে', মোদী সরকারকে তোপ মমতার, কী বললেন? -
কলকাতায় গভীর রাতে গুলির তাণ্ডব, ছাদে গুলি লেগে মৃত ১ -
বড় সিদ্ধান্ত EC-র! প্রিসাইডিং থেকে মাইক্রো অবজার্ভার, ভাতা বাড়ল সব স্তরের কর্মীদের, কোন পদে কত? জেনে নিন -
প্রচার ঘিরে রণক্ষেত্র বাসন্তী! বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ, আহত পুলিশকর্মীরাও, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে, আটক ৮












Click it and Unblock the Notifications