বেথেলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং, স্পিনারদের ব্যর্থতা, বৈভবের অভিষেক ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হার ভারতের
ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যাওয়ার পর এটিই ছিল পুরো খেলা হওয়া প্রথম ম্যাচ। আর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে এক নাটকীয় জয় এনে দিলেন তরুণ তারকা জ্যাকব বেথেল। তাঁর বিধ্বংসী ৭৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ভারতীয় দলের দেওয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলল থ্রি লায়ন্সরা।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে রান তাড়া করার শুরুটা ছিল ভালো ছিল না। প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়েছিল আয়োজকেরা। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে হ্যারি ব্রুক এবং জ্যাকব বেথেলের দুর্দান্ত পাল্টা আক্রমণ ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ভারতীয় স্পিনারদের ওপর চড়াও হয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে তুলে নেন ইংলিশ ব্যাটাররা। শেষ পর্যন্ত ৬ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করেন তাঁরা।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের একদম প্রথম বলেই বড় ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ভারতীয় পেসার অর্শদীপ সিং তাঁর প্রথম ডেলিভারিতেই ফিরিয়ে দেন বিপজ্জনক ওপেনার ফিল সল্টকে। ঠিক পরের বলেই শূন্য রানে অধিনায়ক জস বাটলারকে সাজঘরে পাঠিয়ে দেন তিনি। মাত্র ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডের ইনিংসের হাল ধরেন হ্যারি ব্রুক এবং জ্যাকব বেথেল।
চাপের মুখে দমে না গিয়ে হ্যারি ব্রুক ভারতের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। তিনি মাত্র ১২ বলে ৩৯ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তবে অক্ষর প্যাটেলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ব্রুক মাঠ ছাড়লে সেই জুটি ভেঙে যায়। রিভিউ নিয়ে ব্রুকের উইকেটটি আদায় করে নেয় ভারত। এরপর টম ব্যান্টন ক্রিজে এসে বেথেলের সাথে দলের হাল ধরেন এবং ৩৯ রানের একটি কার্যকর ইনিংস উপহার দেন।
ম্যাচের মূল মোড় ঘুরিয়ে দেয় স্পিনার রবি বিষ্ণোইয়ের করা একটি ওভার। সেই ওভারে জ্যাকব বেথেল অসাধারণ ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখিয়ে ২৯ রান তুলে নেন এবং নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৪৬ বলে ৭৬ রানের একটি ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন বেথেল। তাঁর এই রাজকীয় ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫টি চার এবং ৫টি চোখধাঁধানো ছক্কা।
ইংল্যান্ড ইনিংসের শেষ দিকে স্যাম কারেনকে হর্ষিত রানা আউট করলেও ইংল্যান্ডের জয় আটকানো সম্ভব হয়নি। নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসা জোফ্রা আর্চারকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ অনায়াসেই সেরে ফেলেন বেথেল। ১৯তম ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ভারতীয় বোলিংয়ের শুরুতে যে ধারা দেখা গিয়েছিল, মাঝের ওভারগুলিতে স্পিনারদের ব্যর্থতায় তা সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রানের লড়াকু স্কোর খাড়া করেছিল। এই ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল ভারতের হয়ে তরুণ বৈভব সূর্যবংশীর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে অভিষেক ঘটিয়ে বৈভব হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে যেকোনও টেস্ট খেলিয়ে দেশের সর্বকনিষ্ঠ টি২০ ক্রিকেটার।
নিজের অভিষেক ম্যাচে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়ে বৈভব। সে ১০ বলে ২টি ছক্কার সাহায্যে ১৪ রান করে উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্প আউট হয়। বৈভবের বিদায়ের পর ইনিংসের গতি বজায় রাখার দায়িত্ব নেন অভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র কয়েক ওভারের ব্যবধানে ৪৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে স্যাম কারেনের শিকার হয়ে ফিরে যান।
দুই ওপেনার বিদায় নেওয়ার পর ভারতের হয়ে চমৎকার পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন ইশান কিষাণ এবং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ইশান কিষাণ অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে খেলেন ৪৯ রানের ইনিংস। অন্যদিকে অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ২২ বলে ৩৭ রানের একটি ক্যামিও উপহার দেন, যার মধ্যে লিয়াম ডসনের বলে মারা একটি বিশাল ছক্কাও ছিল। এই দুজনের ব্যাটে ভর করেই ভারত বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
তবে মাঝের ওভারগুলিতে ইংল্যান্ডের বোলাররা দুর্দান্তভাবে ম্যাচে কামব্যাক করে। লিয়াম ডসন, উইল জ্যাকস এবং স্যাম কারেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতের রানের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। ১৯তম ওভারে অক্ষর প্যাটেলের অদ্ভুত রান আউট ভারতীয় শিবিরের চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। জস বাটলারের স্ট্রাইকার এন্ডে করা থ্রো বোলার এন্ডের উইকেটে লেগে অক্ষরের ইনিংসের অকাল সমাপ্তি ঘটায়।
শেষ ওভারে ভারতের বোর্ডে বড় রান যোগ করার গুরুদায়িত্ব নেন তিলক বর্মার। জোফ্রা আর্চারের করা শেষ ওভার থেকে তিলক একাই ১৭ রান তুলে নেন। শেষ ৭ বলে দ্রুতগতিতে ২৩ রান তুলে ভারত লড়াকু জায়গায় পৌঁছে যায়। তবে শেষ বলে হর্ষিত রানাকে আউট করে ভারতকে ১৯০ রানেই রুখে দিতে সক্ষম হন আর্চার।
ভারতের সেটা করা ১৯১ রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে ইংল্যান্ডকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। কিন্তু মিডল অর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং পরিকল্পনা এবং জ্যাকব বেথেলের একক আধিপত্যের কাছে ভারতীয় বোলিং লাইনআপ নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। রবি বিষ্ণোই এবং বরুণ চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় এই ম্যাচটি হাতছাড়া করতে হল ভারতকে।












Click it and Unblock the Notifications