অভিষেককে 'অসম্মান' সিএবি সচিবের! ক্লাব ক্রিকেট নিয়ে ছেলেখেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
Avishek Dalmiya: অভিষেক ডালমিয়াকে অসম্মান! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। অসম্মান। সিএবির অন্দরে তাই নিশানায় সচিব নরেশ ওঝা। অনেকেই বলছেন, কেতাদুরস্ত পোশাক পরলেই অন্তরের কালো দিক ঢাকা যায় না!
কথায় আছে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দড়। সিএবির কর্তাদের একাংশের ক্ষেত্রে যা সর্বাগ্রে খাটে। তাঁদের ভাবখানা এমন, বাংলার ক্রিকেট চুলোয় যাক। স্বার্থসিদ্ধিই আসল। ক্ষমতার দম্ভ দেখানোর এই রূপ নিয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়।

মনোজ তিওয়ারির অবসরের দিনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ১০ হাজারের বেশি রান করার জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করল সিএবি। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের এই আয়োজন প্রশংসনীয়। কিন্তু ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা আগেও দাবি করেছে, এখনও করছে, স্নেহাশিসকে ডোবানোর চেষ্টা করছেন কয়েকজন কর্তাই।
গতকালই যেমন। স্নেহাশিস ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, অনুষ্টুপ মজুমদার, মনোজ তিওয়ারি সকলের বক্তব্যেই এসেছে অভিষেকের নাম কিংবা জগমোহন ডালমিয়ার অবদানের কথা। ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে অভিষেকের বিভিন্ন কাজের কথা।
স্নেহাশিস, সৌরভের সঙ্গে অনুষ্ঠানের পরেও সাক্ষাৎ হয়েছে অভিষেকের, কথাও হয়েছে।
সিএবির বর্তমান সভাপতি স্নেহাশিসের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসূন মুখোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়ার মতো প্রাক্তন সভাপতিরা।
অনেক প্রাক্তন কর্তাও এসেছিলেন। কিন্তু দুধে চোনা ফেললেন সিএবি সচিব নরেশ ওঝা। অনুষ্ঠানের শেষে নিয়মমতো ভোট অব থ্যাঙ্কস দেওয়ার পর্বে নরেশ মঞ্চে ওঠেন। তিনি প্রসূন-সহ সকলের নাম নিলেও অভিষেক ডালমিয়ার নাম মুখেই আনলেন না। অথচ যেদিকে দাঁড়িয়ে তিনি কথা বলছিলেন, তার ঠিক সামনেই বসে ছিলেন অভিষেক।
অভিষেক বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি স্বভাবসিদ্ধভাবেই। তবে সিএবির অনেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে নরেশ পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইলেও তা যে যথেষ্ট নয়, তেমনটাই বলছেন অনেকে। অনেকেই চাইছেন বিহিত। কেন না, সচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সিএবির এক ডাল বদলানোয় সিদ্ধহস্ত কর্তা কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নামে আজেবাজে বলতে পিছপা হন না। তাতে অবশ্য সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বা ঋদ্ধিমান সাহাদের কালিমালিপ্ত হতে হয় না। আসলে ওই কর্তার আসল চরিত্রই সামনে আসে। আবার সিএবি সচিব নরেশ ওঝা তো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বকেই গুলিয়ে বসেন।
নরেশ ওঝা সচিব পদে বসার পর কবে ক্লাব ক্রিকেটের ম্যাচ দেখেছেন, কিংবা তাঁকে কারা কবে কোথায় শেষ মাঠে দেখেছেন, তা জানতে ফেলুদাকে ডেকে আনার পরিস্থিতি। সিএবির অন্দরে কান পাতলে জানা যায়, সন্ধ্যা ৬টা অবধি অফিস সেরে তিনি সাতটা নাগাদ সিএবিতে এসে বেশিরভাগ সময় কাটান সিনিয়র টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নীতীশরঞ্জন দত্ত ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মদনমোহন ঘোষের সঙ্গে।
তাঁদের ছড়ি ঘেরানো নিয়েও সিএবিতে অভিযোগ জমা পড়ছে। বিভিন্ন ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বিভিন্ন মাঠে গিয়ে আম্পায়ারদের আন্ডার-প্রিপেয়ার্ড উইকেটে খেলতে বাধ্য করানো হচ্ছে। এভাবে কিছুক্ষণ এ-মাঠে, ও-মাঠে প্রভাব খাটিয়ে কচুরি, জিলিপি খেয়ে চলে যাচ্ছেন অন্য কাজে। চুলোয় যাক বাংলার ক্লাব ক্রিকেট।
অনেকেই তো বলছেন, সিএবির বিভিন্ন পর্যায়ের খেলা যে ধরনের পিচে হচ্ছে তার চেয়ে ধানের জমিতে খেলা ভালো। লিগ তুলে দেওয়ার এমন চেষ্টা কোন স্বার্থে? এতে ভালো ক্রিকেটার উঠবেন কীভাবে? ফলে বাংলার ক্রিকেটের অন্তর্জলি যাত্রার পিছনে এটাও বড় কারণ। দায় এড়াতে পারেন না সচিব।
স্নেহাশিস-সহ সিএবির অনেকেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন কীভাবে বাংলার ক্রিকেটে সুদিন ফেরানো যায়। দিন সাতেকের পর আগামী মরশুম নিয়ে আলোচনাতেও বসবেন স্নেহাশিস। কিন্তু সিএবির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বলছেন, সভাপতি নিজেই অসহায়। আসলে টিমের থেকে কাঙ্ক্ষিত সাপোর্ট তিনি পাচ্ছেন না।
আন্তর্জাতিক বা আইপিএল ম্যাচের টিকিট বিলিয়ে কিছু সাংবাদিকের মুখ বন্ধ রেখে অপকর্ম ঢাকার অভিযোগও উঠেছে নরেশের বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনি এক বা দুজনকে ম্যানেজ করতে পারেন। বাংলার ক্রিকেটের উন্নতির স্বার্থে যে সাংবাদিকরা কর্তব্য পালন করেন তাঁদের ম্যানেজ করতে পারবেন না। অপকর্ম বন্ধ হওয়া দরকার।
নরেশ এবং সিএবির অনু-পরমাণুদের জন্য ক্ষোভ বাড়ছে আম্পায়ারদেরও। তাঁরা এমন ধরনের চাপে পড়ে বাজে উইকেটে ম্যাচ খেলাতে চাইছেন না। সকলে সমস্বরে সিএবিতে গর্জন তোলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁরাও নিশ্চিত, স্নেহাশিস কঠোর হলেই পরিস্থিতি বদলাবে। তিনিই হাল ফেরাতে পারবেন। বাংলার ক্রিকেটের জন্য হাল ধরা জরুরি শক্ত হাতেই।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications