কেঁচো খুড়তে কেউটে! কুলতলির সুড়ঙ্গ দিয়ে কী পাচার হতো? কী বলছেন বিরোধীরা
সোনাপাচারকারীর বাড়িতে হানা দিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের। অভিযুক্ত সদ্দামের বাড়িতে খাট সরাতেই বেরিয়ে এসেছে সুড়ঙ্গ। সদ্দামের বাড়ি থেকে সে সুড়ঙ্গ গিয়ে পড়েছে মাতলা নদীর খালে। বিরোধীরা এই নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।
গতকাল কুলতলিতে ভণ্ড প্রতারক সদ্দামকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল পুলিশকে। পুলিশের হাত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় গ্রামবাসীরা। তারপর থেকে পলাতক কুলতলির সদ্দাম সর্দার ও তার ভাই। কুলতলির পয়তার হাট গ্রামে বাস কলে সদ্দাম সর্দার এবং তার ভাই সায়রুল।

গত ১৫ বছর ধরে সেই গ্রামে নকল সোনার কারবার চালায় সে। কমদামে সোনা দেওয়ার নাম করে ডাকাতি, লুঠপাঠ চালায় তারা। কম দামে সোনা বিক্রির টোপ দিয়ে ব্যবসায়ীদের ডেকে এনে তাঁদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুঠ করত তারা। এমনকী তাদের খুন করতেও পিছপা হয়নি দুই ভাই। নকল সোনা প্রায় ১২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
সেই প্রতারণা মামলায় সদ্দামকে ধরতে গিয়ে যাকে বলে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। এলাকায় সদ্দামের দাপট হারে হারে টের পেয়েছে পুলিশ। গতকাল কুলতলিতে সদ্দামকে ধরতে গিয়ে রীতিমতো বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশ। সদ্দাম এবং তার ভাইকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় গ্রামবাসীরা। তারপর থেকে আর খোঁজ নেই সদ্দাম এবং তার পরিবারের। মঙ্গলবার সকালে সদ্দামের বাড়িতে তল্লাশিতে গিযে রীতিমতো চমকে গিয়েছে পুলিশ।
ঘরের ভেতর থেকে খাট সরাতেই বেরিয়ে পড়েছে একটি সুড়ঙ্গ। একেবারে কংক্রিটের তৈরি এই সুড়ঙ্গ চলে গিয়েছে মাতলা নদীর খালে। ওপারেই যার বাংলাদেশ। তাহলে কী সীমান্তের ওপার পর্যন্ত বিস্তার ছড়াতেই এই সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল সদ্দাম। সেই পথে কী পাচার করত সে তা নিয়ে ধন্ধে রয়েছে পুলিশ। বিরোধীরা দাবি করেছেন সীমান্ত পথে মানব পাচারও হতে পারে এই সুড়ঙ্গ পথে।
গোটা রাজ্য জুড়ে চরম অরাজকতা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজ্য পুলিশের ব্যর্থতা নিয়েও সওয়াল তুলেছেন তাঁরা। কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে সীমান্তের গ্রামগুলিতে এবং পুলিশের কাছে তার খবর থাকছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications