নারী সংরক্ষণ আইন ২০২৩ কার্যকর, বিজ্ঞপ্তি জারি কেন্দ্রের
২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইন, যা লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখে, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়েছে। গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সংবিধান (১০৬তম সংশোধনী) আইনের এই বিধানগুলি ১৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
যদিও এই আইনটি গত বছর রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ করেছিল, তবে এর কার্যকর হওয়া কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি জারির উপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে আইনটি বলবৎ হলেও, এর বিধানগুলি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা যাচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী, আসন সংরক্ষণের এই প্রক্রিয়া সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হওয়ার পরই শুরু হবে। বিল পাসের পর প্রথম আদমশুমারির ভিত্তিতে এই সীমানা নির্ধারণ করা হবে। এই পদ্ধতি ২০২৭ সালের পরও বাস্তবায়ন বিলম্বিত করতে পারে।
সংসদে এর বাস্তবায়ন সময়সীমা দ্রুত করার জন্য নতুন সাংবিধানিক সংশোধনী নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, তখনই এই আইন কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হল। এসবের মধ্যে রয়েছে সীমানা পুনর্নির্ধারণ ও লোকসভার আসন বৃদ্ধি। এই সংশোধনী বিলগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের মধ্যে এটি কার্যকর করা।
চলমান সংসদীয় বিতর্কের মধ্যেই ২০২৩ সালের আইনটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে "সম্পূর্ণ উদ্ভট" বলে আখ্যা দিয়েছে। জয়রাম রমেশ বলেছেন যে, যখন আইনটির সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং তা ভোটাভুটির অপেক্ষায় ছিল, তখনই আইনটিকে কার্যকর করা হয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তিওয়ারি জানিয়েছেন যে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলে বিদ্যমান আইনকে সুরক্ষিত রাখার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে এই বিজ্ঞপ্তি।
কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৫ করতে চাইছে। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইনের অধীনে লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে, শাসকদল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)-এর লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সংশোধনী পাস করতে অন্যান্য দলের সমর্থনের প্রয়োজন হবে।
বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট নারী সংরক্ষণের সমর্থন করলেও লোকসভার আসন সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে। তাদের মতে, জনসংখ্যা-ভিত্তিক সীমানা নির্ধারণ লোকসভায় উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলিকে অযাচিত সুবিধা দেবে। এর ফলে উত্তরে আসন সংখ্যা অনেক বাড়বে, যেখানে শাসক ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি।
সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি আদমশুমারি সম্পূর্ণ হওয়ার পর রাজ্যের জনসংখ্যার পরিবর্তনের ভিত্তিতে লোকসভার আসন বন্টন সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে, লোকসভার কাঠামো ১৯৭১ সালের আদমশুমারির ওপর ভিত্তি করে গঠিত। ২০০১ সালের ৮৪তম সংশোধনী আইন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পরবর্তী আদমশুমারি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকার সীমানা স্থির রাখা হয়েছে। সর্বশেষ জনগণনা ১ এপ্রিল শুরু হলেও, তা ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা।
সংসদে পেশ হতে চলা বিলটি সংবিধানের ৮২ অনুচ্ছেদের মূল শর্তটি বাতিল করার প্রস্তাব করেছে। এর ফলে সর্বশেষ ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতেই সীমানা নির্ধারণ সম্ভব হবে। গত দু'সপ্তাহ ধরে আইন সংশোধনী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চললেও, খসড়া বিলের কপি মঙ্গলবারই প্রথম সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছয়। বিরোধী দল এটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলির কণ্ঠস্বর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।












Click it and Unblock the Notifications