নমিনাল জিডিপি ব়্যাঙ্কিংয়ে ধাক্কা! শীর্ষ পাঁচ দেশ থেকে ছিটকে ষষ্ঠ স্থানে নামল ভারত

আইএমএফ-এর এপ্রিল ২০২৬-এর 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' (World Economic Outlook) অনুযায়ী, ভারত চলতি মূল্যের জিডিপি (nominal GDP) হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি অর্থনীতির তালিকা থেকে ছিটকে ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে।

তবে এই পরিবর্তন মূলত মুদ্রার মানের ওঠানামার ফল, অর্থনৈতিক দুর্বলতা নয়। অনুমান করা হচ্ছে, এই অবস্থানচ্যুতি দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে ভারত আগামী বছরগুলিতে হারানো স্থান পুনরুদ্ধার করতে পারে।

আইএমএফ-এর সর্বশেষ অনুমান অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি জিডিপি নিয়ে বৃহত্তম অর্থনীতি। এরপর চিন প্রায় ১৯-২০ ট্রিলিয়ন ডলার, জার্মানি প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি। জাপান ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৪ থেকে ৪.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে। ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি জিডিপি নিয়ে ভারত ঠিক এই দেশগুলির নিচে অবস্থান করছে।

জিডিপি র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের এই পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ মার্কিন ডলারে বৈশ্বিক জিডিপি গণনা। টাকার মান কমলে, এমনকী উৎপাদন বাড়লেও, তার ডলার মূল্য হ্রাস পায়। গত এক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৮০-এর দশক থেকে ৯০-এর বেশি স্তরে তীব্র হ্রাস পাওয়ায় অর্থনীতির ডলার-ভিত্তিক আকার ছোট হয়েছে।

এই প্রভাব আরও তীব্র কারণ ভারত, জাপান এবং যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি অর্থনীতির আকার কাছাকাছি (৪-৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যান্ডের মধ্যে)। ফলে, মুদ্রার সামান্য ওঠানামাও তাদের র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই 'ক্লাস্টারিং প্রভাব' বৈশ্বিক অর্থনীতির এই স্তরে অস্থিরতা তৈরি করে।

টাকার ওপর সাম্প্রতিক চাপ পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বৃদ্ধির সঙ্গে মিলে গেছে। এটি বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছে। ভারতের প্রায় ৯০% অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে, উচ্চ মূল্য আমদানি বিল বাড়িয়ে ডলারের বহিঃপ্রবাহে চাপ সৃষ্টি করে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ব বাজারে ঝুঁকি-বিমুখতা সৃষ্টি করায় বিদেশি পোর্টফোলিও ফ্লো (FPI) অস্থির হয়েছে। ভারতীয় ইক্যুইটি ও বন্ড থেকে পুঁজি প্রত্যাহার ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে টাকার মান দুর্বল করেছে। পাশাপাশি, উচ্চ সুদের হার ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় 'সেফ-হেভেন' চাহিদা সহ শক্তিশালী মার্কিন ডলার বেশিরভাগ উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

স্বল্প-মেয়াদী কারণ ছাড়াও, টাকার ওপর গভীর চাপ রয়েছে। তেল, ইলেকট্রনিক্স ও সোনা আমদানির কারণে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য ঘাটতি বিদেশি মুদ্রার স্থিতিশীল চাহিদা তৈরি করে। অর্থনীতি বিদেশি পুঁজি প্রবাহের ওপরও নির্ভরশীল, যা বিশ্ব সংকটের সময় অস্থির হতে পারে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় টাকার দুর্বল অবস্থানকে "নিজস্ব সক্ষমতা অনুযায়ী সঠিক প্রভাব ফেলতে না পারা" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ বৃদ্ধি ও বাহ্যিক দুর্বলতার মধ্যেকার ব্যবধান তুলে ধরে।

তবে, র‍্যাঙ্কিংয়ে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মুদ্রার ওঠানামার ভূমিকা কেন্দ্রীয় হলেও, এটিই একমাত্র কারণ নয়। সর্বশেষ 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক' শুধু বিনিময় হারের প্রভাবই নয়, প্রধান অর্থনীতি জুড়ে জিডিপি অনুমানগুলির সংশোধনও প্রতিফলিত করে।

জাপান ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো ৪-৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকায়, উৎপাদন অনুমান বা মুদ্রার মানের সামান্য পরিবর্তনও তাদের র‍্যাঙ্কিং বদলে দিতে পারে। এই 'ক্লাস্টারিং প্রভাব' স্বল্প মেয়াদে বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংকে অস্থির করে তোলে।

আইএমএফ-এর সামগ্রিক মূল্যায়নে ভারতের অর্থনৈতিক গতিতে কোনো দুর্বলতার ইঙ্গিত নেই। ভারত বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে আগামী দুই বছরে ৬.৪-৬.৫% বৃদ্ধির অনুমান করা হয়েছে। এই হার বেশিরভাগ উন্নত অর্থনীতির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ভারতের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি বিনিয়োগ এবং স্থিতিস্থাপক পরিষেবা খাত দ্বারা চালিত। এই অভ্যন্তরীণ নির্ভরতার ফলে, রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতির তুলনায় বিশ্বব্যাপী মন্দার প্রভাব থেকে ভারত তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত।

আইএমএফ বিশ্লেষণ আরও দেখায় যে বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রসারে ভারতের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। এটি বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও একটি মূল চালিকা শক্তি হিসেবে ভারতের ভূমিকাকেই তুলে ধরছে।

এই সর্বশেষ তথ্যগুলো স্পষ্ট করে যে বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং কেবল বৃদ্ধির হারের উপর নয়, মূল্যায়নের উপরও নির্ভর করে। একটি দুর্বল টাকা অর্থনীতির ডলার-ভিত্তিক আকার কমিয়ে দেয়, এমনকী উৎপাদন বাড়লেও। ভারতের অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক গতিপথ শক্তিশালী ও অক্ষুণ্ণ। তবে মুদ্রার ওপর চাপ যতদিন স্থায়ী থাকবে, বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এর অবস্থানও পরিবর্তিত হতে থাকবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+