দোলুয়াখাকিতে কাউকেই ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ, আগুন লাগানোর অভিযোগে ধৃত ৩
দোলুয়াখাকিতে একের পর এক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে এসেছে একাধিক পরিবার। জয়নগরে তৃণমূলের পঞ্চায়েতের নেতা খুনের পর দোলুয়াখাঁকির গ্রামে হামলা চলেছিল। এত দিন পর এবার ঘটনায় গ্রেফতার হল। তিন জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
এদিকে দোলুয়াখাকির গ্রামে সোমবারও বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হল না। সোমবার সকালে অম্বিকেশ মহাপাত্র সহ সাতজনের একটি প্রতিনিধি দল দোলুয়াখাকি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মনসাতলার কাছে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। বহিরাগতদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এই কথা জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার দোলুয়াখাকি হাড়হিম করা ঘটনা হয়েছিল। জয়নগরে তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিন লস্করকে গুলি করে খুন করা হয়। কয়েক কিলোমিটার দূরে দোলুয়াখাকি এলাকায় সিপিএমের লোকজনদের বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ঘরছাড়া ছিলেন ওইসব পরিবার।
ঘটনার সাতদিন পর কিছুটা নড়েচড়ে উঠল পুলিশ। বাড়িতে আগুন ধরানোর ঘটনায় তদন্ত অবশেষে শুরু করে পুলিশ। তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হল। নজরুল মণ্ডল, আকবর ঢালি, আমানুল্লাহ জমাদার নামে তিন তৃণমূল কর্মী ররিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছে।
ওই এলাকা আগুন দিয়ে কার্যত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এলাকার মানুষজন কার্যত ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। বাচ্চাদের ছুঁড়ে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ফিরে এসেছিল বগটুই স্মৃতি। আর ঘটনার পর থেকে পুলিশ - প্রশাসনের মাধ্যমে ওই এলাকা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ।
পুলিশ প্রশাসন দোলুয়াখাকিতে বাইরের কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। সিপিএমের নেতারা বেশ কয়েকবার সেখানে যেতে চেয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এলাকায় ঢুকতেই দিচ্ছে না। মানুষজনের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। রবিবার বাম প্রতিনিধিদের একটি দল দোলুয়াখাকিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আইনজীবী ও সিপিএম যুব নেতা সৃজন বন্দ্যোপাধ্যায় দোলুয়াখাকিতে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাকেও ঢুকতে দেয়নি। এই অবস্থায় কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। কেন পুলিশ এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছে না? কী আড়াল করে রাখার চেষ্টা চলছে? সেই প্রশ্ন উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications