গেরুয়া শিবিরে বড় ভাঙন, মতুয়া গড়ে পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রাক্তন যুব মোর্চার সভাপতি-সহ শ'য়ে-শ'য়ে কর্মীর যোগদান
গেরুয়া শিবিরে বড় ভাঙন, মতুয়া গড়ে পঞ্চায়েত সদস্য এবং প্রাক্তন যুব মোর্চার সভাপতি-সহ শ'য়ে-শ'য়ে কর্মীর যোগদান
এখন আর কোনও বিধায়কের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান নয়, এখন চলছে গেরুয়া শিবিরের নিচু তলায় ভাঙন। কোথাও কর্মী-সমর্থকদের যোগদান তো, কোথাও পঞ্চায়েত সদস্যদের যোগদান। সেরকমই এক যোগদান পর্ব হল গাইঘাটায়। যেখানে পঞ্চায়েত সদস্য-সহ প্রাক্তন যুব মোর্চার সভাপতি যোগ দিলেন তৃণমূলে।

দলীয় কার্যালয় হাতছাড়া
গাইঘাটার ফুলসরা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অনুশ্রী দাস সাহা এবং চাঁদপাড়া বিজেপি যুব মোর্চার প্রাক্তন সভা তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলে যোগদান করেন প্রায় ৫০০ জন কর্মী সমর্থক, এমনটাই দাবি তৃণমূলের। এই যোগদানের জেরে ফুলসরার বিজেপির কার্যালয়টিও তৃণমূলের দখলে চলে গিয়েছে। দলবদলকারীদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি আলোরানি সরকার। ছিলেন গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোবিন্দ দাসও।

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে কাজে বাধা
দলত্যাগীদের অভিযোগ বিজেপিতে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিস্থিতি। সেই কারণেই দলত্যাগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের শরিক হতে চান তাঁরা, সেই কারণেই দলবদল।

গত কয়েকদিনে শ'য়ে-শ'য়ে বিজেপি কর্মীর যোগদান
গত কয়েকদিনে কখনও ভাটপাড়া-টিটাগড় আবার কখনও কল্যাণী-হরিণঘাটায় শ'য়ে-শ'য়ে বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলে যোগদান করেছেন। ব্যারাকপুর বিধানসভার অধীন টিটাগড়ে হাজার দুয়েক বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি। সেই তালিকায় রয়েছে নিহত বিজেপি নেতা মনীশ শুক্লার ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর বাবার নির্বাচনী এজেন্টও। দলবদলকারীদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন স্থানীয় দুই বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী এবং পার্থ ভৌমিক। এই যোগদানের ফলে দলের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি পুর নির্বাচনে বিজেপি শূন্য হয়ে পড়বে বলেও দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
নদিয়ার হরিণঘাটাতেও বিজেপিতে বড় ভাঙন। দলের স্থানীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক-সহ প্রায় ৭০০ বিজেপি এবং আইএসএফ কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
দিন কয়েক আগে নদিয়ার দক্ষিণ রানাঘাট সাংগঠনিক জেলায় প্রায় পনেরোশো বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

হুমকি দিয়ে দলবদল
যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় বিজেপি। তাদের অভিযোগ হুমকি দিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। সারা রাজ্যে তালিবানি শাসন চলছে বলেও অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। ধমকানি, চমকানি, পুলিশকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে দলবদল করানো হচ্ছে। বাঁচার জন্যই অনেক নেতা-কর্মী দল ছাড়বেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিজেপির তরফে।
গাইঘাটায় দলের কার্যালয় দখল করার অভিযোগও করা হয়েছে বিজেপির তরফে। যদিও তৃণমূলের তরফে পাল্টা দাবি, কোনও কার্যালয় দখল করা হয়নি। যেসব নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে ছিলেন, তাঁরা সবাই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। যা নিয়ে তৃণমূলের তরফে বিজেপিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications