Travel: চন্দননগর তো অনেকবার গিয়েছেন, ৫০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দির দেখেছেন কি?
নতুন বছরে কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায় তা নিয়ে অনেকেই পরিকল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছে। বছরের শেষেও একটি উইকেন্ডে পড়েছে। কাজেই বেড়াতে যাওয়ার আদর্শ সময়। ঘরের কাছেই রয়েছে এমন একটি অচেনা জায়গা যেখানে কম খরচেই পরিবারের সকলকে নিয়ে ঘুরে আসা যায়।
চন্দননগর তো আমরা সকলেই দেখেছিল। একদিকে জগদ্ধাত্রী পুজো আরেকডিকে পর্তুগিজ সভ্যতার নিদর্শণ বুকে করে দাঁড়িয়ে রয়েছে গঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন শহর চন্দননগর। এই চন্দনগরের পরিচিত জায়গা হলেও অনেকেই এর একটি জায়গার কথা জানেন না। সেই জায়গার বয়স প্রায় ৫০০ বছর।

তখন চন্দননগরের নাম হয়তো চন্দননগরও হয়নি সেই সময়ে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। যাকে বলা হয় বোড়াই চণ্ডীতলা। শোনা যায় এই চণ্ডী নাম থেকেই নাকি চন্দননগর নামের উৎপত্তি। যদিও এই নামের উৎস নিয়ে অনেক মতোভেদ রয়েছে। কেউ বলেন আগে এই জায়গার নাম ছিল চণ্ডী নগর সেখান থেকে লোকমুখের অপভ্রংশে চন্দননগর নাম হয়েছে।
আবার কেউ বলেন এখানে নাকি চন্দন কাঠের বাণিজ্য হতো, তাই নাম হয়েছে চন্দননগর। জনশ্রুতি আছে আগে গঙ্গা নদী এখানে চন্দ্রাকার ছিল সেই থেকে থেকে প্রথমে চন্দ্রনগর তারপর অপভ্রংশ হয়ে চন্দননগর নাম হয়েছে। তবে একটা সময়ে এই জায়গার নাম যে ফরাসডাঙা ছিল সেটা সকলেই জানেন। ফরাসীরা থাকত বলে বলা হতো ফরাসডাঙা।
বাংলা সাহিত্যের বিপ্রদাস পিপলাই রচিত মনসামঙ্গল কাব্যেও কিন্তু চন্দননগরের অন্তর্গত 'বোড়ো'র উল্লেখ আছে। প্রায় ৫০০ বছর ধরে মা বোড়াই চণ্ডী পুজিত হয়ে আসছেন এই মন্দিরে। মা দুর্গা রূপেই পুজিত হন তিনি। এই মন্দিরের পাশ দিয়ে নাকি গঙ্গা বয়ে যেত। কথিত আছে শ্রীমন্ত সওদাগর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মা বোড়াইচন্ডীর মন্দির। সিংহলে আটক পিতাকে মুক্ত করার জন্য শ্ৰীমন্ত সওদাগর বোড়াইচণ্ডীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
জোড়বাংলা স্থাপত্য শৈলিতে তৈরি হয়েছে মন্দিরটি। গর্ভগৃহে চতুর্ভুজা মা বোড়াইচণ্ডী নিমকাঠের তৈরি। তবে অষ্টধাতুর পাত দিয়ে মোড়া। তাঁর চারহাতে শঙ্খ, চক্র, পদ্ম ও ত্রিশূল। পাথরের বোড়াইচণ্ডী মূর্তিটি মন্দিরে সংরক্ষিত আছে। আট ঘর সেবায়েতরা পালা করে মায়ের সেবাকার্য পরিচালনা করেন। মায়ের সামনে দেবাদিদেব মহাদেব অধিষ্ঠান করছেন। মায়ের মন্দিরের প্রবেশপথে বড় নাট মন্দির।
প্রতিবছর চৈত্র মাসের নীল পুজা ও চড়কে বড় উৎসব হয়। দুর্গাপুজার চারদিনও ধুমধাম করে পুজা হয়। ছয়টা থেকে দুপুর দুটো এবং বিকেলে চারটে থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে মন্দির। চন্দননগর স্টেশন থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার হয়ে পৌঁছতে হয় বোড়াইচন্ডী তলা।












Click it and Unblock the Notifications