Travel: উত্তরবঙ্গের উটি, চলে আসুন লাভার কাছে এই অফবিট ডেস্টিনেশনে

উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় পিকনিক স্পট ডালিম খোলা। কিন্তু অনেকেই এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব জানেন না। এখানে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এই ডালিমখোলাতেই রয়েছে ডালিম ফোর্ট বা লেপচা দুর্গ। এখানে নাকি শাসন করতেন লেপচা রাজা গেইবো আচিওক।

েলপচা শাসনের প্রধান প্রশাসনিক রাজধানী ছিল এই ডালিম ফোর্ট। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বেয়ে উঠে গিয়েছে এই রাস্তা। কখনও বন্ধুর হবে কখনও সমতল। শেষ পর্যন্ত গাড়ি যায় না। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দুর্গ। শেষ পর্যন্ত গাড়ি যায় না। শেষ ২০০ থেকে ২৫০ মিটার হেঁটে যেতে হয়।

Fagu

এই ডালিম ফোর্টের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লেপচা ইতিহাস। যেটা খুব একটা জানে না। ১৬৮৪ সালের ইতিহাস। পরাক্রমি রাজা ছিলেন গেইবো আচিওক। ভুটানের দুকপা রাজা তখন এই লেপচা চাম্প্রাজ্য দখল করতে মরিয়া. কালিম্পং লাভা জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছিল তাঁর সাম্প্রাজ্য।

এই রাজাই ভুটানিদের প্রতিহত করতে একাধিক দুর্গ তৈরি করতেন। শোনা যায় এই লেপচা রাজা নাকি কালাজাদু জানতেন। অর্থাৎ তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে শত্রুকে নাকি পরাস্ত করতে পারতেন তিনি। এই দুর্গের উপর থেকে অসাধারণ ভিউ দেখা যায়। লাভা যাওয়ার রাস্তাও দেখা যায় এখান থেকে। এই রাজার তৈরি তামছাং ফোর্টও অসাধারণ যেটা রয়েছে পেডংয়ে।

ভুটানের রাজা তামছাং ফোর্টে হামলা চালালে তিনি সপরিবারে এসে হাজির হন ডালিম ফোর্টে। শেষে ভুটানের রাজা শান্তি প্রস্তাব পাঠান একটি শান্তি পত্র পাঠান। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েই ভুটানের রাজাকে ডালিম ফোর্টে আমন্ত্রণ জানান তিনি। কিন্তু সেই প্রস্তাবের নেপথ্যে যে ছিল প্রতারণার ছক সেটা বুঝতে পারেননি।

জন্মদিনের উৎসবে যখন মশগুল সকলে মদ্যপানে হুঁশ হারিয়েছেন রাজাও সেসময় ভুটােনর রাজা তরোবারি দিয়ে লেপচা রাজার মুণ্ডচ্ছেদ করে হত্যা করেন। সেই কাটা মুন্ডু ফেলে দেওয়া হয় চেল নদীতে। রানিও এই দু্র্গ থেকে ঝাঁপ দেন চেল নদীতে। পরে ব্রিটিশরা এই দুর্গটি পুনরুদ্ধার করে ভুটানের কাছ থেকে। লেপচারা কিন্তু এখনও এখানে পুজো দেন।

শোনা যায় লেপচা রাজার রানি নাকি দামসাং ফোর্ট এবং ডালিম ফোর্টে প্রচুর গয়না মণি মাণিক্য লুকিয়ে রেখে গিয়েছিলেন। এই গুপ্তধনের সন্ধানে নাকি ব্রিটিশরা অনেকবার এই দুটি ফোর্টে কামান দেগেছেন কিন্তু কিছুই পানি উল্টে দুর্গগুলির ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই দুর্গদুটিকে হেরিটেজ তকমা দিয়েছে।

শোনা যায় ভুটানিরা নাকি আজও চেল নদী পার হওয়ার সময় তাঁদের রাজার বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মাথার টুপি খুলে হাঁটু গেরে বসে ক্ষমা চায়। এখনও প্রতিবছর এই ডালিম ফোর্টে রাজার সম্মানে উৎসব হয়ে থাকে। লেপচারা এসে গানবাজনা করেন। এই দুর্গের কাছেই আবার রয়েছে ডালিমতার ভিউ পয়েন্ট। এখানে হোমস্টেও রয়েছে থাকার জন্য। এখান থেকে পাহাড়ে সূর্যাস্তের ভিউ অসাধারণ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+