অসমের প্রতিযোগীকে মোমো–চাইনিজ বলে ডাক, সঞ্চালক রাঘবের বিরুদ্ধে বর্ণ বিদ্বেষের অভিযোগ
সঞ্চালক রাঘবের বিরুদ্ধে বর্ণ বিদ্বেষের অভিযোগ
ডান্স রিয়্যালিটি শো 'ডান্স দিওয়ানে ৩’–তে ছয় বছরের এক প্রতিযোগীকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার দরুণ সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের রোষের মুখে পড়তে হল এই শোয়ের সঞ্চালক রাঘব জুয়ালকে। শুধু নেটিজেনরাই নয়, এ ধরনের মন্তব্য করার জন্য রাঘবের তীব্র নিন্দায় সরব হন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল হওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটি ছোট্ট ভিডিও ইনস্টাগ্রামে আপলোড করেন রাঘব, যেখানে তিনি নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন।

অসমের প্রতিযোগীকে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য
উত্তরপূর্ব ভারতের এক প্রতিযোগীকে মঞ্চে ডাকার সময় রাঘব 'মোমো', 'চাউমিন' শব্দ ব্যবহার করার পাশাপাশি 'চিনা ভাষা নিয়ে বিদ্রুপ'ও করেন। যদিও সঞ্চালক রাঘব জানিয়েছেন যে এই বিষয়টিকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ডান্স রিয়্যালিটি শো-এর ক্লিপিংসে রাঘব অসমের ওই খুদে প্রতিযোগীকে মঞ্চে ডাকার সময় জানিয়েছেন যে সে চিনা ভাষায় উদ্ভটভাবে কথা বলে এবং বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করে।
|
কি বলছেন শোয়ের সঞ্চালক
কিন্তু রাঘবের মতে প্রেক্ষাপটের পরিস্থিতি আগে বোঝা প্রয়োজন এবং তাঁর দাবি, শোতে গুঞ্জন (প্রতিযোগী) নিজেই জানিয়েছিল সে চাইনিজ ভাষায় কথা বলতে পারে। আর পুরো শো-তে এই নিয়ে তার সঙ্গে মজাও করা হত। তাই এটা শোয়ের মধ্যেকার নিছকই মজা। রাঘব এও জানিয়েছেন যে তাঁরা সকলে গুঞ্জনকে চাইনিজ ভাষায় কথা বলার জন্য বলতেন এবং গুঞ্জন কিছু উদ্ভট ভাষায় কথা বলে দাবি করতে যে এটা চাইনিজ ভাষা। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে রাঘব এ প্রসঙ্গে বলেন, 'অনুষ্ঠানের শেষের দিকে, আমি একটি পর্বে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একইভাবে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এটা শোয়ের ভেতরকার মজা এবং শুধুমাত্র একটা ক্লিপিংসের ভিত্তিতে কেউ আমাদের এভাবে বিচার করতে পারেন না।'
ক্ষমা চেয়েছেন রাঘব
রাঘব এও জানিয়েছেন যে তাঁকে বর্ণবাদী বলার দরুণ তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। রাঘবের পরিবারও এই ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছে। রাঘব উত্তরপূর্ব ভারতের মানুষের আবেগে আঘাত দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরও উত্তরপূর্ব ভারতে বন্ধু ও পরিবার রয়েছে এবং তাঁর কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। ইনস্টাগ্রামে রাঘব একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, 'মার অনেক বন্ধু-পরিবার থাকে নাগাল্যান্ড অসমে। আমি বা কালার্স চ্যানেল ইচ্ছে করে ভাবাবেগে আঘাত করতে চাইনি। তবে কারও খারাপ লাগলে ক্ষমা চাইছি।'

অসমের মুখ্যমন্ত্রী সরব
এই ঘটনা নিয়ে টুইটারে অসমের মুখ্যমন্ত্রী রাঘবের তীব্র নিন্দা করেন এবং জানান যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাঘব যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে তাঁর বিবৃতি জারি করেন তখন একাধিক নেটিজেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কালার্স চ্যানেল, রাঘব, মাধুরী, রেমোদের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সকলে। ২০২১ সালে দাঁড়িয়ে হাসির খোরাক বানানো হয় নর্থ ইন্ডিয়ার মানুষদের, এরকমই পোস্ট চোখে পড়েছে সব জায়গায়। অনেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দিয়ে ফেলেছেন।












Click it and Unblock the Notifications