নওশাদ এফেক্ট! মমতার সিদ্ধান্তেই ফুরফুরা শরিফ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে সরানো হল ফিরহাদকে
সংখ্যালঘু ইস্যুতে ক্রমশ চাপ বাড়ছে তৃণমূলের। বিশেষ করে লোকসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুরা মুখ ঘোরাতে শুরু করেছে। আর সেটাই চাপের হিওয়ে উঠেছে শাসকদলের কাছে
ফুরফুরা শরিফ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল ফিরহাদ হাকিমকে। বিধায়ক তপন দাসগুপ্ত এবার থেকে সেই দায়িত্ব সামলাবেন। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নবান্নের তরফে জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর এই দায়িত্ব পাওয়ার পরেই আগামকীকাল বুধবার ফুরফরা শরিফ যাচ্ছেন হুগলির এই বিধায়ক। শুধু তাই নয়, সেখানে থাকা দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গেও বৈঠকও করার কথা আছে তাঁর।

হঠাত কেন সরলেন ফিরহাদ?
আর এই বৈঠক ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও জানা যাচ্ছে, মজুলত ফুরফুর শরিফের কি সমস্যা আছে তা জানতেই বিধায়কের এই যাত্রা। তবে হঠাত করে ফিরহাদ হাকিমকে কেন সরিয়ে দেওয়া হল তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও একটি সূত্র জানাচ্ছে, অনেক দিন আগেই নাকি ফুরফুরা শরিফ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন ফিরহাদ। গত দু তারিখ এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেতপন দাসগুপ্তকে ওই পদে বসানো হয়। শুধু তাই নয়, হুগলিতে গিয়ে ফিরহাদের পক্ষে ফুরফুরা শরিফের কাজ দেখা সবসময় সম্ভব হচ্ছিল না। সেটাও একটি কারণ বলে দাবি করা হচ্ছে।

ফুরফুরা শরিফের একটা অংশ রাজ্য সরকারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ
নওসাদ ইস্যুতে চাপ বেড়েছে সরকারের। ফুরফুরা শরিফের একটা অংশ রাজ্য সরকারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে যেভাবে দিনের পর দিন নওসাদকে আটকে রাখা হয়েছে তাতে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। শুধু তাই নয়, শুধুমাত্র একটু বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অন্তত ৮৮ জনকে আইএসএফ কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়তে হয় কলকাতা পুলিশকে। ঘটনার প্রায় ৪২ দিন পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জেল মুক্তি হয়েছে নওসাদ সহ ৮৮ আইএসএফ কর্মীর। মুক্তি মিলতেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন আইএসএফ বিধায়ক।

নওসাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও ফিরতে হয় খালি হাতে
আর এরপরেই নওশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ছুটে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। কার্যত খালি হাতেই তাঁকেই ফিরতে হয়। আর এই ঘটনা যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে তাঁর আঁচ পেয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সম্প্রতি সাগরদিঘি উপ নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। আর এরপর থেকে রাজ্য-রাজনীতিতে জল্পনা তাহলে কি এবার সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে।

নড়েচড়ে বসেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এই অবস্থায় যদিও নড়েচড়ে বসেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে পাঁচজনকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেছেন। যারা মূলত অনুসন্ধান চালাবেন আদৌও সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কেন তাঁদের ক্ষোভ সেই বিষয়টি নিয়েও মূলত তাঁরা খতিয়ে দেখবেন। আর সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন তাঁরা। আর এর মধ্যেই ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হল ফিরহাদ হাকিমকে। জানা যাচ্ছে, ফুরফুরা শরিফ জুড়ে উন্নয়নকেই হাতিয়ার করতে চান রাজ্য প্রশাসন। আর তাই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications