ইস্টবেঙ্গল আইএসএল চ্যাম্পিয়ন, দীর্ঘদিনের ট্রফির খরা কাটিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড জ্বালাল মশাল
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। এদিন এক নাটকীয় ফাইনালে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড ভারতের সেরা লিগ চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করল। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়েন এবং নিজেদের কাঁধে করে ফুটবলারদের রাজার মর্যাদায় মাঠ ছাড়ার দৃশ্য তৈরি হয়। স্টেডিয়াম তখন শুধু মশালের আলোয় উদ্ভাসিত।
খেলার শুরু থেকেই চাপ ছিল ইস্টবেঙ্গলের উপর। ম্যাচের ১৪ মিনিটেই আলফ্রেডের গোলে ইন্টার কাশী ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল, মাঝমাঠ ছিল ছন্নছাড়া এবং আক্রমণে সেভাবে ধার ছিল না। বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগও নষ্ট হয় লাল-হলুদ শিবিরের জন্য, যা অস্কার ব্রুজোর দলের জন্য ম্যাচ জেতা অসম্ভব মনে হয়েছিল।

তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় ইস্টবেঙ্গল। ৪৯ মিনিটে ইউসেফ মাঝমাঠ থেকে আনোয়ারের ভাসানো বলে ইন্টার কাশীর অফসাইড ফাঁদকে বোকা বানিয়ে গোল করেন। তিনি প্রথমে কাশীর গোলকিপার শুভম ও আর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে সমতা ফেরান। খেলার ফলাফল তখন ১-১।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান মহম্মদ রশিদ। এই গোলের সুবাদে ইস্টবেঙ্গল ২-১ গোলে এগিয়ে যায়। চ্যাম্পিয়ন খেতাবের জন্য তখন আর মাত্র ১৫ মিনিটের অপেক্ষা ছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের।
এর আগে ইন্টার কাশী বেশ কয়েকটি বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্যবধান বাড়ানোর। প্রথমার্ধে আলফ্রেড একাধিক জোরালো শট নিলেও ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন গিল দারুণ সেভে দলের পতন রক্ষা করেন। হাওবামের মতো খেলোয়াড়রাও গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন, যা ইস্টবেঙ্গলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়।
নব্বই মিনিটের খেলার শেষ দিকেও উত্তেজনা ছিল চরমে। মিগুয়েলের জোরালো শট দারুণভাবে রুখে দেন ইন্টার কাশীর গোলকিপার। লিগ শীর্ষে থাকার জন্য ইস্টবেঙ্গলের এই ম্যাচে জয় অপরিহার্য ছিল, যদিও অন্য ম্যাচের ফলাফলের ওপরও তাদের ভাগ্য নির্ভর করছিল।
এই ম্যাচ জিতলেই ইস্টবেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন, এই সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমেছিল অস্কারের দল। ১৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাদেরই জয় হয়। ২২ বছর পর ভারতের সেরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হল লাল-হলুদ ব্রিগেড।












Click it and Unblock the Notifications